img

বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উদ্দেশে করিম চাচার খোলা চিঠি

প্রকাশিত :  ১৬:৪৮, ০৬ নভেম্বর ২০২৫

বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উদ্দেশে করিম চাচার খোলা চিঠি

ঢাকা, ৬ নভেম্বর ২০২৫


প্রিয় গভর্নর সাহেব,


আমি করিম চাচা—এই দেশের একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী। আপনার অফিসের ফাইলের পাতায় হয়তো আমার নাম নেই, আমার মতো হাজারো মানুষের অস্তিত্বও আপনি জানেন না। কিন্তু আমরা আছি—আমরা এই মাটির মানুষ, যারা ঘাম ঝরিয়ে, শ্রম দিয়ে, জীবনভর সঞ্চয় করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছি এই আশায় যে দেশের অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল হবে, আমাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ একটু সুরক্ষিত হবে।


কিন্তু আপনার এক ঘোষণায় আজ সবকিছু ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে। আপনি ঘোষণা দিলেন—“আমানতকারীরা অর্থ ফেরত পাবেন, কিন্তু বিনিয়োগকারীরা পাবেন না।”

গভর্নর সাহেব, আপনি কি জানেন, এই বাক্যটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি হাজারো পরিবারের চোখের জলে লেখা এক শোকগাঁথা?


আপনার সেই ঘোষণার পরদিন থেকেই পুঁজিবাজারে নেমে এসেছে ধ্বংসের কালো ছায়া। বিনিয়োগকারীদের মুখে আর হাসি নেই, চোখে ঘুম নেই, বুকভরা কষ্ট। আমি নিজে দেখেছি—যে মানুষটি প্রতিদিন বাজারে সবজি বিক্রি করে তার ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি জমাচ্ছিল, সে আজ নিঃস্ব। তার হাতে আছে শুধু কিছু অকার্যকর কাগজের টুকরো—যাকে একসময় “শেয়ার সার্টিফিকেট” বলা হতো।


গভর্নর সাহেব,

আমরা জানি না, আপনাকে কে গভর্নর করেছে। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, আপনার সেই পদে বসার ন্যূনতম যোগ্যতাও নেই। আপনি যদি দেশের অর্থনীতি না বোঝেন, যদি মানুষের চোখের জল দেখতে না পারেন—তবে কেন এমন একটি পদে বসে আছেন, যার প্রতিটি সিদ্ধান্ত মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে? আপনি কি জানেন, আপনার ঠান্ডা কণ্ঠে উচ্চারিত “বিনিয়োগকারীরা টাকা পাবেন না”—এই কয়েকটি শব্দে কত মানুষ আজ আত্মহত্যার পথে ঠেলে গেছে?


আপনি বলেন, ব্যাংক একীভূতকরণ দেশের স্থিতিশীলতার জন্য। কিন্তু বাস্তবে এটি এক অর্থনৈতিক হত্যাযজ্ঞ ছাড়া আর কিছু নয়। আপনি আমানতকারীদের সুরক্ষা দিয়েছেন, অথচ বিনিয়োগকারীদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। আপনি হয়তো ভাবছেন, তারা সবাই বড়লোক—লাভের আশায় খেলায় হেরেছে। কিন্তু না, গভর্নর সাহেব—আমরাই সেই মানুষ, যারা এই দেশের ব্যাংকগুলোর ভিত্তি গড়েছি। আমাদের বিনিয়োগের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে ব্যাংকের মূলধন, আর আজ আমাদেরই আপনি বলছেন—“তোমাদের টাকা নেই”?


অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি এক অবিবেচক সিদ্ধান্ত। আর আমি বলছি, এটি এক হৃদয়হীন সিদ্ধান্ত। আপনি একজন গভর্নর, কিন্তু আচরণে আপনি যেন এক যান্ত্রিক কর্মচারী—যার কাছে দেশের মানুষ কেবল সংখ্যা, মানুষ নয়।


আমরা ভুলে যাইনি—আপনার আগের প্রতিশ্রুতিগুলো কেমন ছিল। আপনি প্রতিবারই বলেছিলেন, “বাজার স্থিতিশীল হবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে।” অথচ আপনার প্রতিটি কথার পর বাজার আরও ভেঙে পড়েছে। এখন মানুষ আর হাসে না, কাঁদেও না—কারণ কান্নারও শক্তি ফুরিয়ে গেছে।


আপনার এই সিদ্ধান্তের পর আমরা বুঝেছি—বাংলাদেশ ব্যাংক আর জনমানুষের প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এখন ক্ষমতার ক্যানভাস, যেখানে মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয় এক কলমের খোঁচায়।


আপনার ব্যবহারের কথা আমরা সংবাদপত্রে পড়েছি, টেলিভিশনে দেখেছি। আপনি যেন সবসময়ই ভাবেন—দেশটা কেবল আপনার একার। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি আজ যে চেয়ারে বসে আছেন, সেটি জনগণের বিশ্বাসে নির্মিত। সেই বিশ্বাস আপনি ভেঙে দিয়েছেন—চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলেছেন।


