img

হাউস অব লর্ডসে হোমলেস পোভার্টি রিলিফ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু

প্রকাশিত :  ১৮:১০, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

হাউস অব লর্ডসে হোমলেস পোভার্টি রিলিফ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু

গৃহহীন ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বিতা অর্জনে কাজ করবে নতুন এই ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, লন্ডন: গৃহহীন ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরু করেছে নতুন সংগঠন ‘হোমলেস পোভার্টি রিলিফ ফাউন্ডেশন’। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী হাউস অব লর্ডসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে আতিথ্য প্রদান করেন ব্যারোনেস উদ্দিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। গৃহহীনতা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় পরিকল্পিত, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশনের যাত্রাকে স্বাগত জানান অতিথিরা।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, ক্রয়ডনের সাবেক কাউন্সিলর ও মেয়র শেরওয়ান চৌধুরী অনুষ্ঠানে সংগঠনটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গৃহহীন মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁদের বাস্তব সমস্যা, প্রয়োজন ও প্রতিকূলতা সম্পর্কে তাঁর গভীর উপলব্ধি তৈরি হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করেছে, যা গৃহহীন মানুষের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বিতা অর্জনে সহায়তা করবে।

ফাউন্ডেশনটির মূল লক্ষ্য হলো, গৃহহীন মানুষকে সংকটময় পরিস্থিতি থেকে বের করে এনে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে সহায়তা করা। এ লক্ষ্যে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান এবং স্বাধীনভাবে জীবন পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শেরওয়ান চৌধুরী বলেন, পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের ধারণা বিকশিত হয়। এ ক্ষেত্রে ডা. রফিকুল হায়দারসহ কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়।

তিনি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ, সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনা ও সাংগঠনিক উন্নয়নের জন্য গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রয়েছেন রফিকুল হায়দার, নিজামুল হক নোমজুল, রাফেল উদ্দিন, আবুল হুসাইন ও সাফওয়ান চৌধুরী।

অন্যদিকে, উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন টনি লেটস, এমবিএ; ইয়াওয়ার খান; ব্রিজ কালিয়া, জেপি; এবং কাউন্সিলর সদরুজ্জামান খান।

ব্যবস্থাপনা কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের পুলিশবিষয়ক মন্ত্রী ও এমপি সারাহ জোনস, এমপি নাতাশা আয়রনস এবং ডেপুটি লেফটেন্যান্ট কর্নেল রে উইলকিনসন।


এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার ক্যানসার হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাবাব উদ্দিন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দিন, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, গ্লোবাল জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব এবং দৈনিক জনমত-এর সাবেক সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, এল বি২৪ এর ম্যানেজিং এডিটর সাংবাদিক আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, সাংবাদিক মাহবুব রহমান। বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এনামুল খান, মোহাম্মদ হক, এম রহমান, মুজিবুর রহমান ও ফারহানা আখতারসহ বিভিন্ন কমিউনিটি ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডা. আলী আসকার কোরেশী, আনোয়ার আলী মোল্লা, ক্রয়ডনের সাবেক মেয়র ও কাউন্সিলর অ্যালিসা ফ্লেমিং, সাব্বির করিম, লিটু খান, মুরতুজা চৌধুরী, ফজলে চৌধুরী, ফজলুর রহমান, রোহেমা চৌধুরী, সোফিয়া হায়দার, ডা. ইয়াসির চৌধুরী, নাজিয়া চৌধুরী, নাসের চৌধুরী, মহসিন মিয়া, শাহনুর চৌধুরী ও আমারা চৌধুরীসহ অনেকে।

বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ গৃহহীনতা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে ডা. রফিকুল হায়দার ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যক্রমের ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি সংগঠনটির কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নির্ধারণ এবং টেকসই সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এ সময় শেরওয়ান চৌধুরী একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে গৃহহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনের পরিকল্পিত ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। এর লক্ষ্য হলো, মানুষের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি তাঁদের জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাধীনভাবে জীবন পরিচালনার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস ও বাস্তব সহায়তা নিশ্চিত করা।

ফাউন্ডেশনটি এ লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

সমাপনী বক্তব্যে শেরওয়ান চৌধুরী ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগ্রহী সবার প্রতি তাঁদের মতামত, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গৃহহীন মানুষের জীবন পুনর্গঠন এবং তাঁদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। যথাযথ সহায়তার সুযোগ তৈরি, পুনর্বাসন এবং মানুষের মর্যাদা ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় ফাউন্ডেশনটি দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে চায়।

হাউস অব লর্ডসে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল। মানবিক মূল্যবোধ, বাস্তবভিত্তিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে গৃহহীনতা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় অর্থবহ অবদান রাখাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যাপক আবুল হাশেমকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানালো বৃটেনের বাঙালি কমিউনিটি

প্রকাশিত :  ১৭:২১, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাসহ যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শোক প্রকাশ

মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, কিন্তু রেখে যায় তার কর্ম, আদর্শ ও অসংখ্য স্মৃতি। মানুষ মরণশীল—আজ হোক কিংবা কাল, প্রত্যেককেই একদিন মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু কিছু মানুষের জীবন ও কর্ম এমন গভীর ছাপ রেখে যায়, যা তাঁদের মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে স্বাধীনতার সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বর্তমান  সহ-সভাপতি ও সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক, যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে স্বাধীনতার সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক শ্রদ্ধাভাজন অধ্যাপক আবুল হাশেমকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানালো বৃটেনের বাঙালি কমিউনিটি।

দীর্ঘ ৫ যুগের বেশী সময় ধরে অধ্যাপক  আবুল হাশেম যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে কাজ করে আসছিলেন, যার ফলে কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের সাথে তার একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে পুরো মৌলভীবাজার জুড়েই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

২৪ শে অক্টোবর শনিবার সকাল থেকেই  ঘুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে অধ্যাপক আবুল হাশেমকে শেষ শ্রদ্ধা ও শোক জানাতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব সহ বৃটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আগত রাজনৈতিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সর্বস্তরের  জনতার উপস্থিতিতে এক শোকাবহ ও আবেগঘন পরিবেশে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মরহুমের জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ব্রিকলেন সেন্ট্রাল মসজিদের ঈমাম ও খতীব মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম। পরে লন্ডনের এটারনেল গার্ডেনস কবরস্থানে তাঁর সমাধিত করা হয়।

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাশেমের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মরহুমের জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, \"জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত আবুল হাশেম ছাত্রজীবন থেকেই যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাঙালি সমাজকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সংগঠিত করতে এবং দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় দীর্ঘদিন নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাজ্যে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এবং যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারালেন এবং আমি হারালাম একজন অভিভাবকতুল্য শুভাকাঙ্ক্ষীকে।\" 

প্রয়াত আবুল হাশেম মুক্তিযুদ্ধকালে প্রবাসে জনমত গঠনে অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ ও দক্ষ সংগঠকের অভাব পূরণ হবার নয়, দেশের বর্তমান সংকটকালে তাঁকে অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল। যুক্তরাজ্যের একজন প্রবীণ ও শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে দেশ ও দলের জন্য অধ্যাপক আবুল হাশেমের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের অবদানকে তিনি  কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। 

এদিকে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব জালাল উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, সাবেক মন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক মেয়র আনোয়ার উজ্জামান চৌধুরী, সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব শামসুদ্দিন খাঁন,বর্তমান সহ সভাপতি হরমুজ আলী, সহ সভাপতি শাহ আজিজুর রহমান, সহ সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মাষ্টার, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নঈম উদ্দিন রিয়াজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ চৌধুরী, ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ একযুক্ত শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ ও শোকাবহ পরিবারবর্গ এর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন সহ মহাণ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেনো উনাকে জান্নাতবাসী করেন এই দোয়া করার জন্য দেশে বিদেশের সবার প্রতি বিনীতভাবে অনুরুধ জানিয়েছেন। 

এই সংকটকালীন সময়ে তাঁর মতো গুণী ও সুহৃদ মানুষের চলে যাওয়ায় আমরা মর্মাহত। তিনি ছিলেন একজন ত্যাগী, অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ, বিনয়ী, শিক্ষিত ও আদর্শবান রাজনৈতিক সংগঠক। দুঃসময়ে তিনি শক্ত হাতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন। 

ত্যাগ, সংগ্রাম আর ভালোবাসায় তিনি প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। 

এদিকে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য  ওয়েলস আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ মকিস মনসুর ও সাধারণ সম্পাদক  আব্দুল মালিক সহ  অন্যান্য শাখা কমিটির  নেতৃবৃন্দ একযুক্ত  শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ ও শোকাবহ পরিবারবর্গ এর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন সহ মরহুম এর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, প্রবাসে স্বাধীনতার সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা, আমাদের পরম শ্রদ্ধেয়, সদাহাস্যোজ্জ্বল অধ্যাপক আবুল হাসেম ভাইয়ের মৃত্যুতে আমরা একজন অভিজ্ঞ অভিভাবককে হারালাম। তাঁর মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ ও প্রাণবন্ত মানুষের প্রস্থানে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।

এছাড়া ও  যুক্তরাজ্য আওয়ামী যুবলীগ এর সভাপতি ফখরুল ইসলাম মধু, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমেদ খাঁন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ খাঁন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী যুবলীগ ওয়েলস শাখার সভাপতি ভিপি সেলিম আহমেদ ও সাধারন সম্পাদক মফিকুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সভাপতি তামিম আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নিহাল হাসান সজিব ভূইয়া, ও সিনিয়র সহ সভাপতি এম আক্তার উজ্জামান খাঁন জাকির, যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগ ওয়েলস শাখার  সভাপতি মোহাম্মদ বদরুল হক মনসুর ও সাধারন সম্পাদক  শাহজাহান তালুকদার শাওন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক আবুল হাশেম ভাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাবহ পরিবারবর্গ এর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বলেছেন আমাদের চোখে তিনি বিনয়ী , নিপাট পরিপাটি, অসাধারণ ব‍্যক্তিত্বের অধিকারী একজন মানুষ।মহাণ আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন এই দোয়া করার জন্য সবার প্রতি বিনীতভাবে অনুরুধ জানিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার, গালিবপুর ইউনিয়নের চানহাটি গ্রামের কৃতিময় পুরুষ অধ্যাপক আবুল হাশেম চিকিৎসাধীন অবস্থায়  লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে গত ২৩ শে অক্টোবর শুক্রবার লন্ডন সময় রাত ১২: ১০ মিনিটের সময় মৃত্যুবরণ করেছেন।( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৮ বছর। মৃত্যুকালে স্ত্রী  ও  ২ মেয়ে নাতি নাতনী সহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য বন্ধু-আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী-সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সভাপতি, পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অবদান ছিলো অনন্য। তিনি ছিলেন একজন ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শবান রাজনৈতিক সংগঠক। 



কমিউনিটি এর আরও খবর