img

ইয়েমেন ভেঙে নতুন রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে ‘দক্ষিণ আরবিয়া’

প্রকাশিত :  ১০:৫৮, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:০০, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬

ইয়েমেন ভেঙে নতুন রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে ‘দক্ষিণ আরবিয়া’

ইয়েমেনের সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) ঘোষণা দিয়েছে, তারা আগামী দুই বছরের মধ্যে দক্ষিণ ইয়েমেনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করবে। নতুন রাষ্ট্রের নাম হতে পারে ‘দক্ষিণ আরবিয়া’।

এই ঘোষণার দিনই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় দক্ষিণ ইয়েমেনে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের লাগাম টানতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এসটিসির সামরিক ও চিকিৎসা সূত্র জানায়, হাদরামাউত অঞ্চলের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে চালানো বিমান হামলায় এসব যোদ্ধা নিহত হন। একই সঙ্গে একটি বিমানবন্দর ও কয়েকটি সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধ। বিশেষ করে এসটিসির সাম্প্রতিক ভূখণ্ড দখল অভিযান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও টানাপোড়েনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এসটিসির প্রেসিডেন্ট আইদারোস আলজুবাইদি বলেন, স্বাধীনতার আগে একটি রূপান্তরকালীন সময় থাকবে। এ সময় উত্তর ইয়েমেনের সঙ্গে সংলাপ ও স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট আয়োজন করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সংলাপ ব্যর্থ হয় বা দক্ষিণে আবার হামলা হয়, তাহলে তারা দ্রুত স্বাধীনতা ঘোষণা করবে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ইয়েমেন উত্তর ও দক্ষিণ—দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। এসটিসির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তিন দশকের বেশি সময় পর দেশটি আবারও বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, এসটিসি দখল করা দুটি প্রদেশ থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত হামলা বন্ধ করা হবে না। অন্যদিকে, ইউএই দাবি করেছে তারা ইয়েমেন থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করেছে এবং সংলাপের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী।

দীর্ঘ এক দশকের গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত ইয়েমেনে এই নতুন উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসরায়েলবিরোধী জনমত তৈরিতে ‘বট বাহিনী’ ব্যবহার করছে পাকিস্তান: নেতানিয়াহু

প্রকাশিত :  ১২:৪৩, ২৯ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৩৮, ২৯ মে ২০২৬

নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার জন্য পাকিস্তানকেও দায়ী করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বট বাহিনী’ বা ‘বট ফার্ম’ ব্যবহার করছে পাকিস্তান। 

তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটকে দুর্বল করতে চায়, তারা বট ফার্ম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রভাবিত করছে।’

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড তাদের প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরে। 

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এখনও এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে ইসরায়েলকে সম্মান করা হয়। ভারতের জনসংখ্যা ১৪০ কোটির বেশি, আর সেখানে ইসরায়েল খুবই জনপ্রিয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদিকে এখানে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছিল। আর আমি যখন স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে গিয়েছিলাম, সেটি ছিল যেন ভালোবাসার এক উৎসব।’

নেতানিয়াহু এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন যখন সারা বিশ্বেই, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে তার জনপ্রিয়তা কমার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এপ্রিল মাসে প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। গত বছর এ হার ছিল ৫৩ শতাংশ।

একই জরিপে দেখা যায়, ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বৈশ্বিক কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর ওপর খুব কম আস্থা রাখেন বা একেবারেই আস্থা রাখেন না। গত বছর এ হার ছিল ৫২ শতাংশ।

পশ্চিম তীরের একটি সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ভারতকে একটি ‘বৃহৎ শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দেশটির সঙ্গে ইসরায়েলের ‘অনন্য সম্পর্কের’ কথা বলেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও বিরূপ মনোভাব বাড়লেও ভারতে দেশটির প্রতি সমর্থন কমেনি বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক অনন্য এবং দেশটিতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ‘অবিশ্বাস্য রকমের’। একই সঙ্গে নিজের জনপ্রিয়তা কমার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের কার্যক্রমকে অভিযুক্ত করেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বিশ্বের অনেক জায়গায় ইসরায়েলের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হলেও ভারতে এমন পরিস্থিতি নেই বলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন। 

নেতানিয়াহু বলেন, ‘বিশ্বের অনেক স্থানে আমাদের নৈতিক বা রাজনৈতিক বৈধতা খর্ব করার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা, কিন্তু ভারতে (এমনটা মোটেও) নয়’। তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন একেবারে অবিশ্বাস্য, সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

তার দাবি, ‘আমার মনে হয়, বিশ্বের অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় ভারত থেকেই (আমার) বেশি অনুসারী রয়েছে।’

অবশ্য এটাই প্রথম নয়, এর আগেও ভারতে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে কথা বলেছেন নেতানিয়াহু। তিনি ২০১৮ সালে স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে নয়াদিল্লি সফরের অভিজ্ঞতাকে ‘ভালোবাসার উৎসব’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতীয়দের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি ‘অসাধারণ সম্মান’ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর