img

টাওয়ার হ্যামলেটসে বিশ্ব বৈচিত্র্যের অনন্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০০:১৫, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসে বিশ্ব বৈচিত্র্যের অনন্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

বিশ্বের নানা দেশের সুস্বাদু রেসিপি নিয়ে তৈরি একটি কুকবুকঅভিবাসনের ঢেউকে ধারণ করা চলচ্চিত্র নির্মাণকমিউনিটির প্রতিকৃতি ও গল্পভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী,  টাওয়ার হ্যামলেটসে আয়োজিত বহুসংস্কৃতির উৎসব “দ্য বেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন ওয়ান বারা”–এর প্রধান আকর্ষণ।

গত ২২ জানুয়ারি কাউন্সিলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপযারা গত বছর সরকারি অর্থায়নে সৃজনশীল প্রকল্প সম্পন্ন করেছিলেন।

হোয়াইটচ্যাপেলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সোসাইটি লিংকস স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় তৈরি করেছে একটি ব্যতিক্রমী কুকবুকযাতে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশনাইজেরিয়াগ্রেনাডাসুদান এবং ইরাকের ঐতিহ্যবাহী রেসিপি। কুকবুকটি বারার  বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরে এবং এটা প্রমান করে যে খাবার মানুষকে একত্রিতও করতে পারে।


সোসাইটি লিংকসের পক্ষ থেকে জয়েস আর্কবোল্ড বলেন,  “কুকবুক তৈরি করার কাজটি ছিল এক ধরনের রোমাঞ্চ ও চ্যালেঞ্জযা টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রাণবন্ততা ও বৈচিত্র্যের প্রমাণ দেয়। বইয়ের সব রেসিপিগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে এসেছে এবং এক জায়গায় সংকলিত হয়েছে। প্রতিটি রেসিপির পেছনে একটি বিশেষ গল্প রয়েছে এবং এটি এমন কিছু যা অংশগ্রহণকারীরা সত্যিই সবার সঙ্গে শেয়ার করে নিতে চেয়েছিলেন।”

মাইল এন্ড কমিউনিটি প্রজেক্টের দুটি প্রকল্প: একটি অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রযেখানে বারার অভিবাসনের গল্প উঠে এসেছে। আরেকটিতে পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীযেখানে স্থানীয় বাসিন্দা এবং  তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।”

মাইল এন্ড কমিউনিটি প্রজেক্টের নুরুল ইসলাম বলেন, “৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বারাতে কাজ করতে করে আমাদের প্রজেক্টগুলো পরিচিতি পেয়েছেঅভিবাসন ও একসাথে মিলেমিশে করে আসা হয়েছে।

\'উই আর টাওয়ার হ্যামলেটস’ প্রমান করে এখানে ভিন্নতাকে শুধু সম্মানই করা হয় নাবরং মূল্যও দেওয়া হয়। এটি এমন একটি বারা যেখানে পারস্পরিক বোঝাপড়াঅভিজ্ঞতা ভাগাভাগি এবং মিলেমিশে থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।”

তিনি আরও বলেন, এটি কমিউনিটি সংহতির একটি জীবন্ত উদাহরণ। যেখানে বহু কণ্ঠসংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে টাওয়ার হ্যামলেটসকে বসবাসের ও উন্নতির একটি স্থান হিসেবে গড়ে তুলেছে।”


আগামী ১০ বছরের জন্য কাউন্সিল তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্ট্র্যাটিজিক ভিশন  আওয়ার টাওয়ার হ্যামলেটস – ভিশন টু ২০৩৫’ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে। যার লক্ষ্য হলো বৈষম্য ও দারিদ্র্যের চক্র ভাঙা এবং সকল বাসিন্দা যেন তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জন করতে পারে তা নিশ্চিত করা।

দ্য বেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন ওয়ান বারা ভিশন বাস্তবায়নের ধারাবাহিক আয়োজনের একটি অংশ। যার উদ্দেশ্য বারায় বহুতজাতির বৈচিত্র্য উদযাপনবাসিন্দাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন,  “আমি টাওয়ার হ্যামলেটসে বড় হয়েছি এবং এখানে আমার পরিবার গড়ে উঠেছে। তাই এই এলাকাটি আমার কাছে অত্যন্ত স্পেশাল।

এই বারায় আমার অগ্রগতি ও উন্নতির সুযোগ হয়েছে। আমি চাই আমাদের প্রতিটি বাসিন্দাই যেন একই সুযোগ পান।

এই ভিশন আমাদের বারার প্রতিটি মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন এবং এই ভিশনকে আরও উন্নত করতে আমাদের কোন কোন ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়া দরকার তা তুলে ধরে।”


ইকুয়ালিটিস এন্ড সোশাল ইনক্লোশন বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর বদরুল চৌধুরী বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসকে আমরা এমন একটি বারা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই যেখানে সবাই একসঙ্গে মিলেমিশে থাকবে এবং কমিউনিটি নিয়ে গর্ব অনুভব করবে।

আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরেটাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়েছে এবং একে অপরকে সমর্থন করেছে।”

আমাদের ভিশন \'আওয়ার টাওয়ার হ্যামলেটস – ভিশন টু ২০৩৫\' সম্পর্কে আরও জানুন -  www. Our Tower Hamlets - Vision to 2035 

 

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম কানাডার এমপি নির্বাচিত

প্রকাশিত :  ০৭:৫৩, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক ডলি বেগম দেশটির ফেডারেল রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি এ ইতিহাস গড়েন।

\r\n

এই জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

কানাডায় স্থানীয় সময় সোমবার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এই উপনির্বাচনে জয় ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টি অফ কানাডাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে। উপনির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি, রোসডেল ও স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট ও কুইবেকের তেরেবোন আসনে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লিবারেলদের মাত্র একটি আসনে জয়ের প্রয়োজন ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির জন্য এ উপ-নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এখন তার সরকারের আইন পাস করা অত্যন্ত সহজ হবে এবং নীতিনির্ধারণে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এতে আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলভাবে সরকার পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

আজকের উপ-নির্বাচনের আগ পর্যন্ত লিবারেলরা পার্লামেন্টে ১৭১টি আসন নিয়ে এগিয়ে ছিল। সম্প্রতি কনজারভেটিভ দলের এমপি মেরিলিন গ্লাডু দল পরিবর্তন করে লিবারেল দলে যোগ দেওয়ায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে আজকের উপ-নির্বাচনের ফলাফলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগমের জয়ের মধ্য দিয়ে লিবারেল পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পরিস্কার হয়েছে। বর্তমানে লিবারেল পার্টির আসন সংখ্যা ১৭৪টি।

ডলি বেগম এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে দেশটির অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের নির্বাচনে এমপিপি পদে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছিলেন গত বছর। তখন তিনি টরন্টোর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নির্বাচনী আসন থেকে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। এর আগে ডলি ২০১৮ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে প্রথম এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। কানাডার তিন স্তরের সরকার পদ্ধতির কোনো আইন পরিষদে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউ ডেমোক্র্যাট।

চলতি বছরের শুরুতে দীর্ঘদিনের লিবারেল দুর্গ হিসেবে পরিচিত স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নির্বাচনী আসনটি সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের বিদায়ের পর কার্যত শূন্য হওয়ায় ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির হয়ে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। 

ডলি বেগম তার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে লিবারেল দলে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত সাত বছর ধরে স্কারবরো সাউথ-ওয়েস্টের মানুষের জন্য লড়াই করেছি। তবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমার মনে হয়েছে, আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে আমি সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।’

তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং কানাডাকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি প্রস্তুত।

ডলি বেগমের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের মনু নদের পাড়ে। বাবা রাজা মিয়া এবং মা জবা বেগমের হাত ধরে মাত্র ১২ বছর বয়সে পাড়ি জমান কানাডায়। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে তিনি লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। 

টরোন্টো প্রবাসী বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব দেলোয়ার এলাহী বলেন, ‘লিবারেল পার্টি ও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণিত হয়েছে- দল নয়, ব্যক্তির সততা, কর্মদক্ষতা, জনসংযোগ এবং বহুজাতিক, বহুবর্ণ ও বহুধর্মের মানুষের দেশ কানাডার সমতার রাষ্ট্রীয় দর্শন ধারণ ও চর্চাকারী রাজনীতির মানুষ মূলত যেকোনো দলের আরাধ্য। ডলি বেগম যে এক্ষেত্রে সর্বাগ্রগণ্য গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন, তা বারবার প্রমাণিত। ডলি বেগমকে নিজ দলে টেনে মার্ক কার্নিই জয়ী হয়েছেন।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কানাডার প্রাদেশিক রাজনীতি থেকে ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ডলি বেগমের পদার্পণ তার ক্যারিয়ারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। পাশাপাশি রাজনীতিতে তার এই সাফল্য বাংলাদেশিদের বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

অন্যদিকে কানাডার স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডলি বেগমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ডলি বেগমের এই বিজয় তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নেতৃত্ব এবং জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, ডলি বেগম তার কমিউনিটির উন্নয়নে দৃঢ়ভাবে এবং কার্যকরভাবে লড়াই করে আসছেন। কার্নি আরও বলেন, ডলি বেগমের অক্লান্ত কণ্ঠস্বর, অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ও আরও ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

উল্লেখ্য, ডলি বেগম দীর্ঘদিন ধরে স্কারবরো এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর