img

কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী আনজুম হত্যা: অভিযুক্ত জুনেল দুই দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত :  ১১:৪৮, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী আনজুম হত্যা: অভিযুক্ত জুনেল দুই দিনের রিমান্ডে

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী নাফিসা জান্নাত আনজুম (১৫) হত্যা মামলার একমাত্র আসামি জুনেল মিয়ার (৩৯) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কুলাউড়া থানার ওসি মো. ওমর ফারুকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ৫নং আমলি আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেন এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এটি আসামি জুনেলের তৃতীয়বারের মতো রিমান্ড আবেদন।

আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় আসামি জুনেলের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। তবে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত থেকে ন্যায়বিচারের দাবিতে বক্তব্য রাখেন।

কুলাউড়া থানার ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘ঘটনাস্থল একাধিকবার পরিদর্শন করে নতুন করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আদালতের নির্দেশে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন আনজুম। দুই দিন পর ১৪ জুন বিকেলে বাড়ির পাশে জঙ্গল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আনজুম উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের আব্দুল খালিকের মেয়ে এবং স্থানীয় শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনার দুই দিনের মাথায় পুলিশ জুনেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করলেও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এর আগে জুনেলকে দু’বার রিমান্ডে নিতে চাইলেও আদালত জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এতে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হয় এবং কুলাউড়াসহ পুরো মৌলভীবাজার জেলায় শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও আন্দোলন চালিয়ে যায়।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শিক্ষিকার ভিডিও ভাইরাল: ‘গান গাওয়া অন্যায় নয়’, বললেন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৯:৫৪, ২৭ জুলাই ২০২৬

 প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক স্কুল শিক্ষকের বৃষ্টির গানের সাথে হাঁটাহাটির ভিডিওতে কোন অন্যয় দেখছেন না। তবু এই ভিডিওর ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।

সম্প্রতি বৃষ্টির গানের সাথে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে একটি গোষ্ঠির তোপের মুখে পড়েন সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। ফেসবুকে তাকে নিয়ে ট্রল-হেনস্তা করছেন কেউ কেউ। এমনকি ভিডিও করার কারণে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ এই স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি ওঠে।

তবে এমন পরিস্থিতিতে বিউটি পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার সহকর্মীসহ নানা পেশার মানুষজন। অভিবনব প্রন্থায় বিউটি পালকে নিয়ে ট্রলের প্রতিবাদ জানাচ্ছে সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষ। বিউটি পালের সাথে সংহতি জানিয়ে ফেসবুকে গানের সাথে নিজের ভিডিও আপ করছেন তারা।

বিউটি রানী পাল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি ২০২৬ সালে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।

বিউটি রানী পালের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি প্রায়ই নিজের ফেসবুক একাউন্টে তার বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া, বাচ্চাদের শরীর চর্চা করানো, শিশুদের নাচ গানের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্নসহ পাঠ্য বইয়ের বিভিন্ন পড়া শেখানো, শিক্ষাদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ করার ভিডিও আপ দিতেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরের দিকে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের মেজবার গাওয়া ‘আজ কেন মন, উদাসী হয়ে’ গানের সঙ্গে একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি স্কুল প্রাঙ্গণে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। সুন্দর শাড়ি পড়ে পরিপাটি অবস্থায় ভিডিও পোস্ট নিয়ে সমালোচনা ও ট্রল শুরু করে একটি গোষ্ঠী।

তবে এর বিপরিতে দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অসংখ্য মানুষ বিউটি পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা বিউটি পালের সাথে সংহতি জানিয়ে \'শ্রাবণের মেঘগুলো\' গানের সাথে ভিডিও বানিয়ে নিজেদের ফেসবুকে আপ করছেন।

এরকম একটি ভিডিও দিয়ে গানের সাথে ভিডিও যুক্ত করে দিপা মন্ডল নামের এক শিক্ষিকা ফেসবুকে লিখেছেন, শিক্ষকদের নাকি নাচ, গানে, অভিনয়ে পারদর্শী হতে হয়। তবে আজ কেন এত কথা?? যন্ত্রের মত শুধু শ্রেণীতে সব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সাথে ক্লাসে পাঠে মনোযোগী করতে, একঘেয়েমি দূর করতে, পাঠে আনন্দের সাথে উপস্হাপন করতে শিক্ষককে সব করতে হবে। আর সেই শিক্ষকের কোন মন থাকবেনা, থাকবেনা কোন আনন্দের মুহুর্ত। এটাই তো??? একজন সম্মানিত শিক্ষক শাড়ী পরিহিত অবস্থায় কি করে অশ্লীলতা প্রকাশ করতে পারে?? সে তো প্যান্ট শার্ট বা টপস পরিহিত ছিলেন না।

তদন্তে শিক্ষা বিভাগ

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধারণ করা বিউটি পালের ওই ভিডিও সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।

বিষয়টি অনুসন্ধানে একটি তদন্ত গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা।

মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, ‌বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আলোচনা হয়েছে। তদন্ত শেষে দেখা হবে কোনও ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কিনা। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা- তা খতিয়ে দেখা হবে।’

যা বলছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

এক কর্মশালায় অতিথি হিসেবে রোববার বিকেলে সিলেট সফরে আসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। কর্মশালা শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সেশ্যাল মিডিয়াও নেই। তবে কয়েকজন আমাকে বলেছেন, ‘একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। এটিতে কোন অশ্লীলতা নেই।’ গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটি কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না।


বিউটি রানী পালের বক্তব্য:

আলোচিত ভিডিওটি স্কুল ছুটির পর তার এক সহকর্মী ধারণ করেছেন বলে জানান বিউটি রানী পাল।

ভিডিও নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মুখে দিয়ে বলব কারিকুলাম উন্নত, আর আমাদের মন মানসিকতা থাকবে সংকীর্ণ, তাহলে আমরা কীভাবে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিব? আমাদের মনমানসিকতা যদি এখন ডিজিটালাইজড না করি, স্মার্ট না হই, উন্নত না করি, তাহলে আমরা উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না।

যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিউটি রানী পাল বলেন, সবাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন কিছু বলতে পারবো না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমাকে বক্তব্য দিতে হবে।

এই শিক্ষিকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনও শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত, এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।

সিলেটের খবর এর আরও খবর