img

হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইরান

প্রকাশিত :  ০৬:০১, ০৬ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৪, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়বস্তু বা শর্ত সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাকেই বলেন, ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা মিলবে না। কারণ, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে নিরাপত্তা এখনও বিঘ্নিত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র  এবং ওমান এ প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে তেহরান হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, প্রণালিটি ‘খুব শিগগিরই’ খুলে না দেওয়া হলে ইরান ‘ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নৌপথটি পুনরায় চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। যদিও ইরান বরাবরই বলে আসছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না এবং এমন কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই ট্রাম্পের এ বক্তব্য সামনে এসেছে। উভয় দেশ ও মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে আলোচনায় প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ওমানের সঙ্গে ‘পথটির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাকেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার কারণগুলো এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ এবং অন্যান্য আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

পরে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী ইরনাকে বলেন, নতুন এ পথটি অস্থায়ী হবে। এটি দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত খোলা থাকতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালিটি দিয়ে নৌচলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতবিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো, প্রণালিটি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ইরানের হুমকি।

একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর পণ্যমূল্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি করছে। ওমান প্রায় ৩ শতাংশ শুল্ক নিয়ে আলোচনা করছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন কোনো শুল্কই চায় না।

রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এ চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপরও তেহরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে।

সূত্র : বিবিসি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

আলজাজিরার বিশ্লেষণ

img

হামলা করতে গিয়ে ইরানের ‘ফাঁদে’ ট্রাম্প, পিছু হটলেও ঘটবে চরম পরাজয়

প্রকাশিত :  ০৭:১৯, ০৭ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৪৪, ০৭ আগষ্ট ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে বিমান ও নৌবাহিনীর অভিযান প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার স্থলবাহিনী মোতায়েনের পথে যেতে পারেন বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবার্ট পেপ। ‘এসক্যালেশন ট্র্যাপ’ সাবস্ট্যাকের লেখক পেপের মতে, চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান বিবেচনা করতে পারে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রবার্ট পেপ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো আগামী কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেও স্থল অভিযান শুরু করবেন না। তবে তিনি এরই মধ্যে বিমান হামলার সীমাবদ্ধতা দেখে ফেলেছেন এবং প্রতিদিন তাকে এ বিষয়ে জানানোও হচ্ছে। 

নৌবাহিনীর সীমাবদ্ধতাও তার চোখে পড়েছে। সুতরাং, তার হাতে এখন কেবল একটি বাহিনীই বাকি আছে, আর তা হলো স্থলবাহিনী।

এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে পারে। তবে ট্রাম্পের হাতে এখন সংঘাত আরও বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প অবশিষ্ট নেই।

এই পরিস্থিতিকে ‘সংঘাত বিস্তারের ফাঁদ’ (এসক্যালেশন ট্র্যাপ) হিসেবে আখ্যায়িত করে পেপ বলেন, এটাই হলো সেই ফাঁদ—হয় তাকে ওই পথে (স্থল অভিযান) হাঁটতে হবে, নাহলে হার মানতে হবে। আর ট্রাম্প হার মানলে ইরান বিশ্বশক্তির চতুর্থ কেন্দ্রে পরিণত হবে। এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য হবে এক চরম পরাজয়। এর ফলে ইতিহাসে তার ভাবমূর্তি পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া এই সশস্ত্র সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। অপারেশন এপিক ফিউরি (Operation Epic Fury) নামে যুক্তরাষ্ট্রের এবং রোয়ারিং লায়ন (Roaring Lion) নামে ইসরাইলের এই যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে।

প্রথম দফার এই হামলায় ইরানের প্রায় চার দশকের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা নিহত হন। তবে এই হামলার সময় বন্দর আব্বাসের কাছে একটি নৌঘাঁটির পাশে অবস্থিত বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে প্রায় ১৭০ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরান সরকার দ্রুত তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপরই ইরান ভয়াবহ পালটা আক্রমণ শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন দূতাবাস, সামরিক স্থাপনা এবং ইসরাইলের দিকে ৬৫০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করে তেহরান। এই পালটাপালটি হামলায় ইরান, লেবানন, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। সংঘাতের জেরে লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যেও নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। 

এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার কারণে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে কড়া নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন।

টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল এবং জুনে একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে চরম মতবিরোধের জেরে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। বর্তমানে নতুন করে উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। বিমান ও নৌবাহিনী দিয়ে ইরানকে পুরোপুরি পরাস্ত করতে না পারায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন স্থলবাহিনী মোতায়েনের মতো চরম বিকল্প নিয়েও চিন্তাভাবনা করছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর