img

‘স্টে কিউরিয়াস': টাওয়ার হ্যামলেটসে মাসব্যাপী বাংলা নাট্যোৎসবে থাকছে ১২টি মৌলিক প্রযোজনা

প্রকাশিত :  ১৩:৪৫, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৪৬, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

‘স্টে কিউরিয়াস': টাওয়ার হ্যামলেটসে মাসব্যাপী বাংলা নাট্যোৎসবে থাকছে ১২টি মৌলিক প্রযোজনা

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার অন্যতম জনপ্রিয় আয়োজন ‘এ সিজন অব বাংলা ড্রামা’ আবারও ফিরছে টাওয়ার হ্যামলেটসে। আগামী ১ থেকে ২৯ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মাসব্যাপী এই নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হবে ১২টি মৌলিক নাট্যপ্রযোজনা। পাশাপাশি দর্শকদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে থাকছে ৩০টিরও বেশি পার্শ্ব-অনুষ্ঠান।

এ বছরের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ‘কৌতূহল’ (কিউরিওসিটি)। এই ভাবনাকে কেন্দ্র করে নাট্যকারেরা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর বিষয় থেকে শুরু করে আধুনিক জীবনের নানা দিক নিয়ে হালকা মেজাজের ব্যঙ্গাত্মক নাটক পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কাজ উপস্থাপন করছেন। উৎসবের মাধ্যমে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি গল্প বলার সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্য এবং সময়ের সঙ্গে এর বিবর্তন তুলে ধরা হবে।

দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত নাট্যদল, নতুন প্রজন্মের শিল্পী এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন এই উৎসবে একত্রিত হচ্ছে। তাঁদের পরিবেশনা ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে পূর্ব লন্ডনের কয়েক দশকের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে। পরিচয়, অভিবাসন, আপনজন ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক, পারিবারিক গোপন ইতিহাস এবং জীবনের পরিবর্তন - এবারের মূল মঞ্চের নাটকগুলোতে এসব বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সমসাময়িক সমাজে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় উৎসবটি দর্শকদের নতুনভাবে ভাবতে ও প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করবে।

ব্র্যাডি আর্টস সেন্টার, আর্টসওয়ান, কবি নজরুল সেন্টার, রুট/২৫ এবং বিভিন্ন পাবলিক স্পেস বা জনপরিসরসহ একাধিক স্থানে উৎসবের আয়োজন করা হবে। বিভিন্ন পটভূমির দর্শকদের জন্য এই আয়োজন পূর্ব লন্ডনের মানুষের জীবন, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার সুযোগ তৈরি করবে। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সমাজের বহুভাষিক বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিয়ে নাটক ও অন্যান্য পরিবেশনায় বাংলা, ইংরেজি, সিলেটি এবং আরও কয়েকটি ভাষা ব্যবহার করা হবে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “২৩ বছর ধরে ‘এ সিজন অব বাংলা ড্রামা’ আমাদের প্রাণবন্ত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির এক অনন্য উদ্‌যাপন এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। এই উৎসব প্রতিষ্ঠিত ও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকার দর্শকদের বাংলা সংস্কৃতির সমৃদ্ধির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।""

মেয়র আরও বলেন, “আমি আশা করি, বরো এবং এর বাইরের দর্শকেরা এই অনন্য ও বৈচিত্র্যময় আয়োজন উপভোগ করবেন, কৌতূহলকে স্বাগত জানাবেন, নতুন গল্প আবিষ্কার করবেন এবং নাটক ও সৃজনশীলতার এই বিশেষ মাসজুড়ে মানুষের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলবেন।”


‘এ সিজন অব বাংলা ড্রামা ২০২৬’-এর সূচনা হবে ‘ন্যারেটিভস অব টাইম’ দিয়ে। ন্যাশনাল লটারি হেরিটেজ ফান্ডের অর্থায়নে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ নাট্যসংকলনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাট্যচর্চা এবং পূর্ব লন্ডনের কমিউনিটি জীবনের ছয় দশকের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ব্রিটেনে বাংলা নাটকের বিকাশ, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং কমিউনিটির অভিজ্ঞতার দীর্ঘ যাত্রা দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হবে।

উৎসবের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রযোজনার মধ্যে রয়েছে ‘উই ডোন্ট সে হার নেম’। বাংলা ভাষার সরাসরি সংগীত ও বিভিন্ন প্রজন্মের অভিজ্ঞতাভিত্তিক গল্প বলার সমন্বয়ে নির্মিত এই দ্বিভাষিক নাটক পারিবারিক সম্পর্ক ও স্মৃতির নানা দিক তুলে ধরবে।

‘ওল্ড গেট’ নাটকে বয়স বাড়ার অভিজ্ঞতা এবং সমাজে নিজের অবস্থান ও অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি অনুসন্ধান করা হয়েছে। ‘আই হিয়ার হামিং’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নারীদের জীবনের আড়ালে থাকা ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরবে। অন্যদিকে, ‘টু আম্মি, উইথ লাভ’ একজন অভিবাসী মায়ের জীবন, মাতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত এক আবেগঘন একক নাট্যপ্রযোজনা।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের লেইজার, কালচার এন্ড ট্যুরিজম বিষয়ক কেবিনেট সদস্য কাউন্সিলর মিনারা খাতুন বলেন, “এ সিজন অব বাংলা ড্রামা কেবল একটি উৎসব নয়। গত ছয় দশকে ব্রিটেনে বাংলা গল্প ও নাট্যচর্চার জন্য জায়গা তৈরি করেছেন যেসব শিল্পী, আয়োজক এবং কমিউনিটির মানুষ, এই উৎসব তাঁদের অবদানকে সম্মান জানায়। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে।"

তিনি বলেন, “কৌতুক, নাটক, নৃত্যনাট্য, আবৃত্তি ও কথ্য কবিতা এবং ধ্রুপদি গল্পের সমসাময়িক পুনর্ব্যাখ্যাসহ নানা ধরনের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই আয়োজন আমাদের বহুভাষিক সংস্কৃতিকে উদ্‌যাপন করে। এর মাধ্যমে পূর্ব লন্ডনের বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের বাস্তব জীবন ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটে।”


মূল মঞ্চের নাটকগুলোর পাশাপাশি উৎসবের বিস্তৃত পার্শ্ব-আয়োজনেও দর্শকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। এসব আয়োজনের মধ্যে রয়েছে নাটক লেখা ও অভিনয়ের কর্মশালা, গল্প বলার অধিবেশন, দ্বিভাষিক কবিতা কর্মশালা, ফ্যাশন ইলাস্ট্রেশন, ঐতিহ্যবিষয়ক পদযাত্রা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, শিল্পকলা ও হস্তশিল্পের কর্মশালা, কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, উন্মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অংশগ্রহণের উপযোগী সৃজনশীল কার্যক্রম।

উৎসবের অনেক অনুষ্ঠান বিনামূল্যে উপভোগ করা যাবে। কিছু অনুষ্ঠানে দর্শকেরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দিতে পারবেন। এর মাধ্যমে আয়োজকেরা বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক পটভূমির মানুষের জন্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সহজলভ্য রাখার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

১ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই মাসব্যাপী আয়োজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সৃজনশীলতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলা নাটকের নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাজ উপভোগ করার সুযোগ করে দেবে।

অনুষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ সূচি, স্থান, সময় এবং টিকিট বা বুকিং-সংক্রান্ত তথ্য জানতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ওয়েবসাইট দেখুন: A Season of Bangla Drama

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

হাউস অব লর্ডসে হোমলেস পোভার্টি রিলিফ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু

