img

বাংলাদেশের নির্বাচনে ‘অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়’, ব্রিটিশ প্রতিনিধির হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত :  ০৬:২৩, ০৭ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের নির্বাচনে ‘অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়’, ব্রিটিশ প্রতিনিধির হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইল। তিনি বলেছেন, অতীতের মতো বিতর্কিত নির্বাচন যেন আর না হয়, সে বিষয়ে সব পক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার বিচার চলমান যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, সেটিকে ‘আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে জরুরি সংস্কার’ প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে লর্ড কার্লাইল বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। ২০২৪ সালের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা একাধিক সংকট সৃষ্টি করেছে, যেগুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।’

এই বিবৃতি এমন সময়ে এসেছে, যখন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জাতিসংঘের কারিগরি সহযোগিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।

২০০৮ সালে বিপুল বিজয়ে ক্ষমতায় আসার পর টানা সাড়ে ১৫ বছর দেশ শাসন করে আওয়ামী লীগ। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে, এবং তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। তার শাসনামলে হওয়া তিনটি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে দুটি বিরোধী দলগুলোর বর্জনের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

লর্ড কার্লাইল বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে অতীতের ভুল যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা নিতে হবে এবং স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তত্ত্বাবধানে তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের সমাজের সব অংশকেই এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে হবে—গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্জাগরণ ও চেতনা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে।’

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে আন্দোলন দমনে চালানো সহিংসতায় প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয় এবং আরও কয়েক হাজার আহত হন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে’ বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল।

ওই সময় সংঘটিত ঘটনাগুলোর বিচারের জন্য বর্তমানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইন সংশোধন করে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়ার পথও খুলে দিয়েছে।

লর্ড কার্লাইল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলছে, তবে এই আদালতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। বিচার হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত এবং সংবিধান ও আইনের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলো এখন মারাত্মক চাপের মধ্যে রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা রাষ্ট্র ও বিরোধী উভয় পক্ষের কাছ থেকেই নিশ্চিত করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যেও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, তাই আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এখন অত্যন্ত জরুরি।’


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

পদত্যাগ করতে প্রস্তুত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

প্রকাশিত :  ১০:১৯, ১৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৩, ১৭ মে ২০২৬

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। এমনটাই নাকি তিনি জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ মহলকে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে রাজি আছেন, তবে তিনি তা ‘নিজের শর্তে’ করতে চান।

সূত্রটি জানায়, তিনি বুঝতে পারছেন বর্তমান পরিস্থিতির বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিন টেকসই নয়। তবে তিনি মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজের পছন্দমতো সময়েই সরে দাঁড়াতে চান। এ জন্য তিনি একটি সময়সূচি ঘোষণা করবেন। 

সংকটে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার

ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মুখে বর্তমানে সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার।  পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ এবং শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক, স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফল—সব মিলিয়ে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।

সবশেষ ধাক্কা আসে স্টারমার মন্ত্রিসভার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে।

শনিবার স্ট্রিটিং জানান, ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নিজের প্রার্থিতা তুলে ধরবেন।

ভাষণে তিনি স্টারমারকে দ্রুত সরে দাঁড়ানোর জন্য একটি ‘সময়সূচি নির্ধারণ’র আহ্বানও জানান।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তাও দ্রুত কমছে। জরিপ সংস্থা ইউগোভের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক লেবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি “অসন্তুষ্ট” মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

ইউগভ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে স্টারমার যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। অনেকেই তার অবস্থার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রুসের মাত্র ৪৯ দিনের শাসনামলের তুলনা করছেন।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর