img

খাসিয়া পুঞ্জির আট হাজার পানগাছ কাটলো কারা?

প্রকাশিত :  ১৫:১৩, ০১ অক্টোবর ২০২৬

 খাসিয়া পুঞ্জির আট হাজার পানগাছ কাটলো কারা?

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় একটি খাসিয়া পুঞ্জিতে রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হয়েছে প্রায় ৮ হাজার পান গাছ। বুধবার দিবাগত রাতে কর্মধা ইউনিয়নে অবস্থিত নার্সারি পুঞ্জিতে এই তান্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা।

এতে পুঞ্জির ৯টি পরিবারের পানজুমের ৮ হাজারের অধিক পানগাছ কেটে ফেলঅ হয়।

​ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৩নং কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা লিকিন খংপ্ডা, পাইলা পতাম, নাসরিন পতাম, জনি পতাম, নিস্তার পাটুয়াট, শিউলি আজিম, টিউনি আজিম, ডিমান পতাম এবং মাসার তংপের—এই ৯টি পরিবারের জুম থেকে পানগাছগুলো কেটে ফেলা হয়।

​ক্ষতিগ্রস্ত জুমের মালিক, নাসরিন পতাম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, \"কে বা কারা এই কাজ করেছে জানি না। তবে, যে বা যারা এই কাজ করেছে তারা নিশ্চিত জানে, খাসিয়াদের শেষ করার সহজ কৌশল হলো পান গাছ কেটে ফেলা। খাসিয়ারা সারাদিন জুমে কাজ করে জেনেই রাতের আধারে জুমের গাছগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে।\"

​নার্সারি পুঞ্জির মান্রী (প্রধান) জনি পতাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, \"আমরা নিরীহ মানুষ। পান চাষ করেই সংসার চালাই। একটি গাছ ৪ বছর যত্ন করার পর পান পাওয়া যায়। অথচ দায়ের এক কোপে ৪ বছরের পরিশ্রম ও খরচ সব শেষ হয়ে যায়। পুঞ্জির নয়টি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ নিমিষে ধ্বংস হয়ে গেল। আমরা খুব ভয়ে আছি, পানগাছই আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস। ইতোমধ্যে প্রশাসন থেকে সরেজমিন তদন্ত করতে লোক এসেছে; আমরা সঠিক তদন্ত করে দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছি।

​কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, \"আমাদের হয়রানির শেষ নেই। কে দেবে আমাদের জীবিকার নিরাপত্তা? এ উত্তর আমার জানা নেই। কেন খাসিয়া আদিবাসীদের জীবিকা বারবার হামলার শিকার হবে? দুষ্কৃতিকারীদের বিচার হবে কি না সন্দেহ।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁরা আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

​স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পুঞ্জিবাসীর পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনের জরুরি সহায়তাও কামনা করেছেন তারা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

কিশোরীকে অপহরণের পর রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণের পর একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৯(৩) ধারায় মামলা করেছেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর এলাকার দুলাল মিয়া (৩১), হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬) এবং একই উপজেলার রিচি গ্রামের আল আমিন ইসলাম (২০)। তাঁরা শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিল বাড়ি রোড এলাকায় কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল কিশোরীটি। পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা কয়েকজন তাঁর গতিরোধ করেন। পরে তাঁকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ইছবপুর এলাকায় দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে পরদিন রোববার সকাল সাতটা পর্যন্ত ওই বাসায় কিশোরীকে আটকে রেখে আসামিরা পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল নয়টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে ফেলে রেখে তাঁরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা রেলস্টেশন থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কিশোরীর বাবা শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর