img

বৃটেনের নিউপোর্টে কেল্টিক ট্রাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৬:১৪, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বৃটেনের নিউপোর্টে কেল্টিক ট্রাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

উনবিংশ শতাব্দীতে তথা ১৮৬০ এর দশকে  ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তাদের  উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভারতের মাটিতে প্রথমে \"পুনা\" নামে পরবর্তীতে  ১৮৭৩ সালে ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার পর এর নামকরণ করা হয় \'ব্যাডমিন্টন\'। 

 ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া  বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এই ব্যাডমিন্টন এখন জাতীয় খেলায় পরিনত হয়েছে। 

ওয়েলস এর নিউপোর্ট শহরের মেলোনিয়াম সেন্টারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায়  ও উৎসবমুখর পরিবেশে কেল্টিক টাইগার্স স্পোর্টস ক্লাব এর সার্বিক ব্যাবস্থাপনায়  ৩০ শে অক্টোবর বৃটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আগত ৪০ টি টিমের অংশগ্রহণে ব্যাডমিন্টন টুনামেন্ট ২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সকাল ১২ টা থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দলগুলো একের পর এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে মুখোমুখি হয়। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের অসাধারণ নৈপুণ্য এবং নিখুঁত শট টুর্নামেন্টকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

ক্রীড়া সংগঠক ও বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী  মাবস নূর  এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অতিথি গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র  প্রেসিডেন্ট ও  ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান  মোহাম্মদ মকিস মনসুর,  নিউপোর্ট এর কাউন্সিলার সাহেদ আদনান, ওয়েলস এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ডাইভার্সিটি স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং ওয়েলস কাউন্সিল ফর ভলান্টারি অ্যাকশনের ন্যাশনাল স্পোর্টস ডাইভারসিটি ম্যানেজার রাজমা বেগম,কিড কেয়ার ফর ইউ\'র প্রতিষ্ঠাতা রুসনা বেগম, কিডফুডস ও মাস বাজারের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী সামসুন নাহার খোলি, এস ডাব্লিউ বি এর চেয়ারম্যান ও কেল্টিক ট্রাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের বোর্ড পরিচালক জিতু মিয়া এবং নিউপোর্ট মহিলা সংগঠনের সভানেত্রী আনোয়ারা বেগম, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র  সাউথ ওয়েলস রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রকিবুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মুখতার আহমেদ, সৈয়দ কাহের, শাহজাহান তালুকদার শাওন, এনামুল হোসেন সুয়েব ও  আজম সবুজসহ অন্যান্য  অতিথি,  ক্লাব কমকর্তা ও পরিচালকবৃন্দ চ্যাম্পিয়ান, রানার্স আপ ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের হাতে ক্রেষ্ট ও পুরুস্কার তুলে দেন। 

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টকে উৎসাহিত করেন সায়েম চৌধুরী, শাহ শাফী, আব্দুর রউফ তালুকদার, ফখরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, ফয়সল রহমান, সায়দুল ইসলাম, আদিল হুসেইন, কামিল আহমেদ, নাজমুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম, মাসুম কামালি, আতিকুল ইসলাম, সাজেল আহমেদ,  ও বদরুল ইসলাম রিপনসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বৃটেনের কার্ডিফ থেকে সাংবাদিক বদরুল হক মনসুর জানান, টুর্নামেন্ট আয়োজনে কেল্টিক ট্রাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের সঙ্গে বিশেষ সহযোগিতা করে সাউথওয়েস্ট অ্যান্ড ওয়েলস ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন ইউকে (SWBA)। 

টুর্নামেন্টের ডিডি (D/D) বিভাগে নিউপোর্ট ও উইল্টশায়ারের সাঈদ ও সুফি জুটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ব্রিস্টল ও প্লাইমাউথের নূর ও মুহিত জুটি রানার্স-আপ হয়। এ বিভাগে সেমিফাইনালে খেলেন রিডিং ও ইস্টবোর্নের সামন ও আলী এবং সুইন্ডনের ফরহাদ ও শাহান জুটি।

ইই/ইই* (E/E*) বিভাগে প্লাইমাউথের নাহিদ ও রানা জুটি চ্যাম্পিয়ন হয়। একই শহরের রস ও মনজু জুটি রানার্স-আপ হয়। এ বিভাগে সেমিফাইনালে অংশ নেন বোর্নমাউথের খালিদ ও ইমরান এবং প্লাইমাউথের সাইদুল ও নূর জুটি।

খেলাধুলার সংস্কৃতির মাধ্যমে কমিউনিটির মানুষকে একত্রিত করা এবং একতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।  এই উদ্দ্যোগ আগামীতে ও অব্যাহত থাকবে বলে কেল্টিক টাইগার্স স্পোর্টস ক্লাব এর কমকর্তাবৃন্দ প্রতিশ্রুতি ব্যাক্তসহ  অনুষ্ঠানের খাবার প্রস্তুত করার জন্য নিউপোর্টের কলকাতা রেস্টুরেন্টকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি, সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, খেলোয়াড়, অতিথি ও সহযোগী সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।

গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র  প্রেসিডেন্ট ও একাটুনা প্রতিভা যুব সংঘ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ মকিস মনসুর সহ আমন্ত্রিত অতিথিরা বৃটেনের নিউপোর্টে কেল্টিক ট্রাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের কমকান্ডের  ভূয়শী প্রশংসা করে  আজকের ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ২০২৬ এর  বিজয়ীদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, খেলাধুলা এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা বয়স, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে একত্রিত করে। খেলাধুলা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, দলগত ঐক্য, আত্মবিশ্বাস এবং সর্বোপরি ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয় বলে অতিথিরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। 

কমিউনিটি এর আরও খবর

৬৮ বছর পর লাইমহাউজ প্লে-গ্রাউন্ডে আবারো খুলে দেওয়া হচ্ছে গালিভার ভাস্কর্যটি

img

লন্ডনের বিস্মৃত ‘গালিভার’ আবার ফিরছে শিশুদের খেলার মাঠ হিসেবে

প্রকাশিত :  ২১:১৫, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক জনাথান সুইফটের কালজয়ী রচনা গালিভারস ট্রাভেলস-এর ৩০০তম বার্ষিকী উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনে গালিভারের ঐতিহাসিক ভাস্কর্যটি আবারো খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্ট এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে ভাস্কর্যটি লাইম হাউসের লকসলি এস্টেটের প্লে-গ্রাউন্ডে আবারও শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

ভাস্কর ট্রেভর টেন্যান্ট নির্মিত এই শিল্পকর্মটি মূলত একটি বড় শিশু পার্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। বিশালাকৃতির গালিভার ভাস্কর্যের ওপর উঠে খেলা, দোল খাওয়া, স্লাইড করা এবং লুকোচুরির আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পেত শিশুরা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। বালুময় খেলার স্থানটি হারিয়ে যায় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ভাস্কর্যটি ঘিরে রাখা হয়।



লন্ডনের লাইমহাউজের লকসলি এস্টেটে অবস্থিত এই ভাস্কর্যটি উদ্বোধনের ৬৮ বছর পর আবারও শিশুদের জন্য প্রাণ ফিরে পাবে। একই সঙ্গে লন্ডনের যুদ্ধ-পরবর্তী জনশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও নতুন করে আলোচনায় আসবে। সে সময়ে লন্ডন কাউন্টি কাউন্সিলের ‘পেট্রোনেজ অব দ্য আর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন আবাসন এলাকায় ৭০টিরও বেশি শিল্পকর্ম স্থাপন করা হয়েছিল।

প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীরা পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করবে এবং গালিভারস ট্রাভেলস  অবলম্বনে সৃজনশীল কর্মশালায় অংশ নেবে। হেরিটেজ অব লন্ডনের ‘প্রাউড প্লেসেস’ কর্মসূচির আওতায় সাহিত্য, শিল্প ও স্থানীয় ইতিহাসের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়ানো ব্যক্তিরা: হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্ট ও টাওয়ার হ্যামলেটসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে লকসলি এস্টেট টেন্যান্টস অ্যান্ড রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান স্টিভ রাসেল (ডান দিক থেকে তৃতীয়)। বাম থেকে ডানে: ড. নিকোলা স্টেসি (পরিচালক), জাসমিন ফ্যারাম, ইফে ডেভিস (হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্ট), স্টিভ রাসেল (চেয়ারম্যান, লকসলি এস্টেট টেন্যান্টস অ্যান্ড রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন), শাহানারা আখতার এবং জিওফ ওয়ার্ড (টাওয়ার হ্যামলেটস)।


হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্টের পরিচালক ড. নিকোলা স্টেসি বলেন, “এই পুনরুদ্ধার প্রকল্প শুধুমাত্র একটি ভাস্কর্য মেরামতের বিষয় নয়। এটি শহরের একটি অনন্য ঐতিহ্যকে আবার স্থানীয় কমিউনিটির কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ। ভাস্কর ট্রেভর টেন্যান্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কল্পনা প্রবণ জনশিল্পের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন। আমরা আশা করি, এটি নতুন প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে এটি ইতিহাস, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার প্রতি আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।”

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এই প্রকল্প আমাদের কাউন্সিল এস্টেটগুলোতে বিনিয়োগ এবং নেইবারহুড গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির অংশ, যেখানে বাসিন্দারা আরো বেশি সুবিধা ভোগ করতে পারেন। গালিভারকে পুনরায় খুলে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা একটি প্রিয় কমিউনিটি স্থানকে আবারও ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছি, যাতে স্থানীয় শিশুরা খেলতে, অনুসন্ধান করতে এবং সৃজনশীলতা বিকাশের অনন্য সুযোগ পায়।”



মেয়র আরো বলেন, \'\'আমরা হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্ট-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করতে পেরে গর্বিত। এর মাধ্যমে যেমন আমাদের বারার গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বিনিয়োগ করা হবে। এ ধরনের প্রকল্প দেখিয়ে দেয়, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে এবং আমাদের এস্টেটগুলোকে সব বয়সী মানুষের জন্য প্রাণবন্ত আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। গালিভার ট্রাভেলস- এর ৩০০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই অসাধারণ ভাস্কর্যটি নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের অনুপ্রাণিত করতে যাচ্ছে, যা সত্যিই আনন্দের বিষয়।\"


কমিউনিটি এর আরও খবর