img

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিকের মৃত্যু, মরদেহ ফিরল গোবিন্দগঞ্জে

প্রকাশিত :  ০৪:৪৩, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিকের মৃত্যু, মরদেহ ফিরল গোবিন্দগঞ্জে

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত তৌফিক শেখ (২১) মারা গেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার উত্তরার শিন-শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর স্বজনরা তাঁর মরদেহ নিয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তৌফিক শেখ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের দক্ষিণগড়িয়া গ্রামের মো. তৈয়বুর রহমানের ছেলে। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল গার্মেন্টস লিমিটেডে কাজ করতেন।

তাঁর ১২ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

তৌফিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজ আলম। তিনি জানান, মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। বুধবার সকাল ১০টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে পড়াশোনা ছেড়ে গাজীপুরে যান তৌফিক। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে লায়লা স্টাইল গার্মেন্টসে চাকরি নেন। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

গত কয়েকদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। ওই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তৌফিক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গত সোমবার আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হন তৌফিক।

পরে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

তৌফিকের বড় ভাই হারুন বলেন, ছোট ভাইয়ের মরদেহ নিয়ে তাঁরা গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন। বুধবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর

প্রকাশিত :  ০৯:২৬, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় কয়েকজন এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। তারা ওই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছেন বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ওই পুলিশ সদস্যের নাম মো. সাইমন। তিনি পল্লবী থানা থেকে সংঘর্ষস্থলে যাচ্ছিলেন।

হামলার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি এক পুলিশ সদস্যকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করছেন। এ সময় কয়েকজন তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘মিরপুর-১১ এলাকা থেকে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হলে তারা কালশীর দিকে সরে যান। ওই সময় পল্লবী থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা মিরপুর-১১-এর দিকে যাচ্ছিলেন। দলছুট অবস্থায় পেয়ে পল্লবী থানার কনস্টেবল সায়মনের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এছাড়া মিরপুর-১১ নম্বরে শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এদিন সকাল থেকে পল্লবী শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক অবস্থান নেন। এ সময় তাদের অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়।

পরে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকা পড়েন।

বাংলাদেশ এর আরও খবর