প্রকাশিত :  ১৮:১০, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

গৃহহীন ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বিতা অর্জনে কাজ করবে নতুন এই ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, লন্ডন: গৃহহীন ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরু করেছে নতুন সংগঠন ‘হোমলেস পোভার্টি রিলিফ ফাউন্ডেশন’। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী হাউস অব লর্ডসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে আতিথ্য প্রদান করেন ব্যারোনেস উদ্দিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। গৃহহীনতা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় পরিকল্পিত, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশনের যাত্রাকে স্বাগত জানান অতিথিরা।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, ক্রয়ডনের সাবেক কাউন্সিলর ও মেয়র শেরওয়ান চৌধুরী অনুষ্ঠানে সংগঠনটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গৃহহীন মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁদের বাস্তব সমস্যা, প্রয়োজন ও প্রতিকূলতা সম্পর্কে তাঁর গভীর উপলব্ধি তৈরি হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করেছে, যা গৃহহীন মানুষের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বিতা অর্জনে সহায়তা করবে।

ফাউন্ডেশনটির মূল লক্ষ্য হলো, গৃহহীন মানুষকে সংকটময় পরিস্থিতি থেকে বের করে এনে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে সহায়তা করা। এ লক্ষ্যে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান এবং স্বাধীনভাবে জীবন পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শেরওয়ান চৌধুরী বলেন, পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের ধারণা বিকশিত হয়। এ ক্ষেত্রে ডা. রফিকুল হায়দারসহ কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়।

তিনি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ, সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনা ও সাংগঠনিক উন্নয়নের জন্য গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রয়েছেন রফিকুল হায়দার, নিজামুল হক নোমজুল, রাফেল উদ্দিন, আবুল হুসাইন ও সাফওয়ান চৌধুরী।

অন্যদিকে, উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন টনি লেটস, এমবিএ; ইয়াওয়ার খান; ব্রিজ কালিয়া, জেপি; এবং কাউন্সিলর সদরুজ্জামান খান।

ব্যবস্থাপনা কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের পুলিশবিষয়ক মন্ত্রী ও এমপি সারাহ জোনস, এমপি নাতাশা আয়রনস এবং ডেপুটি লেফটেন্যান্ট কর্নেল রে উইলকিনসন।


এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার ক্যানসার হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাবাব উদ্দিন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দিন, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, গ্লোবাল জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব এবং দৈনিক জনমত-এর সাবেক সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, এল বি২৪ এর ম্যানেজিং এডিটর সাংবাদিক আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, সাংবাদিক মাহবুব রহমান। বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এনামুল খান, মোহাম্মদ হক, এম রহমান, মুজিবুর রহমান ও ফারহানা আখতারসহ বিভিন্ন কমিউনিটি ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডা. আলী আসকার কোরেশী, আনোয়ার আলী মোল্লা, ক্রয়ডনের সাবেক মেয়র ও কাউন্সিলর অ্যালিসা ফ্লেমিং, সাব্বির করিম, লিটু খান, মুরতুজা চৌধুরী, ফজলে চৌধুরী, ফজলুর রহমান, রোহেমা চৌধুরী, সোফিয়া হায়দার, ডা. ইয়াসির চৌধুরী, নাজিয়া চৌধুরী, নাসের চৌধুরী, মহসিন মিয়া, শাহনুর চৌধুরী ও আমারা চৌধুরীসহ অনেকে।

বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ গৃহহীনতা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে ডা. রফিকুল হায়দার ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যক্রমের ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি সংগঠনটির কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নির্ধারণ এবং টেকসই সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এ সময় শেরওয়ান চৌধুরী একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে গৃহহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনের পরিকল্পিত ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। এর লক্ষ্য হলো, মানুষের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি তাঁদের জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাধীনভাবে জীবন পরিচালনার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস ও বাস্তব সহায়তা নিশ্চিত করা।

ফাউন্ডেশনটি এ লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

সমাপনী বক্তব্যে শেরওয়ান চৌধুরী ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগ্রহী সবার প্রতি তাঁদের মতামত, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গৃহহীন মানুষের জীবন পুনর্গঠন এবং তাঁদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। যথাযথ সহায়তার সুযোগ তৈরি, পুনর্বাসন এবং মানুষের মর্যাদা ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় ফাউন্ডেশনটি দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে চায়।

হাউস অব লর্ডসে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল। মানবিক মূল্যবোধ, বাস্তবভিত্তিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে গৃহহীনতা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় অর্থবহ অবদান রাখাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।


কমিউনিটি এর আরও খবর