img

টাওয়ার হ্যামলেটসে শিশুদের জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী আর্লি হেল্প স্ট্র্যাটেজি চালু

প্রকাশিত :  ০৮:৫২, ০৪ অক্টোবর ২০২৫

গর্ভাবস্থা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত পরিবারকে সহায়তা

টাওয়ার হ্যামলেটসে শিশুদের জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী আর্লি হেল্প স্ট্র্যাটেজি চালু

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ২০২৫–২০২৮ সালের জন্য তাদের নতুন আর্লি হেল্প স্ট্র্যাটেজি চালু করেছে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো: প্রতিটি শিশু, তরুণ এবং পরিবার যেন উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করা।

বুধবার, ১ অক্টোবর মিথ গার্ডেনস ফ্যামিলি হাবে আয়োজিত এক কমিউনিটি ইভেন্টে এই স্ট্র্যাটেজি বা কৌশলটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। এ অনুষ্ঠানে পরিবার, পেশাজীবী এবং অংশীদাররা একত্রিত হয়ে শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য যৌথ প্রতিশ্রুতি উদযাপন করেন।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় টাওয়ার হ্যামলেটস-এর নির্বাহী মেয়র বলেন: “এই কৌশল টাওয়ার হ্যামলেটস-এর প্রতিটি শিশুর জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমরা জানি, যত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তত বেশি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আর্লি হেল্প মানে হলো সমস্যা বড় হওয়ার আগেই হস্তক্ষেপ করা এবং পরিবারকে সঠিক সময়ে সঠিক সহায়তা দেওয়া, যাতে কেউ পিছিয়ে না পড়ে।টাওয়ার হ্যামলেটস দেশের সবচেয়ে তরুণ ও বৈচিত্র্যময় বারাগুলোর একটি-এটাই আমাদের শক্তি। এই কৌশল আমাদের কমিউনিটিরই প্রতিফলন\"

তিনি বলেন, \'আমরা গর্বিত যে এ বছর অফস্টেড টাওয়ার হ্যামলেটস-এর আর্লি হেল্প সার্ভিসকে একটি শক্তিশালী দিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এখানেই আমরা থেমে থাকছি না। এটি কেবল একটি কাউন্সিল পরিকল্পনা নয়; এটি গোটা কমিউনিটির প্রতিশ্রুতি। পরিবার, স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও অন্যান্য অংশীদারদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে, যাতে আমাদের শিশুরা বিকশিত হতে পারে।”

স্ট্র্যাটেজির মূল নীতিমালা:

- সম্পূর্ণ পরিবারকে সহায়তা করা,

- প্রতিটি যোগাযোগকে মূল্যবান করে তোলা।

- সমন্বিত, সহজলভ্য ও সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল সেবা প্রদান করা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একজন অভিভাবক ও একজন তরুণ তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। এসময় ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইযুম তালুকদার সহ কাউন্সিলের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইযুম তালুকদার বলেন, “আমাদের পার্টনারশিপ সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত। শিশু, তরুণ এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কাছে শিশুরা ও তাদের অভিভাবকেরা অমূল্য। এই কৌশল অনুসরণ করে আমরা আরও ভালোভাবে কীভাবে কাজ করা যায় তা নিশ্চিত করব।”

সাপোর্টিং ফ্যামিলিজ-এর পরিচালক সুজানাহ বিসলি-মারে বলেন, “আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, যাতে আপনি সহজেই সিস্টেম সম্পর্কে জানতে পারেন এবং সঠিক ব্যক্তির কাছ থেকে সহায়তা পান। এই পরিকল্পনা গড়ে উঠেছে শিশু ও অভিভাবকদের কণ্ঠ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, কারণ তারাই সবচেয়ে ভালো জানেন, তাদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।”

আর্লি হেল্প অ্যান্ড চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসের প্রধান মোহাম্মদ আব্দুল জলিল বলেন, “প্রত্যেক পরিবার জীবনে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। বেশিরভাগ সময় সেই চ্যালেঞ্জে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুরা পাশে থাকে। তবে কখনও কখনও অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হয়—সেই সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। আর্লি হেল্পের উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী ও অংশীদারদের একত্রিত করা, যাতে সঠিক সময়ে সঠিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায় এবং পরিবারগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারে।”



কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ওল্ডহ্যাম ল’ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি প্রেসিডেন্ট হয়ে ইতিহাস গড়লেন মোহাম্মদ আলী হুসাইন

প্রকাশিত :  ১৭:১৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬

​ওল্ডহ্যাম, গ্রেটার ম্যানচেস্টার: ওল্ডহ্যাম ল’ অ্যাসোসিয়েশনের ১০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন কনভেয়ান্সিং বিশেষজ্ঞ লিগ্যাল এক্সিকিউটিভ (CILEX) মোহাম্মদ আলী হুসাইন। সম্প্রতি তাঁর সহকর্মীদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন।

​মোহাম্মদ আলী হুসাইনের এই নিয়োগ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার সিঙ্গেরকাছ গ্রামে জন্মগ্রহণকারী জনাব হুসাইন তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং পেশাগত উৎকর্ষতার জন্য আইন অঙ্গনে দীর্ঘকাল ধরে প্রশংসিত। ওল্ডহ্যামের আইনি ইতিহাসে তাঁর এই অবস্থান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সমগ্র ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয়।

​বর্তমানে পরিবারসহ ওল্ডহ্যামের স্থায়ী বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হুসাইন দীর্ঘ সময় ধরে আইন পেশায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর সহকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ওল্ডহ্যাম ল’ অ্যাসোসিয়েশন আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে।

​অনুভূতি ব্যক্ত করে মোহাম্মদ আলী হুসাইন বলেন, এই দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। আমি আমার সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি পেশাগত মান উন্নয়ন এবং আমাদের কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে কাজ করে যেতে চাই।

​এই ঐতিহাসিক অর্জন আগামী প্রজন্মের ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং প্রমাণ করে যে কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা থাকলে যেকোনো শীর্ষস্থানে পৌঁছানো সম্ভব।

কমিউনিটি এর আরও খবর