মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে লিটন মিয়া (২৭) নামে এক যুবককের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের পশ্চিম নন্দগ্রামে মসজিদের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা প্রতিপক্ষকে দায়ী করলেও কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে এ বিষয়ে পরিস্কার কিছু জানা যায়নি। নিহত লিটন পশ্চিম নন্দগ্রামের সত্তার মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা মসজিদের পাশে লিটন মিয়ার জবাই করা লাশ দেখতে পান। পরে শমশেরনগর ফাঁড়ি পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানান, নিহত লিটনের সাথে এলাকার অনেক মানুষের সমস্যা আছে। তবে গত সোমবার রাতে তাকে এভাবে হত্যা করা ঠিক হয়নি।
নিহত লিটনের বাবা সত্তার মিয়া জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরে শামীমসহ এলাকার প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে গলাকেটে হত্যা করেছে।
এ বিষয়ে পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, ঘটনাটি শুনে সরেজমিনে এসে দেখেছি। লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। হত্যার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আশাকরি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে।
এ বিষয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওবায়দুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তবে কি কারণে হত্যা করা হয়েছে এ বিষয় জানা যায়নি। নিহতের পরিবার থানায় এখনও কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। তদন্ত চলছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক স্কুল শিক্ষকের বৃষ্টির গানের সাথে হাঁটাহাটির ভিডিওতে কোন অন্যয় দেখছেন না। তবু এই ভিডিওর ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।
সম্প্রতি বৃষ্টির গানের সাথে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে একটি গোষ্ঠির তোপের মুখে পড়েন সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। ফেসবুকে তাকে নিয়ে ট্রল-হেনস্তা করছেন কেউ কেউ। এমনকি ভিডিও করার কারণে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ এই স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি ওঠে।
তবে এমন পরিস্থিতিতে বিউটি পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার সহকর্মীসহ নানা পেশার মানুষজন। অভিবনব প্রন্থায় বিউটি পালকে নিয়ে ট্রলের প্রতিবাদ জানাচ্ছে সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষ। বিউটি পালের সাথে সংহতি জানিয়ে ফেসবুকে গানের সাথে নিজের ভিডিও আপ করছেন তারা।
বিউটি রানী পাল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি ২০২৬ সালে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।
বিউটি রানী পালের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি প্রায়ই নিজের ফেসবুক একাউন্টে তার বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া, বাচ্চাদের শরীর চর্চা করানো, শিশুদের নাচ গানের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্নসহ পাঠ্য বইয়ের বিভিন্ন পড়া শেখানো, শিক্ষাদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ করার ভিডিও আপ দিতেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরের দিকে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের মেজবার গাওয়া ‘আজ কেন মন, উদাসী হয়ে’ গানের সঙ্গে একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি স্কুল প্রাঙ্গণে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। সুন্দর শাড়ি পড়ে পরিপাটি অবস্থায় ভিডিও পোস্ট নিয়ে সমালোচনা ও ট্রল শুরু করে একটি গোষ্ঠী।
তবে এর বিপরিতে দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অসংখ্য মানুষ বিউটি পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা বিউটি পালের সাথে সংহতি জানিয়ে \'শ্রাবণের মেঘগুলো\' গানের সাথে ভিডিও বানিয়ে নিজেদের ফেসবুকে আপ করছেন।
এরকম একটি ভিডিও দিয়ে গানের সাথে ভিডিও যুক্ত করে দিপা মন্ডল নামের এক শিক্ষিকা ফেসবুকে লিখেছেন, শিক্ষকদের নাকি নাচ, গানে, অভিনয়ে পারদর্শী হতে হয়। তবে আজ কেন এত কথা?? যন্ত্রের মত শুধু শ্রেণীতে সব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সাথে ক্লাসে পাঠে মনোযোগী করতে, একঘেয়েমি দূর করতে, পাঠে আনন্দের সাথে উপস্হাপন করতে শিক্ষককে সব করতে হবে। আর সেই শিক্ষকের কোন মন থাকবেনা, থাকবেনা কোন আনন্দের মুহুর্ত। এটাই তো??? একজন সম্মানিত শিক্ষক শাড়ী পরিহিত অবস্থায় কি করে অশ্লীলতা প্রকাশ করতে পারে?? সে তো প্যান্ট শার্ট বা টপস পরিহিত ছিলেন না।
তদন্তে শিক্ষা বিভাগ
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধারণ করা বিউটি পালের ওই ভিডিও সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।
বিষয়টি অনুসন্ধানে একটি তদন্ত গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা।
মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আলোচনা হয়েছে। তদন্ত শেষে দেখা হবে কোনও ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কিনা। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা- তা খতিয়ে দেখা হবে।’
যা বলছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
এক কর্মশালায় অতিথি হিসেবে রোববার বিকেলে সিলেট সফরে আসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। কর্মশালা শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সেশ্যাল মিডিয়াও নেই। তবে কয়েকজন আমাকে বলেছেন, ‘একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। এটিতে কোন অশ্লীলতা নেই।’ গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটি কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না।
বিউটি রানী পালের বক্তব্য:
আলোচিত ভিডিওটি স্কুল ছুটির পর তার এক সহকর্মী ধারণ করেছেন বলে জানান বিউটি রানী পাল।
ভিডিও নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মুখে দিয়ে বলব কারিকুলাম উন্নত, আর আমাদের মন মানসিকতা থাকবে সংকীর্ণ, তাহলে আমরা কীভাবে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিব? আমাদের মনমানসিকতা যদি এখন ডিজিটালাইজড না করি, স্মার্ট না হই, উন্নত না করি, তাহলে আমরা উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না।
যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিউটি রানী পাল বলেন, সবাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন কিছু বলতে পারবো না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমাকে বক্তব্য দিতে হবে।
এই শিক্ষিকা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনও শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত, এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।