img

১ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে সংস্কারের পর আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হল মাইল এন্ড জিম

প্রকাশিত :  ১৩:৩৭, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

১ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে সংস্কারের পর আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হল মাইল এন্ড জিম

সংস্কার কাজ শেষে বাসিন্দাদের ব্যবহারের জন্যে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে মাইলএন্ড পার্ক লেইজার সেন্টারের জিম। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা এখন আগের চেয়ে বড়, আধুনিক এবং সবার জন্য উপযোগী ফিটনেস সুবিধা উপভোগের সুযোগ পাবেন।

এতে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ড। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে পালস ফিটনেস-এর নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়েছে এবং ২৫ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে নতুন ফ্লোর বা মেঝে বসানো  হয়েছে। এছাড়া জিমের সরঞ্জামগুলোকে নতুন করে সাজানো হয়েছে, উন্নত-আলোকজ্জল লাইট এবং নতুন আয়না লাগিয়ে জিমকে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান এবং লিড মেম্বার মিনারা খাতুন মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্কার কাজ শেষ হওয়া মাইলএন্ড জিমটি আনুষ্ঠানিকভাবে বারার বাসিন্দাদের ব্যবহারের জন্যে খুলে দেন। পুনরায় খুলে দেওয়া উপলক্ষে, বি-ওয়েল সদস্যরা আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবার এবং ১ নভেম্বর, রবিবার তাদের বন্ধুদের বিনামূল্যে জিম ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে মাইল এন্ড জিমে ১২ বছরেরও বেশি পুরনো জিম সরঞ্জামগুলো সরিয়ে সেখানে কার্ডিওভাসকুলার, শক্তি বৃদ্ধি এবং ফাংশনাল ট্রেনিংয়ের জন্য আরও বিস্তৃত পরিসরের নতুন সরঞ্জাম বসানো হয়েছে। এই সরঞ্জামগুলো বাছাই করা হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদা এবং বর্তমান ফিটনেস পদ্ধতির সাথে মিল রেখে।

পালস ফিটনেস-এর সাথে কাউন্সিলের নতুন অংশীদারিত্বের ফলে বিদ্যমান জায়গাতেই আরও বেশি ট্রেনিং এবং স্টেশন যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে জিমের ব্যবহারযোগ্যতা বেড়েছে, ভিড় কমিয়েছে এবং সবার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশিক্ষণের পরিবেশ তৈরি করেছে।

নতুন সরঞ্জাম বসানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের জন্যে ডিসেবিলিটি ডিসক্রিমিনেশন অ্যাক্ট (ডিডিএ)-এর নীতিমালা অনুসরণ করে বসানো হয়েছে স্টেশন ও বিশেষ সরঞ্জাম এবং রাখা হয়েছে হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী রাস্তা। ফ্রি ওয়েট এবং  স্ট্র্যান্থ ট্রেনিং বা শক্তি বৃদ্ধির জোনগুলো এমনভাবে নতুন করে সাজানো হয়েছে, যাতে নারীসহ সকল ব্যবহারকারী, এমনকি যারা নতুন করে স্ট্র্যান্থ ট্রেইনিং শুরু করছেন যাতে তারাও এখানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

সম্প্রসারিত ফাংশনাল ট্রেনিং এলাকায় ছোট দলের সেশন, রিহেভিলিটেশন প্রোগ্রামস বা পুনর্বাসন কর্মসূচি  এবং যারা দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় শরীর চর্চা শুরু করছেন তাদের জন্য বাড়তি জায়গা রাখা হয়েছে, যা তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে সাহায্য করবে।

বি-ওয়েল -এর সদস্য ওলিউর রহমান বলেন, “আমি গত ২০ বছর ধরে এই জিমে নিয়মিত ব্যায়াম করছি, সপ্তাহে ছয় দিন এখানে আসি। তাই ফিটনেস আমার জীবনের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত ব্যায়াম আমাকে শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে শক্তিশালী এবং আবেগগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ রাখে। আর এই জিম আমাকে আমার স্বাস্থ্য ও ফিটনেস লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, অনুপ্রেরণা ও পরিবেশ জুগিয়েছে।”

“নতুন করে সাজানো এই জিমটি দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। এটি অত্যন্ত চমৎকার ও সুসজ্জিত একটি জায়গা, যেখানে স্থানীয় মানুষ তাদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার উন্নতি ঘটাতে পারেন। আমি অবশ্যই অন্যদের এখানে আসার পরামর্শ দেব।”

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেছেন, “অবসর যাপন বা বিনোদনমূলক সার্ভিসগুলোকে পুনরায় সরাসরি নিজেদের ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসার ফলে, বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ উন্নত করে এমন সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মসূচিতে আমরা আরও কার্যকরভাবে বিনিয়োগ করতে পারছি।”

মেয়র আরও বলেন, “আমরা চাই টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রতিটি মানুষ যেন উন্নতমানের ও সাশ্রয়ী এমন সব জায়গায় যাওয়ার সুযোগ পান, যেখানে তারা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে পারেন, তা তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় ব্যায়াম শুরু করেন, অথবা স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার পথে প্রথম পদক্ষেপটিই গ্রহণ করেন, যাই হোক না কেন।

“মাইল এন্ড -এর জিম সংস্কার করাটা আমাদের সামগ্রিক লেইজার বা বিনোদন সার্ভিস খাতে বিনিয়োগ কর্মসূচির একটি অংশ। অধিকাংশ বাসিন্দার জন্য বিনামূল্যে সাঁতার কাটার সুযোগ চালু করা থেকে শুরু করে পুরো বারা জুড়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন, যার মধ্যে রয়েছে মাইল এন্ডে সংস্কারকৃত ফুটবল মাঠ এবং হোয়াইটচ্যাপেলে নতুন সোউনা, আমরা উন্নত সার্ভিস প্রদান করছি এবং বাসিন্দাদের জন্য একটি সক্রিয় ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের আরও বেশি সুযোগ তৈরি করছি।”

লেইজার, কালচার এবং ট্যুরিজম বিষয়ক লিড মেম্বার কাউন্সিলর মিনার খাতুন বলেছেন, “এই বিনিয়োগের ফলে মাইল এন্ডের জিমটি একটি আধুনিক এবং সবার জন্য আন্তরিক ও সহজগম্য স্থানে পরিণত হয়েছে, যেখানে বাসিন্দারা তাদের ফিটনেস বা শরীর চর্চার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন এবং তাদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন। আমরা জানি যে, উচ্চমানের সুযোগ-সুবিধা মানুষকে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে, আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সত্যিই বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

“পুনরায় খুলে দেওয়া উপলক্ষে, সদস্যরা আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবার এবং ১ নভেম্বর, রবিবার তাদের বন্ধুদের বিনামূল্যে সঙ্গে নিয়ে আসতে পারবেন। এর ফলে আরও বেশি মানুষ নতুন এই জিমটি ঘুরে দেখার এবং এখানে কী কী উন্নয়ন হয়েছে তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।”

বি-ওয়েল মেম্বারশিপ বা সদস্যপদ সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য বি ওয়েল-এর ওয়েবসাইট (Mile End Park Leisure Centre and Stadium – Be Well in Tower Hamlets) ভিজিট করুন।

বন্ধুদের বিনামূল্যে সঙ্গে আনার এই সুযোগটি নিতে হলে, সদস্যদের তাদের মেম্বারশিপ নাম্বারটি তাদের অতিথিদের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে। এরপর অতিথিরা বুকিং লিঙ্কের মাধ্যমে নিবন্ধন করে পরিদর্শনের তারিখ নির্বাচন করতে পারবেন। এখানে সাইন আপ করুন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

লন্ডনে ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি: আইনের শাসন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৩:৪০, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

লন্ডন, ২৮ অক্টোবর: বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফ্রিডম ওয়াচ, ইউকের নেতৃবৃন্দ। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমন, বাক্‌স্বাধীনতা হরণ, শিশু অপহরণ ও ধর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং মব সন্ত্রাস বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে এসব ঘটনায় উদ্বেগ জানান বক্তারা।

‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি: আইনের শাসন’ শীর্ষক এ সেমিনার গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি হলরুমে বাংলাদেশ ফ্রিডম ওয়াচ, ইউকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ আলমের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফ আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

বক্তারা শিশু অপহরণ ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ, চাঁদাবাজি এবং মব সন্ত্রাসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি  মারজান আহমেদ ও রবিউল হাসনাত শাওন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ করীম রায়হান, অফিস সম্পাদক মো. আব্দুল কাদির, সহ-অফিস সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, প্রচার সম্পাদক মো. রাজু মিয়া, সহ-প্রচার সম্পাদক মো. জাহান আহমেদ, অর্থ সম্পাদক রাফি বিন কামাল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন এবং সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক জোবায়ের আহমেদ তানভীরসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সেমিনারে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব আলোচনায় উঠে আসে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


কমিউনিটি এর আরও খবর