img

ডুয়েটে ভিসি ইস্যুতে রণক্ষেত্র, শিক্ষার্থী-বহিরাগত সংঘর্ষে আহত ১৫

প্রকাশিত :  ১০:০৬, ১৭ মে ২০২৬

ডুয়েটে ভিসি ইস্যুতে রণক্ষেত্র, শিক্ষার্থী-বহিরাগত সংঘর্ষে আহত ১৫

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আজ রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা শুরু হয়। পরে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে পুরো ক্যাম্পাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর জেলা পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হলে ওইদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ওইদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে তালা দেয়। 

এ ঘটনার পর রোববার সকালে শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলন শুরু করলে কিছু বহিরাগত লোকজন ভিসির পক্ষ নিয়ে ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। 

এদিকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভিন্ন। এর শিক্ষা ব্যবস্থা, বাস্তবতা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহিরাগত কাউকে না এনে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্য একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। ডুয়েটের শিক্ষক প্রতিনিধিরা এটিই চাইছে। 

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন জানান, ডুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে গত দুইদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চলমান রয়েছে। আজকে সকাল থেকেও সেটিই পুনরাবৃত্তি হয়েছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন। পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে তারা চেষ্টা করছেন। 

শিক্ষা এর আরও খবর

img

শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী

প্রকাশিত :  ০৫:৪৪, ০২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫০, ০২ জুলাই ২০২৬

সারাদেশে একযোগে দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী।

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।

প্রথম দিনে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। সারাদেশের দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে তারা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তা রক্ষা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা ব্যবহার করবেন বডি-ওর্ন ক্যামেরা। সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। এখান থেকে বাংলদেশের যে কোনো প্রান্তের কেন্দ্রের পরীক্ষা মনিটরিং করা যাবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত জনসাধারণের অনধিকার প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পুলিশ। 

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল ধরা পড়লে শুধু পরীক্ষার্থী নয়, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫। এছাড়া যোগাযোগের জন্য ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ ও ০১৭৫৬১০৩১৫২ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ই-মেইল ঠিকানা: [email protected]