img

আমরা সবাই বাংলাদেশি -রেজুয়ান আহম্মেদ

প্রকাশিত :  ০৮:১৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:২৭, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪

আমরা সবাই বাংলাদেশি    -রেজুয়ান আহম্মেদ

ডিসেম্বর—বিজয়ের মাস। প্রকৃতির মৃদু শীতল স্পর্শ যেন গোটা দেশকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই গৌরবোজ্জ্বল দিনগুলোর স্মৃতিতে। ১৬ ডিসেম্বর, একটি জাতির আত্মপ্রকাশের চূড়ান্ত অধ্যায়। মুক্তির জয়গানে মুখরিত হয়েছিল সাড়ে সাত কোটি মানুষের হৃদয়। একটি জাতি, একটি মানচিত্র, একটি পতাকা—সবকিছু যেন একত্রিত হয়ে জন্ম দিয়েছিল নতুন এক স্বপ্নের।

কিন্তু আজ, বিজয়ের ৫৩ বছর পরও, আমরা কি সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতার প্রকৃত মহিমা হৃদয়ে ধারণ করতে পেরেছি?

বিজয়ের দিনটি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু ৫৩ বছরের স্বাধীনতা যাত্রায় আমরা কি একাত্তরের সেই চেতনাকে ধরে রাখতে পেরেছি? "কে মুক্তিযোদ্ধা, আর কে রাজাকার?"—এই প্রশ্ন আজও আমাদের জাতীয় মননে একটি গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। একাত্তরে যেমন কোনো বিভাজন ছিল না, তেমনি আজও তা থাকা উচিত নয়। কিন্তু রাজনীতি, ধর্মীয় মতভেদ এবং পারস্পরিক দোষারোপ বারবার আমাদের জাতীয় অগ্রগতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

স্বাধীনতা কেবল একটি ভূখণ্ডের সীমানা নয়; এটি মানসিক মুক্তি। একদিন আমরা দেশপ্রেমের জন্য প্রাণ দিতে পেরেছিলাম। কিন্তু আজ কি আমরা সেই একই দেশপ্রেম অনুভব করতে পারি?

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কোন একক ব্যক্তির কৃতিত্ব ছিল না। এটি ছিল সাড়ে সাত কোটি মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। কৃষক তার জমি ছেড়ে অস্ত্র ধরেছিল, শ্রমিক তার হাতুড়ি রেখে বুলেট বহন করেছিল, শিক্ষার্থী তার বই রেখে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। প্রতিটি পেশার মানুষ নিজেদের কাজের মাধ্যমে অবদান রেখেছিল। কিন্তু আজ, আমরা কি সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছি?

যে জাতি একদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, সেই জাতি আজ কেন বিভাজিত? আমরা ভুলে গেছি যে আমাদের প্রথম পরিচয়—আমরা বাংলাদেশী।

আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং বৈষম্যহীন একটি সোনার বাংলার। একাত্তরের সেই আত্মত্যাগ সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নের জন্যই ছিল। কিন্তু আজও আমাদের চারপাশে ক্ষুধার্ত মানুষ, দরিদ্র কৃষক, বৈষম্যের শিকার শ্রমিকদের কষ্ট দেখে কি আমরা সত্যিই বলতে পারি যে আমরা মুক্ত?

আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু সেই অগ্রগতির সুফল কি সবার মাঝে পৌঁছেছে?

স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণের জন্য আমাদের প্রত্যেককেই নিজের কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশপ্রেম মানে শুধু পতাকা উত্তোলন নয়; দেশপ্রেম মানে নিজের কর্তব্য সততার সঙ্গে পালন করা।

জাতীয় ঐক্যের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠা। "আমরা সবাই বাংলাদেশী"—এই একটি পরিচয় যদি আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়, তবে জাতি হিসেবে আমরা উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারব।

ধর্ম, রাজনীতি এবং সামাজিক বিভাজন ভুলে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একজন কৃষকের জমির প্রতি ভালোবাসা, একজন শ্রমিকের পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা, একজন শিক্ষকের জ্ঞানের প্রতি আস্থা—যদি সব একত্রিত হয়, তবে একটি সোনার বাংলা গড়া সম্ভব।

একাত্তরের চেতনা ছিল ঐক্য ও আত্মত্যাগের। সেদিন যদি সাড়ে সাত কোটি মানুষ একসঙ্গে লড়তে পারে, তবে আজ কেন ১৮ কোটি মানুষ উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নে একত্রে কাজ করতে পারবে না?

আমাদের সমাজে যত পার্থক্যই থাকুক না কেন, আমরা সবাই এক জাতি, এক পতাকার নিচে। আমাদের এই সত্যটি হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

আজকের দিনে আমাদের একটি অঙ্গীকার করতে হবে—আমরা সবাই বাংলাদেশী। রাজনৈতিক মতভেদ, ধর্মীয় বিভাজন এবং সামাজিক বৈষম্যকে দূরে সরিয়ে আমাদের একমাত্র পরিচয় হবে—আমরা এই দেশের সন্তান।

যে জাতি একদিন ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছিল, সেই জাতি আজ উন্নত বিশ্বের কাতারে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছে।

একাত্তরের বিজয়ের চেতনা নিয়ে যদি আমরা একসঙ্গে কাজ করি, তবে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা আর দূরে থাকবে না। দেশকে ভালোবাসা মানে নিজের দায়িত্ব পালন করা। আমরা যদি এই দায়িত্ব পালন করি, তবে বিশ্ব আমাদের দিকে শ্রদ্ধার চোখে তাকাবে।

আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে অঙ্গীকার করি—আমরা সবাই বাংলাদেশী। সোনার বাংলার স্বপ্নপূরণে আমরা একসঙ্গে কাজ করব, যেমন একাত্তরে করেছিলাম। একদিন এই দেশ পৃথিবীর মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, আর আমরা সবাই গর্বিত কণ্ঠে বলব—"আমরা সবাই বাংলাদেশি।"


রেজুয়ান আহম্মেদ: কলামিস্ট, বিশ্লেষক; সম্পাদক অর্থনীতি ডটকম

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

প্রকাশিত :  ০৬:১৫, ১১ মে ২০২৬

ঢাকাসহ দেশের পাঁচ উপকূলীয় জেলার ওপর দিয়ে আজ দুপুরের মধ্যে অস্থায়ী দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর পুনঃ সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আজ সোমবার (১১ মে) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আজ সকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ সোমবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে।

এছাড়াও অপর পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলেও আভাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। প্রথম দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বৃষ্টির প্রভাবে সারা দেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে পরদিন থেকে আবার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।