img

ব্রিটেনের রাণীর নববর্ষের সম্মাননা খেতাবে ভূষিত হলেন ইমরান আহমেদ চৌধুরী

প্রকাশিত :  ০৬:৪৭, ০১ জানুয়ারী ২০২১
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫০, ০১ জানুয়ারী ২০২১

ব্রিটেনের রাণীর নববর্ষের সম্মাননা খেতাবে ভূষিত হলেন ইমরান আহমেদ চৌধুরী

জনমত ডেস্কঃ বুধবার ৩০ ডিসেম্বর রাতে ব্রিটেনের রাণীর পক্ষ থেকে সোসাইটিতে যারা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন, তাদেরকে নববর্ষের পদক এবং খেতাবে ভূষিত করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন নর্দাম্পটন বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট্য ব্যক্তিত্ব ইমরান চৌধুরী, যিনি ``ব্রিটিশ এম্পায়ার মেডেল'' ( বি ই এম ) এ ভূষিত হয়েছেন।

গত ১০ বছরের অধিক সময়কাল যাবত তার কম্যুনিটি কহিসন কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি এই সম্মাননা পেলেন । 

৬০ বছর বয়সী জনাব ইমরান চৌধুরী ইউ কে এবং দেশের বাইরে থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখা, সাংবাদিকতা, পাবলিক স্পিকিং, বিভিন্ন এথনিক এবং মেইন স্ট্রিম টিভিতে সমাজ উন্নয়ন প্রসঙ্গে কথা বলা, ব্রিটিশ বাংলাদেশি যুবক - যুবতীদের ব্রিটিশ আর্মি- নেভি - এয়ারফোর্স এবং পুলিশে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করা এবং এন্টি রেডিক্যালাইজেসন তথা এন্টি এক্সট্রিসম রোধ করার প্রয়াসে চ্যারিটেবল কর্মকাণ্ডের জন্য এই পদকে ভূষিত হয়েছেন । 

জনাব ইমরান ইউকের সর্বত্র তারই নিজের হাতে বানানো অর্গানাইজেশন 'সেন্টার ফর পলিসি, প্রমোশন এন্ড প্রিভেনশন' (www.c-ppp.org) এর মাধ্যমে গত ১০-১২ বছর যাবত নিরলসভাবে ক্যাম্পেইন করে যাচ্ছেন । তার এই অর্গানাইজেশন ব্রিটিশ হোম অফিসের `বি এস বি টি' প্রোজেক্টের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান - একমাত্র বাংলাদেশি পরিচালিত  অর্গানাইজেশন  । 

বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী জনাব চৌধুরী গত ত্রিশ বছর যাবত ব্রিটেনে বসবাস করছেন । বীর মুক্তিযোদ্ধা এ, ডি (বিডিআর - সমতুল্য পদবি- মেজর ) ফজলুল হক   চৌধুরীর পুত্র এবং ওনার অগ্রজ বাবুল ১৭ বছর বয়সী একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা যিনি পাকিস্তান বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে ইন্ডিয়াতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন। ১১ বছর বয়েসেই সে আগরতলা হাসপাতালে জয় বাংলা ওয়ার্ডে সেবক হিসেবে কাজ করেন তার ১৫ বছর বয়সী বোনের সাথে এবং আগারতলা শহরে ‘জয় বাংলা' পত্রিকা বিতরণ করেন এবং রিফ্যুজি ক্যাম্পের সাংস্কৃতিক দলের সাথে বিভিন্ন মুক্তি বাহিনী ক্যাম্পে  নাটক, গান, আবৃতি করেছেন ।

স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়েই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় - ঐ নয় মাসের অমানবিক জীবন যাপন একজন শরণার্থী হিসেবে উদ্বাস্তু জীবন যাপন, অনাহার, জীবনের ভয় এবং নিপীড়নই তাকে এই আজকের সমাজ সেবামূলক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করে । তাই তিনি সামাজিক কহিসন (সংহতি), সমাজ উন্নয়ন জাতিয় কর্মকাণ্ডে  সবসময় ব্যস্ত রাখেন নিজেকে। স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের মৌলিক বিষয় নিয়ে তিনি অনেক রিসার্চ এবং লেখালেখি করে থাকেন । তিনি বাংলা এবং  ইংলিশ উভয় ভাষায় লিখেন বিভিন্ন এথনিক এবং মেইনস্ট্রিম পত্র পত্রিকায়, তার লেখা ইউ কে, ইউএস এ, বাংলাদেশ ইন্ডিয়াতে সবসময় প্রকাশিত হয়ে থাকে । 

জনাব চৌধুরী এক সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং 'ল্যেফটেনান্ট' হিসেবে চাকরীরত ছিলেন সাড়ে পাঁচ বছর ।  

তিনি ২০১৩ সালে তার চ্যারিটি ফান্ড রেইজিং এবং কম্যুনিটি ওয়ার্ক এর জন্য পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন খেতাব ‘ফ্রিডম অফ সিটি অফ লন্ডন' এর মত মর্যাদাপূর্ণ উপাধিও লাভ করেন । 

সবার প্রিয়, অত্যন্ত মার্জিত, সদালাপী, নম্র এবং সকল সময় হাসস্যোজ্জল, কেতাদুরস্ত, রাশভারী সুবক্তা জনাব ইমরান চৌধুরীই সাথে এক সাক্ষাৎকারে, "সকল বাংলাদেশি ব্রিটিশদেরকে অনুরোধ করেন  যাতে করে তারা তার মত কম্যুনিটি উন্নয়নের কাজে যেন মনোনিবেশ করেন । যাতে করে বাংলাদেশি ভবিষ্যৎ জেনারেশন এই দেশে এবং সারা বিশ্বে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অবস্থান করতে পারে ।"

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

৪৫১ পরিবারের হাতে যাকাতের অর্থ তুলে দিল আরডিএফ গ্লোবাল

প্রকাশিত :  ০০:২১, ২৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৮, ২৬ মে ২০২৬

সিলেট ও জগন্নাথপুর, ২৫ মে ২০২৬: তিন মাস ধরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অসহায় মানুষদের খুঁজে বের করেছেন তাঁরা। তারপর সরাসরি তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন যাকাতের অর্থ। রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) গ্লোবালের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে সিলেটের চা বাগান এলাকা এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ৪৫১টি পরিবারের হাতে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ মে সিলেটের বুরজান, কালাগুল, চোরাগাং ও খাদিম চা বাগান এলাকায় প্রথম পর্বের বিতরণ সম্পন্ন হয়। সেদিন ২৩১টি পরিবারের ১২৫ জন পুরুষ ও ১০৬ জন নারী সদস্য এই সহায়তা পান। পরদিন ২৫ মে জগন্নাথপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে দ্বিতীয় পর্বে আরও ২২০টি পরিবারের মধ্যে অর্থ বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন ১৩০ জন পুরুষ ও ৯০ জন নারী।


আরডিএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দুটি দলের তিন মাসের নিরলস পরিশ্রম। দলের সদস্যরা একে একে প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় গেছেন, তাদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র নিজের চোখে দেখেছেন এবং সত্যিকারের অসহায়দের তালিকা তৈরি করেছেন। পণ্যের বদলে নগদ অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্তও সুচিন্তিত। কারণ প্রতিটি পরিবারের সংকট আলাদা - কেউ খাবারের কষ্টে, কেউ ওষুধের অভাবে, কেউ আবার ঋণের চাপে দিশেহারা। নগদ অর্থ তাদের নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয় এবং তাদের মর্যাদাকে সম্মান জানায়।

সিলেটের এই চা বাগান অঞ্চলের শ্রমিকদের দুর্দশা দীর্ঘদিনের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলোর দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭৭ টাকা, অর্থাৎ ব্রিটিশ মুদ্রায় এক পাউন্ডেরও কম। এই সামান্য আয়ে একটি পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়াই কঠিন, অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো তো সুদূরপরাহত।


কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন আরডিএফের চেয়ারম্যান তালহা চৌধুরী, কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুন নূর, আরডিএফ একাডেমির অধ্যক্ষ ও প্রজেক্ট অফিসার রাইয়ান আহমেদ এবং প্রজেক্ট অফিসার হানিফ আহমেদ ও মাসুম চৌধুরী। তাঁদের পাশে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আল আমিন, সুমন, সুজন, সামাদ, হেলাল, সুমান, জামিল, রাশেদ, মোস্তফা ও নুফায়েলসহ একদল স্বেচ্ছাসেবী।


আরডিএফ গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জুবের চৌধুরী বলেন, "শুধু অর্থ বিতরণ করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা চাই মানুষ তার নিজের মর্যাদা নিয়ে বাঁচুক। তাই প্রতিটি পরিবারকে আমরা সরাসরি নগদ অর্থ দিয়েছি, যাতে তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারেন কোথায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এই যাকাত শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক - দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে।"

তিনি আরও বলেন, "যাঁরা তাঁদের যাকাত আরডিএফের হাতে আমানত হিসেবে তুলে দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর যে স্বেচ্ছাসেবীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মাঠে নেমে এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানবতা এখনও জীবিত। আল্লাহ তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন।"

কমিউনিটি এর আরও খবর