img

বাহুবলে নতুন গ্যাসের সন্ধান, দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট পাওয়ার আশা

প্রকাশিত :  ১০:৩২, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাহুবলে নতুন গ্যাসের সন্ধান, দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট পাওয়ার আশা

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলাস্থ রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৩ নম্বর কূপের সংস্কার (ওয়ার্কওভার) কার্যক্রম চালানোর পর নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। কূপটি থেকে দৈনিক ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে পেট্রোবাংলা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স তার নিজস্ব রিগ দিয়ে কূপটির ওয়ার্কওভারে সফল হয়েছে।

গত শুক্রবার কূপটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রবাহ ধরা পড়ে বলে জানিয়েছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)।

রোববার গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এসজিএফএল। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে এসজিএফএলের কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৩ নম্বর কূপ থেকে ১০ বছরে ২৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কূপ থেকে গ্যাসের সঙ্গে উপজাত হিসেবে কনডেনসেট পাওয়া যাবে। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার এলএনজির দাম ৬৫ টাকা বিবেচনা করলে ওই কূপ থেকে আনুমানিক ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার গ্যাস পাওয়া যাবে।

এসজিএফএল সূত্র জানায়, এসজিএফএল ও বাপেক্সের কারিগরি বিষয়ে দক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ৩ নম্বর কূপের সংস্কারকাজ (ওয়ার্কওভার) সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে সংস্থাটির আওতায় সিলেট-১০এক্স, সিলেট-১১, ডুপিটিলা-১, কৈলাসটিলা-৯, রশিদপুর-১১ ও রশিদপুর-১৩ নম্বর কূপ খনন এবং কৈলাসটিলা-৯ ও বিয়ানীবাজার-২ নম্বর কূপের ওয়ার্কওভার (সংস্কার) কাজ চলমান। এসব কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশের গ্যাস উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের ওই কূপটিতে ৫ সেপ্টেম্বর ওয়ার্কওভারের সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রবাহ নিশ্চিত হয়েছে বাপেক্স। আগামী দশ বছর কূপটি থেকে ২৫.৫৫ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রাপ্তির ধারণা করা হচ্ছে। ওয়ার্কওভার কাজে প্রায় ৭৩ কোটি টাকার মতো খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে। আর কূপটি থেকে প্রাপ্ত ২৫.৫৫ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের দাম (আমদানিকৃত এলএনজির মূল্য ঘনমিটার ৬৫ টাকা) ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে একদিনে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৮:১৮, ২৪ মে ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একদিনে পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকাল ও বিকেলে উপজেলার আলাদা দুটি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়নের পূর্ব নোয়াগাঁও (জানাউড়া) গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে রাফি (৭) পরিবারের সবার অগোচরে বাড়ির পুকুরে পড়ে যায়। পরে পুকুরে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আবুল খায়ের সিদ্দিকী মুরাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ​\"শনিবার সকালে শিশু রাফি ঘুম থেকে উঠে তার পরিবারের অলক্ষ্যে বাড়ির পুকুরে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার নিথর দেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​এদিকে, একই দিন বিকেল ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের সোনা মিয়া সড়কের বাসিন্দা মো. ইদ্রিস আলীর ২৮ মাস বয়সী শিশুকন্যা জামিনা ফেরদৌউস জারা খেলতে গিয়ে বাসার পুকুরে ডুবে যায়। এলাকার অন্য এক শিশু বিষয়টি দেখতে পেয়ে জারার পরিবারকে জানায়। পরিবারের সদস্যরা পুকুরে খুঁজে না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেন। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

​শ্রীমঙ্গল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাভিদ রাইয়ান বিন শহীদ বলেন, ​সকালে ও বিকেলে পানিতে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাদের স্বজনরা। তবে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তারা মৃত্যুবরণ করেছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করি।

​শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত শিশুরা পুকুরে ডুবে মারা গেছে। এ বিষয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​একই দিনে দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর