img

মদিনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হুতিদের হামলা, দাবি সৌদি জোটের

প্রকাশিত :  ০৭:১৯, ০২ অক্টোবর ২০২৬

মদিনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হুতিদের হামলা, দাবি সৌদি জোটের

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মঙ্গলবার মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীসহ (মসজিদ আন-নববী) আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে জোটটি।

জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার পর পরিচালিত তদন্ত এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হুতিদের হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন, দুই ক্ষেত্রেই হুতিরা জড়িত ছিল।

তবে হুতি পরিচালিত সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে সংগঠনটির সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সৌদি জোটের দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করে অভিযোগ করেছে, সৌদি আরব এর আগে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার যে অভিযোগ তুলেছিল, তার পক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি আড়াল করতেই নতুন এ দাবি করা হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা মুসলমানদের দুই পবিত্র মসজিদ মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববী, লক্ষ্য করে হুথিদের চালানো ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পবিত্র স্থান ও হাজি-ওমরাহ পালনকারীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সৌদি জোট।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের তাইজ গভর্নরেটে হুথিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। তাদের দাবি, হামলায় হুথি যোদ্ধাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

একই দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের আকাশে হুথিদের উৎক্ষেপণ করা চারটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া খামিস মুশাইত ও দক্ষিণাঞ্চলের জাজান শহরের আকাশে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে জোটটি।

সূত্র: আল জাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইয়েমেনি বাহিনীর হামলায় ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহতের দাবি

প্রকাশিত :  ০৫:৩০, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে গত কয়েক দিনে শত শত হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই এমন দাবি করেছে সরকারপন্থি বাহিনী। তবে নিহতের সংখ্যা বা হামলার দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি শনিবার বলেন, গত কয়েক দিনে হুথিদের অবস্থান, সামরিক তৎপরতা ও সক্ষমতা লক্ষ্য করে ২৫৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযান চালানো হয়েছে।

আল-নাজিলি বলেন, এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে।

তার দাবি, হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ১৭০টি সামরিক যান ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে।

তবে সরকারি বাহিনীর কতজন সদস্য হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। অন্যদিকে, হুথিরাও এসব হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।

আল-নাজিলি জানান, সানা, মিদি ও বাকিমসহ আল-জাওফ, মারিব, আল-বায়দা ও লাহিজের বিভিন্ন ফ্রন্টে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে তাইজ এলাকায়।

এর এক দিন আগে সরকারি বাহিনী দাবি করেছিল, ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযানে ১ হাজার ৫৪০ হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে।

সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর তাইজ গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহরের আশপাশে সরকারি বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক গোলাবর্ষণ চলছে। বিভিন্ন ফ্রন্টেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সংঘাতে বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন। ধুবাব এলাকায় একটি আবাসিক এলাকায় গোলার আঘাতে ছড়িয়ে পড়া ধাতব টুকরার আঘাতে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সরকারি বাহিনী আরও জানিয়েছে, তীব্র লড়াইয়ের পর তাইজের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সামা দুর্গের নিয়ন্ত্রণ তারা নিয়েছে।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাইজের আল-হুবান ক্রসিংও বন্ধ করে দিয়েছে ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি হুথিদের  নিয়ন্ত্রিত আল-হুবান এলাকার সঙ্গে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ শহরকে যুক্ত করেছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, তাইজে হুথি যোদ্ধাদের ঢোকার একটি চেষ্টা, ওই এলাকায় হামলা এবং সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে ক্রসিংটি বন্ধ করা হয়েছে।

মানবিক কারণে ২০২৪ সালে বেসামরিক মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার আগে ক্রসিংটি টানা নয় বছর বন্ধ ছিল।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর