img

বিশ্বমঞ্চে বাংলা সাহিত্যের ঐতিহাসিক জয়, গ্লোবাল বুক চার্টের শীর্ষে কথাসাহিত্যিক রেজুয়ান আহম্মেদ

প্রকাশিত :  ০৯:১৯, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫০, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বমঞ্চে বাংলা সাহিত্যের ঐতিহাসিক জয়, গ্লোবাল বুক চার্টের শীর্ষে কথাসাহিত্যিক রেজুয়ান আহম্মেদ

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: বিশ্বসাহিত্যের দরবারে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক গৌরব বয়ে আনলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, কবি ও প্রাবন্ধিক রেজুয়ান আহম্মেদ। দীর্ঘ তিন দশক ধরে সস্তা প্রচারণার আড়াল থেকে নিজেকে দূরে রেখে নিভৃতে যিনি সৃষ্টি করে গেছেন অসাধারণ সব কালজয়ী আখ্যান, সেই লেখকের ইংরেজি বইগুলো আজ আন্তর্জাতিক বইয়ের বাজারে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল ও খুচরা বই বিক্রয় প্ল্যাটফর্মগুলোর গ্লোবাল বেস্টসেলার চার্টে তাঁর বইগুলো শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে, যা সমকালীন বিশ্বসাহিত্যে বাংলাদেশের অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক বুক ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, রেজুয়ান আহম্মেদের সাড়াজাগানো মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস 'উই আর অল ম্যাড' এবং সমকালীন ভূরাজনৈতিক সংকট নিয়ে লেখা 'দ্য শ্যাডো অব ওয়ার' ও 'দ্য ডেজ অব গাজা' গ্লোবাল বুক চার্টগুলোতে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে। আমাজন, কোবো, ইন্ডিগো, বুকটোপিয়া এবং ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী বুক চেইন হিউজেন্ডুবেলের যৌথ বিক্রয় ও রেটিং চার্টে তাঁর বইগুলো শীর্ষ তিনটি অবস্থানের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশে হার্ডকভার, পেপারব্যাক ও ই-বুক সংস্করণে তাঁর বইগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হচ্ছে। তাঁর প্রকাশিত ২৬টিরও বেশি গ্রন্থের মধ্যে ১৪টি ইংরেজি সংস্করণ রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত 'থ্রিফটবুকস'সহ আন্তর্জাতিক লাইব্রেরিগুলোতে অফিসিয়াল ক্যাটালগভুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সমালোচকদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ও উদ্ধৃতি

রেজুয়ান আহম্মেদের বিশ্বমঞ্চে এই অভাবনীয় সাফল্যকে বিশ্বসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমঞ্চে এমন উত্থানকে তারা অভিহিত করছেন যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে। তাঁর লেখার গভীর সর্বজনীনতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ইউরোপীয় সাহিত্য সমালোচক ড. এলিনা রোমানোভা বলেন: "রেজুয়ান আহম্মেদ তাঁর গল্পে কোনো সুনির্দিষ্ট অঞ্চলের ভূগোল ব্যবহার করলেও, তাঁর ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক আর্তিটি সম্পূর্ণ বৈশ্বিক। যুদ্ধাবস্থার ভেতর মানুষের টিকে থাকার লড়াই ও অস্তিত্বের সংকটকে তিনি যেভাবে তুলে এনেছেন, তা সমকালীন বিশ্বসাহিত্যে বিরল। তিনি কেবল একজন গল্পকার নন, তিনি এই সময়ের মানবিক বিবেকের কণ্ঠস্বর।"

অনুরূপভাবে, ব্রিটিশ লিটারারি রিভিউয়ের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মার্কাস ডেনিস তাঁর এক কলামে লিখেছেন:

"আহম্মেদের আখ্যানে এক ধরনের সম্মোহনী শক্তি রয়েছে। 'দ্য শ্যাডো অব ওয়ার' পড়তে গিয়ে পাঠক কেবল একটি যুদ্ধক্ষেত্রের বিবরণ পায় না, বরং যুদ্ধের করাল গ্রাসে একজন মানুষের চূর্ণ-বিচূর্ণ মনস্তত্ত্বের মুখোমুখি হয়। তাঁর গভীর মননশীল লেখার স্টাইল সমকালীন কথাসাহিত্যকে এক নতুন দর্শন দিয়েছে।"

আন্তর্জাতিক রেটিং ও চমৎকার রিভিউ

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পাঠকদের প্ল্যাটফর্ম এবং বুক রিভিউ পোর্টালগুলোতে রেজুয়ান আহম্মেদের বইগুলো রেকর্ড সংখ্যক ইতিবাচক রেটিং পাচ্ছে।

গ্লোবাল রিডার্স চয়েসে দেখা যাচ্ছে, গুডরিডস এবং আমাজন ডটকমে তাঁর সাড়াজাগানো মনস্তাত্ত্বিক বই 'উই আর অল ম্যাড' ৫-এর মধ্যে ৪.৮ রেটিং ধরে রেখেছে, যা এই ঘরানার বইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্মানজনক।

আন্তর্জাতিক বুক রিভিউ ফোরাম তাঁর 'দ্য ১৬০ টাকা ড্রিম' এবং 'ইন দ্য ল্যান্ড অব মিরাজেস' বইগুলোকে "প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সমালোচকদের মতে, গভীর দারিদ্র্য এবং মানুষের অবদমিত স্বপ্নের এমন নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত চিত্রায়ন বিশ্বপাঠককে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।

তাঁর বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রবন্ধ গ্রন্থ 'ইওর অ্যাটেনশন ইজ ইওর গ্রেটেস্ট পাওয়ার' বইটিকে একাডেমিক ও মননশীল পাঠকমহল বর্তমান ডিজিটাল যুগের অবক্ষয় রোধে একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও চিন্তাশীল কাজ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

নীরব সাধনা থেকে বিশ্বমঞ্চের মাইলফলক

১৯৯৬ সালে সাহিত্যযাত্রা শুরু করার পর থেকে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে রেজুয়ান আহম্মেদ সস্তা খ্যাতি কিংবা মূলধারার মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রেখেছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের সাহিত্যিক দর্শন "সত্যিকারের সাহিত্য নিজের আলোয় নিজেই দীপ্ত" আজ বিশ্বমঞ্চে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। সমকালীন বিশ্বরাজনীতি, মানুষের বাস্তুচ্যুতির হাহাকার এবং সামাজিক সংকটের এই যুগে রেজুয়ান আহম্মেদ বিশ্বপাঠকদের কাছে এক নৈতিক ভাষ্যকার ও মানবিক কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁর এই অভাবনীয় ও যুগান্তকারী সাফল্য সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

img

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন

প্রকাশিত :  ১২:৩৪, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সাহিত্যে তার সাহসী ও নতুন ধরনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

অ্যান কার্সন ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে তিনি ক্লাসিকস বিষয়ে ‘ওদি এত আমো এরগো সুম’ নামে ডক্টরাল থিসিস প্রকাশ করেন। এই ল্যাটিন বাক্যাংশটির শাব্দিক অর্থ, ‘আমি ঘৃণা করি এবং আমি ভালোবাসি, সুতরাং আমি আছি’।

তিনি কবিতা লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বই অনুবাদ করেছেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। অ্যান কার্সনের বেশিরভাগ সাহিত্যকর্মে ভাষা ও শব্দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেয়েছে। নতুন অর্থ ও ভাবনা তৈরির জন্য তিনি শব্দের উৎস ও ব্যুৎপত্তি নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। তার অনেক লেখার শুরুই শব্দের ব্যুৎপত্তি থেকে।

অ্যান কার্সন তার পুরো সাহিত্যজীবনে লেখার নতুন নতুন ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। প্রচলিত সাহিত্যিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে লেখার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। এর একটি উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’। বইটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি ছোট রচনা রয়েছে। এগুলো যেকোনো ক্রমে পড়া যায়।

এ ছাড়া দৃশ্যশিল্পী, নৃত্য পরিচালক, অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গে অ্যান কার্সনের যৌথ কাজ তার ভিন্নধর্মী চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। তিনি প্রচলিত সাহিত্যিক নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুনভাবে কাজ করতে পছন্দ করেন। ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে তার কাজ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। 

২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’তেও কার্সনের এই বৈচিত্র্যময় লেখার ধরন দেখা যায়। বইটিতে বিভিন্ন ধরনের রচনা রয়েছে এবং এতে অভিনয় ও মঞ্চ পরিবেশনার উপাদানও রয়েছে। একই সঙ্গে সাহিত্য, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের নানা বিষয় তিনি এতে তুলে ধরেছেন।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য থেকে তার করা অনুবাদগুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার বিভিন্ন খণ্ডাংশ নিয়ে কাজ এবং ২০০২ সালে প্রকাশিত ‘ইফ নট, উইন্টার’ উল্লেখযোগ্য। তিনি গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিসের ‘ইলেক্ট্রা’ ও ‘অ্যান্টিগোন’ এবং ইউরিপিডিসের ‘বাক্কাই’ নাটকও অনুবাদ করেছেন। এসব অনুবাদ যথাক্রমে ২০০১ ও ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়।

১৯৯০-এর দশকে অ্যান কার্সন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’ কাব্যগ্রন্থের ‘দ্য গ্লাস এসে’। এই দীর্ঘ কবিতায় কবিতা, প্রবন্ধসহ বিভিন্ন সাহিত্যধারার মিশেল দেখা যায়। এর মাধ্যমে কার্সন দীর্ঘ কবিতার একটি নতুন ধরনের রূপ তুলে ধরেছেন, যেখানে বিভিন্ন সাহিত্যধারার সীমারেখা স্পষ্ট থাকে না।

১৯৯০-এর দশকে অ্যান কার্সনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশিত হয়, ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড : আ নভেল ইন ভার্স’। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত এই বইটিকে তার অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে ধরা হয়। বইটিতে কার্সন প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে আধুনিক জীবন ও ভাষার সঙ্গে মিলিয়েছেন। এর মূল চরিত্র গেরিয়ন—ডানাওয়ালা এক লাল দানব।

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর গ্রিক কবি স্টেসিখোরোসের গেরিয়নকে নিয়ে লেখা একটি কবিতার খণ্ডাংশ থেকেই কার্সন এই বইয়ের ভাবনা নিয়েছেন। প্রাচীন এই গল্পকে আধুনিক ভাষা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্সন বইটিতে একটি নতুন ধরনের সাহিত্যিক রূপ তৈরি করেছেন।