img

ঢাকায় ভোটের নিরাপত্তায় থাকবে ২৫ হাজার পুলিশ

প্রকাশিত :  ০৬:৩৫, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫২, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকায় ভোটের নিরাপত্তায় থাকবে ২৫ হাজার পুলিশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ঢাকা মহানগরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবেন প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য। ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারিতে ঢাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হচ্ছে কন্ট্রোল রুম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় রাজধানীর ভোটকেন্দ্রগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র। এর মধ্যে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ১ হাজার ৮২৮টি এবং সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৩০৩টি। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ তিনজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবেন অস্ত্রসহ দুজন পুলিশ সদস্য। আর কোনো একটি ভেন্যুতে একাধিক কেন্দ্র থাকলে সেখানে পাঁচজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রতিটি পুলিশ সদস্যের কাছেই থাকবে আগ্নেয়াস্ত্র।

পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আনসার সদস্যরাও। কেন্দ্রপ্রতি ১০ জন আনসার সদস্য ও সহকারী সেকশন কমান্ডার পদমর্যাদার একজন আনসার সদস্য অস্ত্রসহ দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় থাকবেন আরও একজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য।

নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতি, পুলিশ মোতায়েন ও যানবাহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে একটি সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার, ট্রাফিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং র‍্যাবের একজন প্রতিনিধি অংশ নেন।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার ভোটকেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বড় অংশ রাজধানীতেই অবস্থান করবেন। একই সঙ্গে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিও ঢাকায় বেশি থাকবে। নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে—সে মূল্যায়ন অনেকাংশেই ঢাকার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। এ কারণেই রাজধানীর ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য ঢাকার ১৫টি স্থানে বিশেষ ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্থান থেকে ব্যালট, বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং ভোটগ্রহণ শেষে আবার সেখানে ফিরিয়ে আনা হবে। নির্বাচনী সামগ্রী ও পুলিশ সদস্য পরিবহনের জন্য প্রায় তিন হাজার যানবাহন রিকুইজেশন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভোটের দিন আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়েও কঠোর অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোনো প্রার্থী বা তাঁর সমর্থকরা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন।

ভোটকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে র‍্যাব। ডিএমপির প্রতিটি অপরাধ বিভাগে র‍্যাবের ছয়টি করে দল মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি পুলিশের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সও মাঠে থাকবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন, যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টানা সাত দিন মাঠে থাকবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্র অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্টগার্ড দায়িত্ব পালন করবে।

ডিএমপির সূত্র জানায়, রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, মিরপুর পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়, গুলশান কূটনৈতিক এলাকা ও উত্তরা এলাকায় চারটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগে থাকবে আটটি সাব–কন্ট্রোল রুম, যেগুলো থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

img

জনতার কাফেলা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে: উপদেষ্টা আদিলুর

প্রকাশিত :  ০৯:২৫, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, জনতার কাফেলা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে, জনতার কাফেলা জুলাই সনদের পক্ষে, জনতার কাফেলা নতুন বাংলাদেশের পক্ষে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি আগামী ১২ তারিখ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহবান জানান তিনি।

আজ শনিবার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পাবলিক লাইব্রেরি হল রুমে গণভোটের কার্যক্রম সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, জুলাই বীর শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জুলাই যোদ্ধাদের অবদানে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বাংলাদেশের। দেশের এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে।

আদিলুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশে আর কাউকে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ার দেওয়া চলবে না, আয়নাঘর বানানো চলবে না। আমরা এমন একটি দেশ চাই যে দেশ হবে বৈষম্যমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত। যেখানে সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সমঅধিকার ভোগ করবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

এসময় সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ভোটের গাড়ির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সাধারণ মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বলেই তারা ‘হ্যাঁ’র পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করে তারা ‘না’ এর পক্ষে প্রচার করবে। যারা জনগণের অধিকারের পক্ষে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, গুম, ক্রসফায়ার চায় না তারাই ‘হ্যাঁ’তে ভোট দেবে। জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠিত করতে এই গণভোট।


বাংলাদেশ এর আরও খবর