img

দিরাইয়ে বিদ্যুতের লাইন থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে পুড়ল ১৫ বসতঘর

প্রকাশিত :  ০৮:৫০, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

 দিরাইয়ে বিদ্যুতের লাইন থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে পুড়ল ১৫ বসতঘর

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনে শর্টসার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫টি বসতবাড়ি পুড়ে গেছে। এতে ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, সার-কীটনাশক, বীজধান, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবাই কৃষিজীবী।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারালিয়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, পল্লী বিদ্যুতের মেইন পিলারে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রথমে একটি বসতঘরে আগুন লাগে। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে গ্রামের ১৫ জন কৃষকের বসতবাড়ি ও ঘরে থাকা প্রয়োজনীয় মালপত্র পুড়ে যায়। আগুনে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত ধান-চাল, বীজধান, সার-কীটনাশক, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দিরাই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বৈদ্যুতিক মেইন লাইন যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের প্রায় আধা ঘণ্টা পর দিরাই উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল হক বলেন, পল্লী বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জিব সরকার। এ সময় তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত তালিকা তৈরি করে সরকারিভাবে পুনর্বাসন ও সার্বিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সিলেটে চাচাকে হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে শিশুসন্তানসহ স্বামী-স্ত্রী ও বোন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৮:২১, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:২৩, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

সিলেটের বালাগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে চাচাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এসআরবি-৯ (সিলেট) ও এসআরবি-৭ (চট্টগ্রাম)-এর যৌথ দল চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন ব্রিকফিল্ড রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মুসলিমাবাদ এলাকার মৃত মির্জা ফরিদের ছেলে মির্জা টিটু (৩৫), টিটুর স্ত্রী সালমা বেগম (২৫) ও বোন মির্জা জেনি (৩৮)।

গ্রেপ্তারের সময় টিটু ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ছিল তাদের শিশু সন্তান। মা-বাবা দুজনই হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়ায় শিশুটির পরবর্তী দায়িত্ব কে নেবেন আদালত তা নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন এসআরবি কর্মকর্তা।

এসআরবি জানায়, গত ২৫ অক্টোবর সিলেটের বালাগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় খুন হন মির্জা আব্দুল লতিফ আবুল (৬৫)। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী লতিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লতিফকে মৃত ঘোষণা করেন। ​এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বালাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে এসআরবি-৯ (সিলেট) ও এসআরবি-৭ (চট্টগ্রাম)-এর যৌথ দল চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন ব্রিকফিল্ড রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

এসআরবি-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, এসআরবি-৭ ও এসআরবি-৯-এর যৌথ অভিযানে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় টিটু দম্পতির সঙ্গে তাদের শিশু সন্তানও ছিল। শিশুটির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবেন।

বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ তদফদার জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর এসআরবি-৭-এর সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে দুই ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের সিলেটে নিয়ে আসতে বালাগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সিলেটে আনার পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে শিশুটি সঙ্গে থাকলে তাকে দেখভালের জন্য পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের কাছে দেয়া হবে কি না এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর