img

শিশু ও পরিবারের উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে টাওয়ার হ্যামলেটসে অনুষ্ঠিত হলো ফ্যামিলি জাস্টিস কনফারেন্স

প্রকাশিত :  ০৭:০৪, ০৩ নভেম্বর ২০২৫

শিশু ও পরিবারের উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে টাওয়ার হ্যামলেটসে অনুষ্ঠিত হলো ফ্যামিলি জাস্টিস কনফারেন্স
ক্যাপশন : স্যার অ্যান্ড্রু ম্যাকফারলেন কনফারেন্সে বক্তব্য দিচ্ছেন
ক্যাপশন : স্যার অ্যান্ড্রু ম্যাকফারলেন কনফারেন্সে বক্তব্য দিচ্ছেন

টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে অনুষ্ঠিত হল পূর্ব লন্ডন ফ্যামিলি জাস্টিস বোর্ড (ইএলএফজেবি)-এর বার্ষিক কনফারেন্স, যেখানে অংশ নেন ৩০০-রও বেশি পরিবার ও শিশু সেবার পেশাজীবী। কনফারেন্সের প্রধান লক্ষ্য ছিল, ঝুঁকিতে থাকা শিশু ও পরিবারকে আরও ভালো সহায়তা প্রদান এবং বহুসংস্থা একসঙ্গে কাজ করলে কিভাবে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা।কিনশিপ কেয়ার উইক উপলক্ষে আয়োজিত এই কনফারেন্সে বিচারক, সোশ্যাল ওয়ার্কার, আইন বিশেষজ্ঞ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ বিভিন্ন সেবার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইস্ট লন্ডনের ডেজিগনেটেড  ফ্যামিলি জাজ ক্যারোল অ্যাটকিনসন। তিনি বলেন, “এই বছরের ইস্ট লন্ডন লোকাল ফ্যামিলি জাস্টিস বোর্ড কনফারেন্স আবারও এক অসাধারণ সফলতা। বোর্ডের সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম ও সহায়তা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, “আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কাছে, যারা আমাদের এমন একটি দুর্দান্ত ভেন্যু দিয়েছে। টাউন হলটি ব্যস্ত এবং বৈচিত্র্যময় কমিউনিটির মাঝে অবস্থিত। এটি এমন একটি অনুপ্রেরণাদায়ক জায়গা যেখানে এই কাজে নিবেদিত মানুষরা একত্রিত হয়ে ভাবনা শেয়ার করতে পারে।ফ্যামিলি ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট স্যার অ্যান্ড্রু ম্যাকফারলেন সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “ইএলএফজেবি-এর প্রাণশক্তি সবার চোখে স্পষ্ট। পরিবারিক বিচার কোনো একক সংস্থার কাজ নয় – বিভিন্ন সংস্থার একসঙ্গে কাজ করার ওপরই এটি নির্ভর করে। আমাদের লক্ষ্য হলো মামলাগুলো এগিয়ে নেওয়া এবং শিশুদের জন্য সঠিক কাজটি করা।তিনি আরও বলেন, “শুধুমাত্র বোর্ড পর্যায়ে এবং এ ধরনের কনফারেন্সে একত্রিত হওয়ার মাধ্যমেই আমরা যৌথ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারি এবং নিশ্চিত হতে পারি – আমরা একসাথে কাজ করলে ফলাফল আরও ভালো হয়।টাওয়ার হ্যামলেটসের ডেপুটি মেয়র এবং এডুকেশন, ইয়ুথ এন্ড লাইফলং লার্নিং বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার মাইয়ুম তালুকদার বলেন, “ইস্ট লন্ডন ফ্যামিলি জাস্টিস বোর্ড কনফারেন্স এক শক্তিশালী উদাহরণ যে কীভাবে নিবেদিত পেশাজীবীরা জ্ঞান ভাগাভাগির মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে পারেন।তিনি আরও যোগ করেন,টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের আয়োজক ও সহ-স্পন্সর হতে পেরে গর্বিত। এটি শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎ উন্নত করতে আমাদের গভীর প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে।

চারটি বিশেষজ্ঞ আলোচনাপ্যানেলে যে বিষয়ে বক্তারা উপস্থাপন করেন, সেগুলো হলো:

* অভিভাবকবিহীন আশ্রয়প্রার্থী শিশুদের সুরক্ষা

* পারিবারিক সম্পর্কের প্রজন্মগত ধারা নিয়ে গবেষণা

* কৈশোরে মস্তিষ্কের বিকাশ

* পরিবেশগত ঝুঁকি ও শিশু সুরক্ষা

এছাড়া ‘ব্রেকিং দ্যা সাইকেল’ শীর্ষক বক্তব্যে সোফি হামফ্রেইস ওবিই ঝুঁকিপূর্ণ তরুণদের সহায়তার প্রচলিত পদ্ধতি নতুনভাবে ভাবতে অংশগ্রহণকারীদের আহ্বান জানান।

কনফারেন্সের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এক্সপ্লইটেশন সার্ভিস – যা বহু সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত একটি টিম। এটি পুলিশের সঙ্গে কাজ করে অপরাধমূলক ও যৌন শোষণ প্রতিরোধ, গুরুতর যুব সহিংসতা মোকাবিলা এবং গ্যাং সংশ্লিষ্টতা কমাতে। এই মডেলকে যুক্তরাজ্যের অন্যতম সেরা প্র্যাকটিস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।এ সেবার পক্ষ থেকে আলোচনা করেন গ্রুপ ম্যানেজার গুরসেল বেকসান এবং স্পেশালিস্ট এজ অ্যাসেসর এনিয়োলা ওনিগবানো। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহনিন ডেভিস, ন্যাশনাল কিনশিপ কেয়ার অ্যাম্বাসেডর (ডিপার্টমেন্ট ফর এডুকেশন)।কনফারেন্সটি আয়োজন করেন ইএলএফজেবি-এর যৌথ চেয়ার ভিক্টোরিয়া রবার্টস, ডেবোরা পিকোস এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের কোর্ট ওয়ার্ক ম্যানেজার সুনীল স্কারিয়া।সম্মেলনের সারসংক্ষেপ ছিল – শিশু ও পরিবারের উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বহু সংস্থার সমন্বয়, জ্ঞান ভাগাভাগি এবং সহযোগিতার বিকল্প নেই।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ওল্ডহ্যাম ল’ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি প্রেসিডেন্ট হয়ে ইতিহাস গড়লেন মোহাম্মদ আলী হুসাইন

প্রকাশিত :  ১৭:১৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ক্যাপশন : স্যার অ্যান্ড্রু ম্যাকফারলেন কনফারেন্সে বক্তব্য দিচ্ছেন

​ওল্ডহ্যাম, গ্রেটার ম্যানচেস্টার: ওল্ডহ্যাম ল’ অ্যাসোসিয়েশনের ১০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন কনভেয়ান্সিং বিশেষজ্ঞ লিগ্যাল এক্সিকিউটিভ (CILEX) মোহাম্মদ আলী হুসাইন। সম্প্রতি তাঁর সহকর্মীদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন।

​মোহাম্মদ আলী হুসাইনের এই নিয়োগ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার সিঙ্গেরকাছ গ্রামে জন্মগ্রহণকারী জনাব হুসাইন তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং পেশাগত উৎকর্ষতার জন্য আইন অঙ্গনে দীর্ঘকাল ধরে প্রশংসিত। ওল্ডহ্যামের আইনি ইতিহাসে তাঁর এই অবস্থান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সমগ্র ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয়।

​বর্তমানে পরিবারসহ ওল্ডহ্যামের স্থায়ী বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হুসাইন দীর্ঘ সময় ধরে আইন পেশায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর সহকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ওল্ডহ্যাম ল’ অ্যাসোসিয়েশন আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে।

​অনুভূতি ব্যক্ত করে মোহাম্মদ আলী হুসাইন বলেন, এই দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। আমি আমার সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি পেশাগত মান উন্নয়ন এবং আমাদের কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে কাজ করে যেতে চাই।

​এই ঐতিহাসিক অর্জন আগামী প্রজন্মের ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং প্রমাণ করে যে কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা থাকলে যেকোনো শীর্ষস্থানে পৌঁছানো সম্ভব।

কমিউনিটি এর আরও খবর