img

মিয়ানমারে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ল

প্রকাশিত :  ০৯:৫৩, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫

মিয়ানমারে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ল

আরও ছয় মাসের জন্য বাড়ল মিয়ানমারে জরুরি অবস্থার মেয়াদ। দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের চার বছর পূর্তির একদিন আগে এ ঘোষণা দেয় ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সুচির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতাসীন হয়। এরপর থেকে দেশটি গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে। সম্প্রতি বিদ্রোহীরা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের জয় পাচ্ছে। দেশের অনেক এলাকা এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে।

এদিকে জান্তা বাহিনী এই বছর নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। সমালোচকরা বলছেন, প্রক্সির মাধ্যমে জেনারেলদের ক্ষমতায় রাখার জন্য একটি প্রহসন হতে পারে এ নির্বাচন। কারণ, সেনাবাহিনী ক্ষমতা ধরে রাখতে বহুবার জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে আবারও মেয়াদ বাড়ানো পরিস্থিতির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।

রাষ্ট্র পরিচালিত এমআরটিভি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে জরুরি অবস্থা বৃদ্ধির ঘোষণা প্রচার করে বলেছে, সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য এখনো আরও অনেক কাজ বাকি আছে। বিশেষ করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য স্থিতিশীলতা এবং শান্তি প্রয়োজন।

নির্বাচনের জন্য কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে জান্তা সরকার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। যদিও তারা দেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে ক্লান্ত। কারণ, তারা একাধিক ফ্রন্টে সশস্ত্র বিদ্রোহকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর শাসন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক সময় মিয়ানমারের অর্থনীতি আন্তর্জাতিক বাজারে একটি প্রতিশ্রুতিশীল শক্তি হিসেবে দেখা হলেও এখন তা ব্যাপক চাপে রয়েছে। সামরিক বাহিনী একাধিক ফ্রন্টে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করছে এবং দেশটির জনগণের ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে।


img

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তিক্ত পরাজয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন মোজতবা আলী খামেনি

প্রকাশিত :  ০৯:৪৩, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘নতুন ও তিক্ত পরাজয়’ উপহার দিতে তাঁর দেশের নৌবাহিনী প্রস্তুত। আজ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর এ বার্তা প্রচার করা হয়

ইরানের আর্মি ডে উপলক্ষে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ‘কুফর ও ঔদ্ধত্যের অগ্রভাগে থাকা দুই সেনাবাহিনী’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন-তাদের বিরুদ্ধে ইরানের লড়াই থামবে না।

টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানি সেনাবাহিনী শত্রুদের দুর্বলতা ও অপমান বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করে দিয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের ড্রোন ‘মার্কিন ও জায়নিস্ট অপরাধীদের ওপর বজ্রপাতের মতো আঘাত হানে’। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সাহসী নৌবাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে শত্রুদের ‘নতুন পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ’ দেওয়ার জন্য।

বার্তায় মোজতবা খামেনি চলমান যুদ্ধকে ইরানের বিপ্লবের ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দুটি ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ পেরিয়ে আজকের সংঘাত-সবই একই সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। বিপ্লবের পর থেকে ইরানি সেনাবাহিনী সবসময় তার ‘ন্যায্য অবস্থানে’ দাঁড়িয়ে দেশ রক্ষা করেছে।

সেনাবাহিনীকে তিনি ‘প্রকৃত অর্থে ইরানের সন্তান’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এই বাহিনী জনগণের হৃদয় থেকেই উঠে এসেছে। তার মতে, সেনাবাহিনী ও জনগণের এই অটুট সম্পর্কই ইরানের শক্তির মূল ভিত্তি।

মোজতবা খামেনি তার পূর্বসূরি ও নিহত পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের প্রথম দশক থেকেই সেনাবাহিনীকে টিকিয়ে রাখা ও এর সক্ষমতা বাড়াতে তার পিতা সবচেয়ে বেশি প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তিনি মূলত লিখিত বার্তার মাধ্যমেই বক্তব্য দিয়ে আসছেন।