img

মোবাইলের কিস্তির ৫০০ টাকা নিয়ে অপমান, বিষপানে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৯:১৮, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

 মোবাইলের কিস্তির ৫০০ টাকা নিয়ে অপমান, বিষপানে যুবকের মৃত্যু

মাত্র ৫০০ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় মানসিক চাপে পড়ে বিষপানে জয় মহাপাত্র (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জয় উপজেলার ভাঙাডহর গ্রামের লিটন মহাপাত্রের ছেলে।

নিহতের পিসতুতো ভাই অয়ন দাস জানান, জয় বোরহানপুর গ্রামের মদরিস মিয়ার ছেলে ও মুদি দোকানদার আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় একটি মোবাইল ফোন কেনেন। চুক্তি অনুযায়ী তিনি নগদ দুই হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি টাকা প্রতি সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও শেষ কিস্তির ৫০০ টাকা দিতে কিছুটা দেরি হয়।

অয়ন দাসের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা দিতে জয় আমিরুল ইসলামের দোকানে গেলে সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং ব্যবহৃত মোবাইলটি কেড়ে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে অপমানজনক কথাবার্তা বলা হয় বলেও পরিবারের দাবি। পরে জয় ওই দোকান থেকেই ইঁদুর মারার বিষ কিনে বাড়ি ফিরে যান।

রাত সাড়ে সাতটার দিকে জয় বিষপান করার কথা স্বীকার করলে দ্রুত তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মনি রানী তালুকদার বলেন, “রোগীর অবস্থা তখনই সংকটাপন্ন ছিল। তাই দ্রুত সিলেটে রেফার করা হয়।”

নিহতের স্বজন বাদল দাস জানান, খবর পেয়ে তিনি সিলেটে যান। কতোয়ালি থানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।

জয়ের কাকা মিটু মহাপাত্র বলেন, “আমরা সিলেটে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে জয়ের বাবার সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দোকানদার আমিরুল ইসলাম বলেন, জয়ের কাছে তার মোবাইল বাবদ দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং ফ্লেক্সিলোডের ৩০০ টাকা পাওনা ছিল। টাকা দিতে না পারায় তিনি শুধু মোবাইলটি ফেরত দিতে বলেছিলেন। ইঁদুর মারার বিষ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি। আমিরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, জয় বিষ চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরে জয় দিরাই চলে যান।

অন্যদিকে নিহতের মা শেলী মহাপাত্র অভিযোগ করে বলেন, সকালে টাকা চাইলে না পেয়ে দোকানদার তার ছেলের মোবাইল রেখে দেন। পরে সিম কার্ড আনতে গেলে সন্ধ্যায় আসতে বলা হয়। সন্ধ্যায় গেলে তার ছেলেকে চর-থাপ্পড় মারা হয়। তার দাবি, সেদিন ওই দোকান থেকেই বিষ খেয়ে বাড়ি ফিরেছিল জয়।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

রাতের আঁধারে পাইপ বেয়ে চারতলায়, শ্রীমঙ্গলের বাসায় ধরা দিল বিরল লজ্জাবতী বানর

প্রকাশিত :  ০৯:১৯, ২০ মে ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: নিঝুম রাত। সবাই যখন ঘুমের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই শ্রীমঙ্গলের একটি চারতলা ভবনের বাসায় দেখা মিলল অদ্ভুত এক অতিথির। প্রথমে কেউ বুঝতে পারেননি প্রাণীটি কী। পরে ভালোভাবে দেখে চমকে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা— সেটি ছিল বিরল প্রজাতির একটি লজ্জাবতী বানর।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও চৌমুহনা এলাকার বাসিন্দা সফেদ মিয়ার ভবন থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসার ভেতরে হঠাৎ অস্বাভাবিক নড়াচড়া টের পান তারা। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর চোখে পড়ে বড় বড় চোখের শান্ত স্বভাবের একটি প্রাণী। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি একটি লজ্জাবতী বানর।

ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী কাজী গোলাম কিবরিয়া জুয়েলকে জানানো হলে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্কতার সঙ্গে প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন।

উদ্ধারকারীদের ধারণা, রাতের আঁধারে ভবনের সেনেটারি পাইপ বেয়ে উপরে উঠে বাসার ভেতরে ঢুকে পড়ে প্রাণীটি। পরে সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, লজ্জাবতী বানর অত্যন্ত শান্ত ও নিশাচর প্রাণী। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস এবং খাদ্য সংকটের কারণে এসব প্রাণী এখন মাঝেমধ্যে লোকালয়ে চলে আসছে। সাধারণত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হবিগঞ্জের সাতছড়ি ও রেমা-কেলেঙ্গা বনাঞ্চলে এদের বিচরণ দেখা যায়।

প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে এমন বিরল প্রাণীর উপস্থিতি যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আবার সামনে এনে দিয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর