img

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি লেখক রেজুয়ান আহম্মেদ: দুই বইয়ে তিন আন্তর্জাতিক মঞ্চ জয়

প্রকাশিত :  ১৯:৫১, ২৩ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:৩৮, ২৩ আগষ্ট ২০২৬

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি লেখক রেজুয়ান আহম্মেদ: দুই বইয়ে তিন আন্তর্জাতিক মঞ্চ জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: একজন লেখকের সাহিত্যিক পরিচিতি এখন আর নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, তার প্রকৃত ব্যাপ্তি ফুটে ওঠে বৈশ্বিক বইয়ের বাজার ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পাঠপরিসরে। সেই ধারায় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি সাহিত্যের নতুন সম্ভাবনার কথা জানান দিচ্ছেন লেখক রেজুয়ান আহম্মেদ। সম্প্রতি তাঁর লেখা দুটি বই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিক্রয় ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সেরা বইয়ের তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছে।

​মানসিক ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে লেখা রেজুয়ান আহম্মেদের জনপ্রিয় বই 'We Are All Mad' সাইকোলজিক্যাল ও সোশাল ফিকশন শ্রেণিতে বড় সাফল্য পেয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় বই বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম Eldar.ch-এর বেস্টসেলার তালিকায় বইটি বর্তমানে প্রথম নম্বরে অবস্থান করছে। পাশাপাশি সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক বৈশ্বিক ডিজিটাল লাইব্রেরি সেবা Everand-এ এর অবস্থান দ্বিতীয়।

​অন্যদিকে তাঁর আলোচিত আরেকটি বই 'Beyond the Naf' বিশ্বখ্যাত ই-কমার্স ও বই বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রদত্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, Amazon, Indigo, Kobo, Booktopia এবং Hugendubel-এর যৌথ বেস্টসেলার তালিকায় বইটি তৃতীয় নম্বরে উঠে এসেছে।

​ব্যবসায়িক ও সাহিত্য বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংগুলো মূলত একটি নির্দিষ্ট সময়ের বাজারচিত্র প্রকাশ করে এবং সময় বা প্ল্যাটফর্মভেদে এতে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ও মুদ্রিত বইয়ের বাজারে একজন বাংলাদেশি লেখকের এই সুনির্দিষ্ট উপস্থিতি বৈশ্বিক পাঠকমহলে দেশীয় সাহিত্যের নতুন দরজা উন্মোচন করছে।

​আঞ্চলিকতার গণ্ডি পেরিয়ে রেজুয়ান আহম্মেদের লেখার মূল শক্তি তাঁর সর্বজনীন কথাসাহিত্য। মনস্তাত্ত্বিক সামাজিক সংকট, মানুষের মানসিক টানাপোড়েন ও বাস্তবতার এমন কিছু মৌলিক প্রশ্ন তিনি গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেন, যার আবেদন ভৌগোলিক সীমারেখা ছাপিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে নতুন পাঠকের দ্বারে।

img

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন

প্রকাশিত :  ১২:৩৪, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সাহিত্যে তার সাহসী ও নতুন ধরনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

অ্যান কার্সন ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে তিনি ক্লাসিকস বিষয়ে ‘ওদি এত আমো এরগো সুম’ নামে ডক্টরাল থিসিস প্রকাশ করেন। এই ল্যাটিন বাক্যাংশটির শাব্দিক অর্থ, ‘আমি ঘৃণা করি এবং আমি ভালোবাসি, সুতরাং আমি আছি’।

তিনি কবিতা লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বই অনুবাদ করেছেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। অ্যান কার্সনের বেশিরভাগ সাহিত্যকর্মে ভাষা ও শব্দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেয়েছে। নতুন অর্থ ও ভাবনা তৈরির জন্য তিনি শব্দের উৎস ও ব্যুৎপত্তি নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। তার অনেক লেখার শুরুই শব্দের ব্যুৎপত্তি থেকে।

অ্যান কার্সন তার পুরো সাহিত্যজীবনে লেখার নতুন নতুন ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। প্রচলিত সাহিত্যিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে লেখার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। এর একটি উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’। বইটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি ছোট রচনা রয়েছে। এগুলো যেকোনো ক্রমে পড়া যায়।

এ ছাড়া দৃশ্যশিল্পী, নৃত্য পরিচালক, অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গে অ্যান কার্সনের যৌথ কাজ তার ভিন্নধর্মী চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। তিনি প্রচলিত সাহিত্যিক নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুনভাবে কাজ করতে পছন্দ করেন। ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে তার কাজ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। 

২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’তেও কার্সনের এই বৈচিত্র্যময় লেখার ধরন দেখা যায়। বইটিতে বিভিন্ন ধরনের রচনা রয়েছে এবং এতে অভিনয় ও মঞ্চ পরিবেশনার উপাদানও রয়েছে। একই সঙ্গে সাহিত্য, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের নানা বিষয় তিনি এতে তুলে ধরেছেন।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য থেকে তার করা অনুবাদগুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার বিভিন্ন খণ্ডাংশ নিয়ে কাজ এবং ২০০২ সালে প্রকাশিত ‘ইফ নট, উইন্টার’ উল্লেখযোগ্য। তিনি গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিসের ‘ইলেক্ট্রা’ ও ‘অ্যান্টিগোন’ এবং ইউরিপিডিসের ‘বাক্কাই’ নাটকও অনুবাদ করেছেন। এসব অনুবাদ যথাক্রমে ২০০১ ও ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়।

১৯৯০-এর দশকে অ্যান কার্সন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’ কাব্যগ্রন্থের ‘দ্য গ্লাস এসে’। এই দীর্ঘ কবিতায় কবিতা, প্রবন্ধসহ বিভিন্ন সাহিত্যধারার মিশেল দেখা যায়। এর মাধ্যমে কার্সন দীর্ঘ কবিতার একটি নতুন ধরনের রূপ তুলে ধরেছেন, যেখানে বিভিন্ন সাহিত্যধারার সীমারেখা স্পষ্ট থাকে না।

১৯৯০-এর দশকে অ্যান কার্সনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশিত হয়, ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড : আ নভেল ইন ভার্স’। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত এই বইটিকে তার অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে ধরা হয়। বইটিতে কার্সন প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে আধুনিক জীবন ও ভাষার সঙ্গে মিলিয়েছেন। এর মূল চরিত্র গেরিয়ন—ডানাওয়ালা এক লাল দানব।

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর গ্রিক কবি স্টেসিখোরোসের গেরিয়নকে নিয়ে লেখা একটি কবিতার খণ্ডাংশ থেকেই কার্সন এই বইয়ের ভাবনা নিয়েছেন। প্রাচীন এই গল্পকে আধুনিক ভাষা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্সন বইটিতে একটি নতুন ধরনের সাহিত্যিক রূপ তৈরি করেছেন।