img

নবীগঞ্জে ভয়াবহ সংঘর্ষ : ৬ দিন পর আহত আরেকজনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৯:৫৯, ১৪ জুলাই ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৮, ১৪ জুলাই ২০২৫

 নবীগঞ্জে ভয়াবহ সংঘর্ষ : ৬ দিন পর আহত আরেকজনের মৃত্যু

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ শহরে সম্প্রতি দফায় দফায় একাধিক সংঘর্ষের জের ধরে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, বেসরকারী হাসপাতাল ও যানবাহনে ভাঙচুর- লুটপাট এবং ট্রাক, বাস , সিএনজি, ভাংচুর, দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ, এবং মোটরসাইকেলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছিল বিগত ৪ দিন যাবৎ। ভাঙচুর ও লুটপাটে অন্তত কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

এর জের ধরে ৭ জুলাই  সোমবার সকালে আনমনু ও  তিমিরপুর গ্রামের লোকজন পুর্ব ঘোষনা দিয়ে নিজ নিজ এলাকায় পুর্ব প্রস্তুতিমুলক মিটিং করেন। এর পরে বিকাল ৩ ঘটিকার পূর্ব ঘোষনা দিয়ে উভয় গ্রামের শত শত মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সোমবার দুপুরে ফের  সংঘর্ষে দুপক্ষের ১ জন নিহত হন। নিহত পৌরসভার তিমিরপুর গ্রামের এম্বুলেন্স চালক মো ফারুক মিয়া। এ সময়  গুরুতর আহত হন পৌরসভার আনমনু গ্রামের আওয়াল মিয়ার পুত্র রিমন মিয়া(৪০)।

সাথে সাথে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে গত ১২ জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ঘটনার দিন উভয় পক্ষের সংষর্ষের ফলে নবীগঞ্জ শহরে  ভাঙচুর ও লুটপাটে অন্তত কোটি টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন  শহরে  আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ১৪৪ ধারা জারি করেছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ  মোঃ কামরুজ্জামান , চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিমন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে একদিনে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৮:১৮, ২৪ মে ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একদিনে পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকাল ও বিকেলে উপজেলার আলাদা দুটি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়নের পূর্ব নোয়াগাঁও (জানাউড়া) গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে রাফি (৭) পরিবারের সবার অগোচরে বাড়ির পুকুরে পড়ে যায়। পরে পুকুরে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আবুল খায়ের সিদ্দিকী মুরাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ​\"শনিবার সকালে শিশু রাফি ঘুম থেকে উঠে তার পরিবারের অলক্ষ্যে বাড়ির পুকুরে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার নিথর দেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​এদিকে, একই দিন বিকেল ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের সোনা মিয়া সড়কের বাসিন্দা মো. ইদ্রিস আলীর ২৮ মাস বয়সী শিশুকন্যা জামিনা ফেরদৌউস জারা খেলতে গিয়ে বাসার পুকুরে ডুবে যায়। এলাকার অন্য এক শিশু বিষয়টি দেখতে পেয়ে জারার পরিবারকে জানায়। পরিবারের সদস্যরা পুকুরে খুঁজে না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেন। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

​শ্রীমঙ্গল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাভিদ রাইয়ান বিন শহীদ বলেন, ​সকালে ও বিকেলে পানিতে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাদের স্বজনরা। তবে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তারা মৃত্যুবরণ করেছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করি।

​শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত শিশুরা পুকুরে ডুবে মারা গেছে। এ বিষয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​একই দিনে দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর