img

ক্যানারি ওয়ার্ফে অস্থায়ী আবাসনের জন্যে ১৮০টি নতুন ঘর তৈরী করবে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

প্রকাশিত :  ০৮:২৪, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ক্যানারি ওয়ার্ফে অস্থায়ী আবাসনের জন্যে ১৮০টি নতুন ঘর তৈরী করবে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

অস্থায়ী আবাসনের (টেম্পোরারি হাউজিং) ক্রমবর্ধমান চাহিদা পুরনের লক্ষ্যে ক্যানারি ওয়ার্ফে চারটি অফিসভবন অধিগ্রহণ করে সেগুলোকে ফ্যামিলি হোম বা পারিবারিক বাসস্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।

২১ অক্টোবর, বুধবার অনুষ্ঠিত কাউন্সিল ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ডকল্যান্ড এলাকার মার্শ ওয়ালের ১৯১, ১৯৩, ১৯৫ ও ১৯৭ নম্বর ভবনগুলো অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই ভবনগুলোকে স্থানীয় পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আবাসনে রূপান্তর করা হবে। এই পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ১৮০টি বাসস্থান তৈরি হবে, যার মধ্যে ১৬৭টি দুই বেডরুমের এবং ১৩টি তিন বেডরুমের ইউনিট থাকবে।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে বর্তমানে ৩,১০০টিরও বেশি পরিবার অস্থায়ী আবাসনে বসবাস করছে। এর যার মধ্যে বিভিন্ন সাইজের পরিবার প্রায় ২,৭০০টি। প্রতি বছর হোমলেস বা গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১১ শতাংশ হারে বাড়ছে।

অস্থায়ী আবাসনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে এবং বারার বাইরে ব্যয়বহুল ভাড়ার আবাসনের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে কাউন্সিল বারার ভেতরেই আরও বেশি বাসস্থান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। 

এ বিষয়ে টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন: \"প্রতিটি পরিবারেরই তাদের নিজস্ব কমিউনিটি, স্কুল এবং সহায়তাকারী নেটওয়ার্কের কাছাকাছি একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত স্থানে বসবাসের অধিকার রয়েছে।\"

তিনি বলেন, “এই ভবনগুলোকে কাউন্সিলের ব্যবহারের আওতায় আনার মাধ্যমে আমরা প্রায় ১৮০টি পারিবারিক বাসস্থান (ফ্যামিলি হোম) তৈরির সুযোগ পাচ্ছি, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের জন্য উন্নত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।”

নির্বাহী মেয়র আরো বলেন, “এই বিনিয়োগ আমাদের ব্যয়বহুল দৈনিক ভাড়ার আবাসনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি অনেক পরিবারকে টাওয়ার হ্যামলেটসেই থাকতে এবং তাদের সহায়তাকারী নেটওয়ার্কের কাছাকাছি অবস্থান করতে সহায়তা করবে।”

এই প্রস্তাবটি আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি এবং আবাসন অনিশ্চয়তার সম্মুখীন বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের বৃহত্তর অঙ্গীকারেরই একটি অংশ। এই ইউনিটগুলো স্থানীয় অস্থায়ী আবাসন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

ফাইনান্স এবং এসেট বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর আবু তালহা চৌধুরী বলেছেন, “লন্ডন জুড়ে কাউন্সিলগুলো হোমলেসনেস বা গৃহহীনতা বৃদ্ধি এবং অস্থায়ী আবাসনের ব্যয়ভারজনিত ব্যাপক চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। এই প্রস্তাবটি আমাদের বিদ্যমান ভবনগুলোকে কৌশলগতভাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে, যার মাধ্যমে  পরিবারগুলোর জন্য উন্নত মানের আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। এটি বাসিন্দাদের জন্য অধিকতর সুফল বয়ে আনবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আবাসন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাউন্সিলের সক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে।”

কাউন্সিলর তালহা আরও বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসে গৃহহীন পরিবারগুলোকে রাখতে পারার অর্থ হলো, শিশুরা তাদের স্কুল ও বন্ধুদের কাছাকাছি থাকতে পারবে, আর বাসিন্দারা তাদের কর্মস্থল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও পারিবারিক পরিমণ্ডলের সান্নিধ্যে থাকতে পারবে। মানুষ যখন তাদের নিজস্ব কমিউনিটির মধ্যে থাকে, তখন যে ব্যাপক সামাজিক, শিক্ষাগত ও স্বাস্থ্যগত সুফল পাওয়া যায়, তার কোনো আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।”

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ক্যাবল স্ট্রিটের ৯০ বছর পূর্তি উপলক্ষে টাওয়ার হ্যামলেটসে দুটি প্রদর্শনী চলছে

প্রকাশিত :  ০৯:৩৫, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

নব্বই বছর আগে লন্ডনের ইস্ট এন্ডের হাজারো মানুষ একসাথে মিলে ফ্যাসিস্টদের মিছিল ঠেকিয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে টাওয়ার হ্যামলেটসে চলতি অক্টোবর মাসজুড়ে চলছে দুটি বিশেষ প্রদর্শনী চলছে। 

টাওয়ার হ্যামলেটস লোকাল হিস্ট্রি লাইব্রেরি অ্যান্ড আর্কাইভস এবং টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হল-এ আয়োজিত এই দু‘টি প্রদর্শনীতে ১৯৩৬ সালের ঘটনাবলির পাশাপাশি মাইগ্রেশন এবং স্থানীয় কমিউনিটির দীর্ঘ যাত্রাকে তুলে ধরা হয়েছে, যা আজকের টাওয়ার হ্যামলেটস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

দ্য ব্যাটল অব ক্যাবল স্ট্রিটঃ টাওয়ার হ্যামলেটস লোকাল হিস্ট্রি লাইব্রেরি অ্যান্ড আর্কাইভসে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে ১৯৩৬ সালের ৪ অক্টোবরের ঘটনাবলি তুলে ধরা হয়েছে। এতে রয়েছে ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, বিভিন্ন স্মারক ও আর্কাইভ নথি। এর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে, কীভাবে স্থানীয় বাসিন্দা এবং ইস্ট এন্ডের মানুষজন একত্রিত হয়ে ফ্যাসিস্টদের মিছিলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। প্রদর্শনীতে ইস্ট লন্ডনে ফ্যাসিবাদের উত্থান, এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ স্থানীয় কমিউনিটির ভূমিকা এবং সেই ঐতিহাসিক দিনের ঘটনাবলি তুলে ধরা হয়েছে।

এ বারা বিল্ট বাই নিউকামারস্ঃ টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে আয়োজিত   “এ বারা বিল্ট বাই নিউকামারস” শীর্ষক প্রদর্শনীতে মাইগ্রেশন ও কমিউনিটির  দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ফরাসি হুগেনট রিফিউজি, জুইশ মাইগ্রেশন, বাঙালি মাইগ্রেশন থেকে শুরু করে বর্তমানের বহুজাতিক টাওয়ার হ্যামলেটসের গল্প এতে স্থান পেয়েছে।

প্রদর্শনীটির মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, কীভাবে বিভিন্ন সময়ে আগত জনগোষ্ঠী একই রাস্তা, ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কাঠামোকে নিজেদের অবদানে সমৃদ্ধ করেছে এবং আজকের টাওয়ার হ্যামলেটসের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন: “ক্যাবল স্ট্রিট আমাদের ঐক্যবদ্ধ ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ যখন ঘৃণা ও বিভেদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়ায়, তখন কত শক্তিশালী পরিবর্তন সম্ভব হয়। ৯০ বছর পরেও আমাদের উচিত সেই মানুষদের স্মরণ করা, যারা সেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন।”

মেয়র বলেন, “তবে এটি কেবল অতীতের কোনো গল্প নয়। আজও টাওয়ার হ্যামলেটস বিভিন্ন পটভূমির মানুষের আবাসস্থল, যারা এখানে বসতি গড়ছেন, কমিউনিটি তৈরি করছেন এবং বারার উন্নয়নে অবদান রাখছেন। আমাদের ৯১ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন, বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ তাদের এলাকায় সৌহার্দ্যের সঙ্গে বসবাস করেন, যা প্রমাণ করে, সেই ঐক্যের চেতনা আজও সমানভাবে বিদ্যমান রয়েছে।”

এ উপলক্ষে কাউন্সিল বারার বাসিন্দাদের “নো প্লেস ফর হেইট” প্রচারণার অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর