img

বিশ্বকাপ শুরুর একদিন আগেই বড় জয় আর্জেন্টিনার

প্রকাশিত :  ০৭:৫৯, ১০ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ শুরুর একদিন আগেই বড় জয় আর্জেন্টিনার

বিশ্বকাপজয়ী দল আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ শুরুর একদিন হাতে রেখেই নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে । খেলার ৯০ মিনিট শেষে ৩-০ গোলের ব্যবধানে আইসল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিল দলটি।

গতকাল বুধবার (১০ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন হেয়ার স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল দলটি। প্রথমার্ধ শেষে মাঠে নেমেই মেসির পেনাল্টিতে ২-০ গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৭২ মিনিটে গোল পায় মেসি।

২-০ তে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা ৮৬ মিনিটে আবারও চেপে ধরে আইসল্যান্ডকে। এরপর থিয়াগো আলমাডার গোলে ৩-০ এগিয়ে যায় দলটি। তবে ম্যাচের শুরুটা আর্জেন্টিনার জন্য কিছুটা সতর্কবার্তা হয়ে এসেছিল। নিকো পাজের একটি আক্রমণ ব্যর্থ হওয়ার পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে যায় আইসল্যান্ড। এলার্টসন গোলের সামনে দারুণ সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা।

প্রাথমিক সেই ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় আর্জেন্টিনা। বলের দখল ধরে রেখে ধারাবাহিক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। অন্যদিকে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা আইসল্যান্ড পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় থাকলেও আর্জেন্টিনার উচ্চ প্রেসিং তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেয়নি।

গোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করেছিল আলবিসেলেস্তেরা। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে সবচেয়ে সক্রিয় ছিলেন নিকো পাজ। তার সৃজনশীল পাসিং ও গতিশীলতা বারবার আইসল্যান্ডের রক্ষণে অস্বস্তি তৈরি করেছে। এক পর্যায়ে লোপেসকে চমৎকার একটি পাস দিলেও সেখান থেকে গোল আসেনি। পরে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

মাঝেমধ্যে আইসল্যান্ডও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছে। ড্যানিয়েল লিও গ্রেতারসনকে লক্ষ্য করে লম্বা বল এবং থ্রো-ইনের মাধ্যমে চাপ তৈরির চেষ্টা দেখা গেছে তাদের খেলায়। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ছিল যথেষ্ট সুসংগঠিত। ফলে গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলিকে খুব বেশি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও আক্রমণের গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা। বাম প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে সিমিওনের নেওয়া শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক। এরপর নিকো পাজও বক্সের ভেতরে একটি সুযোগ পেলেও সফল হতে পারেননি।

প্রথম ৪৫ মিনিটে বলের দখল, আক্রমণের তীব্রতা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ- সব ক্ষেত্রেই স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধ শেষে মেসির মাঠে নামায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় দলটি। এরপরই প্রথমার্ধ শেষে মাঠে নেমেই মেসির পেনাল্টিতে ২-০ গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৭২ মিনিটে গোল পায় মেসি। এরপর থিয়াগো আলমাডার গোলে ৩-০ তে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।


খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

প্রকাশিত :  ১৬:১২, ০৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:২০, ০৯ জুন ২০২৬

অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক জয়। এর আগে ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে স্মরণীয় এক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপে রেকর্ড ছয়বারের শিরোপাজয়ী অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত সর্বোচ্চ ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। এছাড়া ৬৭ ও ৫৪ রান করে করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান করে। এরপর বৃষ্টির কারণে খেলা না হওয়ায় বাংলাদেশ ডিএলমেথডে ৮৬ রানে জয় লাভ করে।

এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। ২০২২ সালের ৫ আগস্টের পর ওয়ানডে খেলতে নেমে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মোসাদ্দেক ৭০ বলে ৭টি চার আর ৩টি ছক্কার সাহায্যে দলীয় সর্বোচ্চ ৮৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। তার বিধংসী ইনিংসের সুবাদে লড়াকু পুঁজি পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।

এছাড়া ৮৬ বলে ৯টি চার আর এক ছক্কার সাহায্যে ৬৭ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪৪ বলে ৭টি চার আর এক ছক্কায় ৫৪ রান করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন নাথান ইলস।  

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। অসি শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন বাংলাদেশ দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ। তার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ম্যাথিউ শর্ট। তিনি গোল্ডেন ডাক মারেন। ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হয়ে ফেরেন তিনি।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে দ্বিতীয় বলেই ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নামা মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান কাটারমাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা ক্রিকেটার লাবুশেন।

১০.১ ওভারে দলীয় ৫১ রানে ফেরেন অধিনায়ক জশ ইংলিস। তিনি নাহিদ রানার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন। তার আগে ২৫ বলে তিন বাউন্ডারিতে করেন ১৯ রান।

দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে ইনিংসের শুরু থেকে হাল ধরে রাখার চেষ্টা করেন কুপার কনোলি। তিনি দলীয় ৯১ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন। তার আগে ৫০ বলে ৫টি চার আর এক ছক্কায় ৩৫ রান করেন।

পঞ্চম উইকেটে ৩৭ রান জমা করেন অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন। তাদের কারণে একটা পর্যায়ে ৪ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ১২৮ রান। এরপর মাত্র ২৮ রানের ব্যবধানে ৫ ব্যাটসম্যানের আউট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৬২ বলে ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৭ রান করে ফেরেন অ্যালেক্স ক্যারি।  

১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া। দলের নিশ্চিত পরাজয় জেনেও শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নামা লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকে সঙ্গে নিয়ে শেষ চেষ্টা করে যান ক্যামেরন গ্রিন। বৃষ্টির আগে শেষ উইকেটে তারা ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন।

ক্যামেরন গ্রিন ৬৬ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থেকে দলের পরাজয়ের ব্যবধান কমান। বাংলাদেশ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন নাহিদ রানা। ২টি করে উইকেট নেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও মোস্তাফিজুর রহমান।