আমি করিম চাচা—একজন সাধারণ মানুষ। আপনার অর্থনৈতিক তত্ত্ব বোঝার ক্ষমতা আমার নেই। কিন্তু আমি জানি, টাকা হারানোর চেয়ে বিশ্বাস হারানো বড় ক্ষতি। আজ আমরা সেই বিশ্বাস হারিয়েছি—আপনার কারণে।


আমি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নই, কোনো আন্দোলনের নেতা নই। আমি শুধু একজন পিতা, যিনি সন্তানের চিকিৎসার খরচ দিতে পারছেন না; একজন স্বামী, যিনি স্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—“আর কিছুদিন পরেই ভালো দিন আসবে।” কিন্তু সেই ভালো দিন আপনি কেড়ে নিয়েছেন, গভর্নর সাহেব।


আপনার অফিসের ঠান্ডা এয়ারকন্ডিশনের বাতাসে হয়তো আরাম আছে, কিন্তু বাইরে হাজারো বিনিয়োগকারী জ্বলছে অনিশ্চয়তার আগুনে। আপনি কি একবারও ভেবেছেন, এই আগুন একদিন আপনার অফিসের দেয়াল ছুঁয়ে ফেলতে পারে? কারণ ক্ষুধার্ত, বঞ্চিত মানুষের কান্না কোনোদিন মাটির নিচে চাপা পড়ে না।


আমি আপনাকে কোনো হুমকি দিতে আসিনি, কোনো দাবি জানাতেও নয়। আমি এসেছি আপনার বিবেককে জাগাতে। আপনি যদি সত্যিই এই দেশের মানুষ হন, তবে অনুগ্রহ করে একবার মাঠে নামুন—দেখুন, আপনার সিদ্ধান্তে কত পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। দেখুন, কীভাবে এই দেশ তার বিনিয়োগকারীদের অশ্রুতে ডুবে যাচ্ছে।


গভর্নর সাহেব,

একজন বুদ্ধিহীন গভর্নরের সিদ্ধান্তে যখন হাজারো মানুষের ঘর ভেঙে যায়, তখন সেটি কেবল ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়—এটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। আজ আপনি সেই ব্যর্থতার প্রতীক।


তবুও আমি আশা হারাইনি—হয়তো আপনার ভেতরে এখনো একটু মানুষ বেঁচে আছে। সেই মানুষটা যদি এখনো জেগে ওঠে, তবে আপনি পারবেন এই ভুল সংশোধন করতে, পারবেন মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।


না হলে ইতিহাস আপনাকে ক্ষমা করবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম লিখবে—

“একজন বুদ্ধিহীন গভর্নরের সিদ্ধান্তে ধ্বংস হয়েছিল এক প্রজন্মের স্বপ্ন।”


আমি করিম চাচা—এই মাটির সন্তান। আজ নিঃস্ব, তবু এই দেশের প্রতি আমার ভালোবাসা অটুট। আপনি যদি মানুষ হন—তাহলে একবার অন্তত আমাদের চোখের জলে তাকান।


আপনার বিবেকের উদ্দেশে,

— করিম চাচা

একজন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী

বাংলাদেশের এক সাধারণ নাগরিক

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

বম্বে সুইটসের মসলা, বাঘাবাড়ী ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

প্রকাশিত :  ১৩:৩০, ২৬ আগষ্ট ২০২৬

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা এবং বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিএসটিআই সম্পাদক মঈনুদ্দীন মিয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআই প্রদত্ত লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য ক্রয় হতে বিরত থাকার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিএসটিআই নিয়মিত সার্ভিল্যান্সের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। এ পরীক্ষায় বেশকিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গিয়েছে। তবে কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল এবং মসলার মান পরীক্ষায় নিম্নমানের হওয়ায় তা অকৃতকার্য হয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায় বাঘাবাড়ির ঘিতে নেই ‘ঘি’ (মিল্ক ফ্যাট); পাম অলিন, বনস্পতি দিয়ে তৈরি করে ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। এছাড়া বম্বে সুইটসের মসলা বাংলাদেশ মান (বিডিএস) থেকে বিভিন্ন প্যারামিটারে নিম্নমানের পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, বম্বে সুইটস এন্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং- ১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং- ১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং- ২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ) বাংলাদেশ মান অনুযায়ী মোট এ্যাস এবং লবণের মাত্রা অতিরিক্ত থাকায় অকৃতকার্য হয়েছে।

বাংলাদেশ মানের চেয়ে নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস এন্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ “এলডার্স” ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

বাংলাদেশ মান অনুযায়ী এসব ঘি বিভিন্ন প্যারামিটারে অকৃতকার্য হয়। পরীক্ষায় এসকল পণ্যে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু এবং পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ‘জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজার রাখা প্রতিটি লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানের আইনগত এবং নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। বিএসটিআই পণ্যের মান সনদ প্রদানের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রুখতে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি চলমান রেখেছে।’

পণ্য ক্রয়ের আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক। একই সাথে তিনি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইয়ের মান চিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে হটলাইন: ১৬১১৯ এ কল করে অথবা [email protected]  তে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান।