img

টাওয়ার হ্যামলেটসে পুলিশের অভিযানে ৬ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের নকল পণ্য ও স্কুল থেকে চুরি হওয়া পাঁচটি ল্যাপটপ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৫:৫৪, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসে পুলিশের অভিযানে ৬ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের নকল পণ্য ও স্কুল থেকে চুরি হওয়া পাঁচটি ল্যাপটপ উদ্ধার

মোবাইল ফোন-সম্পর্কিত অপরাধ, চুরি, মাদক সরবরাহ এবং অবৈধ ই-বাইক ব্যবহারের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে টাওয়ার হ্যামলেটসে ৬ হাজার পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের নকল পণ্য, একটি স্কুল থেকে চুরি হওয়া পাঁচটি ল্যাপটপ এবং একটি চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক, অবৈধ সিগারেট ও মাদক ব্যবহারের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অবৈধ ই-বাইক ও স্কুটার ব্যবহারের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে মোবাইল ফোন-সম্পর্কিত অপরাধ দমনে দেশব্যাপী পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব কার্যক্রম চালানো হয়। এতে অংশ নেয় টাওয়ার হ্যামলেটসের নেবারহুড পুলিশিং টিম। তাদের সহযোগিতা করেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের রেগুলেটরি সার্ভিসেস বিভাগের ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস কর্মকর্তারা।

অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দৃশ্যমান টহল জোরদার করে। পাশাপাশি সাদাপোশাকে সক্রিয় নজরদারি চালানো হয়, যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। মোবাইল ফোন ছিনতাই, অবৈধ ই-বাইক ব্যবহার এবং চুরি হওয়া বা অবৈধভাবে কেনাবেচা করা মোবাইল ফোনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ ও কাউন্সিলের ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস কর্মকর্তারা যৌথভাবে সেসব দোকান পরিদর্শন করেন, যেগুলো পুরোনো বা ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেনাবেচা করে। এসব পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল চুরি হওয়া ফোনের কেনাবেচা শনাক্ত করা এবং আইনবিরোধী ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি আগে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় এখনো শনাক্ত না হওয়া সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে।

অভিযান চলাকালে মোট ২৯টি দোকান পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ২৯১টি মোবাইল ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর পরীক্ষা করা হয়। আইএমইআই হলো প্রতিটি মোবাইল ফোন শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত একটি স্বতন্ত্র নম্বর, যা ফোনটি চুরি হওয়া কি না, তা যাচাই করতে সহায়তা করে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে একটি চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তদন্তের স্বার্থে আরও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো একটি স্কুলে চুরির ঘটনায় খোয়া যাওয়া পাঁচটি ল্যাপটপ উদ্ধার। একই সঙ্গে ৬ হাজার পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের নকল ও অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার ও জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোনের কভার ও অন্যান্য সরঞ্জাম, শিশুদের ব্যাকপ্যাক, কী-রিং, নিরাপত্তার মান পূরণ করে না এমন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ অ্যাডাপ্টার এবং অবৈধ তামাকজাত পণ্য। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ সিগারেটও জব্দ করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৬০টি প্যাকেটে মোড়ানো ক্লাস এ শ্রেণির মাদক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মাদক সরবরাহের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, একটি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ব্যবহারের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ওই দোকানের মালিকের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

অবৈধ ই-বাইক ও স্কুটার ব্যবহারের বিরুদ্ধে পরিচালিত পৃথক কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া গেছে। অভিযানে পাঁচটি ই-বাইক এবং একটি স্কুটার জব্দ করা হয়। এ-সংক্রান্ত ঘটনায় পাঁচজন চালকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া আগে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় আটজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাঁদের পরিচয় সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলোর তদন্তের সময় আগে জানা ছিল না। এই শনাক্তকরণ চলমান তদন্তে সহায়তা করতে পারে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুযোগ তৈরি করে।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ক্যাবিনেট মেম্বার ফর পাবলিক প্রোটেকশন এন্ড ইন্টেগ্রেটেড এনফোর্সমেন্ট কাউন্সিলর কবির আহমেদ বলেন, “আমাদের বরোতে যারা অপরাধ করে, তাদের বিচারের আওতায় আনা নিশ্চিত করতে আমরা পুলিশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করি। এই অভিযানে চমৎকার ফলাফলের জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে ধন্যবাদ জানাই।”

পুলিশ ও কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই যৌথ অভিযান স্থানীয় এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধ, অবৈধ পণ্যের বাণিজ্য শনাক্তকরণ এবং জননিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। মোবাইল ফোন ছিনতাই ও চুরি হওয়া ফোনের কেনাবেচা থেকে শুরু করে মাদক সরবরাহ এবং অবৈধ ই-বাইক ব্যবহারের মতো অপরাধ মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য, নিয়মিত টহল এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

প্রবাসীদের দাবি আদায়ে সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের যুক্তরাজ্য শাখার সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৮:০১, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩৭, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সিলেট প্রতিনিধি: প্রবাসীদের বিভিন্ন দাবি আদায় এবং সিলেট বিভাগের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ জনদাবি বাস্তবায়নের প্রত্যয় নিয়ে গঠিত সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার কার্যকরী পরিষদের পরিচিতি ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের নিউ রোডের একটি হলে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শাহ মুনিম। সাধারণ সম্পাদক সলিসিটর এস. ইয়াওর উদ্দিনের পরিচালনায় সভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ট্রেজারার মাহবুবুর রহমান কোরেশী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন।

শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সংগঠনের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ ও সৈয়দ মাওলানা তানিম আহমদ।

সভায় আলোচনায় অংশ নেন অ্যাকাউন্ট্যান্ট ডক্টর সানাওয়ার চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর ওসমান গনি, সাবেক স্পিকার আহবাব হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর মানিকুর রহমান গনি, সাংবাদিক রহমত আলী, সাবেক সিভিক মেয়র রহিমা রহমান, সাবেক কাউন্সিলর আয়েশা চৌধুরী, আব্দুল গফুর, সৈয়দ তাজির উদ্দিন মান্নান, মো. আব্দুল মুকিত, সাবেক কাউন্সিলর শাহেদ আলী, সাংবাদিক মোস্তাক আলী বাবুল, আনিছুর রহমান, কয়ছর আহমদ, অধ্যাপক মিসবাহ কামাল, সোয়েব আহমদ, কবির আহমদ, শাহিন চৌধুরী, শাহ আকিকুর রহমান মিজান, আবুল কালাম, রোকন চৌধুরী, কবি আবু হোসেন, সাংবাদিক খালেদ মাসুদ রনি, কাজী বাবর আহমদ, মো. মাহবুব খান, হাসিম আব্দুল্লাহ ও সেলিম খানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সভায় বক্তারা সিলেট বিভাগের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ জনদাবিগুলো তুলে ধরেন। এসব দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা।

একই সঙ্গে দাবি আদায়ের আন্দোলন আরও সুসংগঠিত ও জোরদার করার লক্ষ্যে সভায় বিভিন্ন সাবকমিটি গঠন করা হয়।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সংগঠনের কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে সিলেট বিভাগের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।


কমিউনিটি এর আরও খবর