img

ইরাকের শপিংমলে অগ্নিকাণ্ডে ৫০ নিহত ও আহত অসংখ্য

প্রকাশিত :  ০৭:৩৬, ১৭ জুলাই ২০২৫

ইরাকের শপিংমলে অগ্নিকাণ্ডে ৫০ নিহত ও আহত অসংখ্য

পূর্ব ইরাকের কুত শহরের একটি হাইপারমার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের একটি শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওই অঞ্চলের গভর্নর। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের বার্তাসংস্থা এএফপি এই খবর নিশ্চিত করেছে।

যদিও আগুনের ঘটনাটি ইরাকের ঠিক কোন স্থানে ঘটেছে, তা সরকারি সূত্রে এখনো পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্ট ও ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, এই ভয়াবহ আগুন লেগেছে আল-কুট শহরের একটি সুপারমার্কেটে।

ভাইরাল ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, একটি বড় ভবনের বেশ কিছু অংশ দাউদাউ করে জ্বলছে এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পৃথক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, পূর্ব ইরাকের কুট শহরের একটি হাইপারমার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে প্রদেশটির গভর্নরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএনএ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতভর কুটের একটি পাঁচ তলা ভবনে আগুন জ্বলছে এবং দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।

আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, তবে গভর্নর জানিয়েছেন, তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘোষণা করা হবে। গভর্নরের উদ্ধৃতি দিয়ে আইএনএ জানিয়েছে, “আমরা ভবন এবং মলের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।”

উল্লেখ্য, ইরাকে অগ্নিকাণ্ডজনিত দুর্ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে সেসময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভবন নির্মাণের ত্রুটিকে দায়ী করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ফের দেশটির বিপণি ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৬:৩৯, ৩০ মে ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন । শুক্রবার (২৯ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি নিয়ে খুব দ্রুতই আমরা সিচুয়েশন রুমে বৈঠবে বসতে যাচ্ছি। তবে সম্ভাব্য যেকোনও চুক্তির অন্যতম শর্ত হলো, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করতে পারবে না। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে উভয় দিক থেকে জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা এবং সেখানে স্থাপিত সব মাইন অপসারণের বিষয়টিও চুক্তির অংশ হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে সেখানে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো পুনরায় নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবে। তবে নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই চুক্তির আওতায় কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন হবে না বলেও জানান তিনি।

এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া কাঠামো নিয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে এটি এখনও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ রয়েছে। ইরানি সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তির কিছু বিষয়কে নিজের মতো করে উপস্থাপন করেছেন।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনও পরিকল্পনা করছে না।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, চুক্তির ভাষা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তার ভাষায়, উভয় পক্ষ সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে, তবে চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

সূত্র : আল জাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর