img

পুতিনকে তুলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন—কী বললেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৪:১৩, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৮, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

পুতিনকে তুলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন—কী বললেন ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোর মতো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও কি একইভাবে ‘গ্রেফতার’ করা হতে পারে?  ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের পর গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পুতিনের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো নাটকীয় অভিযানের প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না। তার মতে, পুতিনের সঙ্গে তার সবসময়ই একটি চমৎকার সম্পর্ক ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে এক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ঘটনা বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এই ঘটনার পর জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে একজন ‘স্বৈরশাসককে’ যদি এভাবে ধরা যায়, তবে পরবর্তী লক্ষ্য কে হতে পারে তা ওয়াশিংটন ভালো করেই জানে। 

তবে ট্রাম্প জেলেনস্কির সেই ধারণাকে নাকচ করে দিয়ে বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধ না হওয়ায় তিনি পুতিনের ওপর কিছুটা হতাশ ঠিকই, কিন্তু মাদুরোর মতো কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি এর আগে আটটি যুদ্ধ মিটিয়েছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধটিও খুব দ্রুতই সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেছিলেন।

ট্রাম্প যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয় নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গত মাসেও রাশিয়া হাজার হাজার সৈন্য হারিয়েছে এবং তাদের অর্থনীতিও সংকটের মুখে রয়েছে। তিনি দ্রুত এই সংঘাতের অবসান চান কারণ প্রতিদিন বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। 

উল্লেখ্য, পুতিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক যুদ্ধাপরাধের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে, যা দীর্ঘদিনের এই যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে আটকের পর দেশটির শাসনভার এখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের হাতে। যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ এনেছে। 

ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরোর উত্তরসূরিদের সঙ্গে তার প্রশাসন যোগাযোগ রাখছে এবং তারা ওয়াশিংটনের শর্ত অনুযায়ী কাজ করতে আগ্রহী। ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম কমানোর পরিকল্পনাও করছেন ট্রাম্প।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের আকাশে আবারও রহস্যময় আলো, ৫০ বছর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি?

প্রকাশিত :  ০৭:০৯, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 ইরানের রাজধানী তেহরান প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে বিশ্বজুড়ে আলোচিত এক ইউএফও দর্শনের ঘটনা দিয়ে আলোচনায় এসেছিল। সেই ঘটনার প্রায় পাঁচ দশক পর আবারও রাতের আকাশে রহস্যময় এক বস্তু দেখা গেছে তেহরানে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উজ্জ্বল আলোকিত একটি বস্তু তেহরানের আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে অথবা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।

এই ভিডিও ঘিরে পরিচিত এক প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে—এটা কি ইউএফও, ড্রোন, বিমান, নাকি আরও সাধারণ কিছু? এখন পর্যন্ত এর কোনো স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ভিডিওতে ধারণ করা বস্তুটি আসলে কী, তা এখনো প্রকাশ্যে জানায়নি ইরানের কর্তৃপক্ষ।

তেহরানের ১৯৭৬ সালের ইউএফও রহস্য

সময়টা এই রহস্যকে আরও গভীর করে তুলেছে। ১৯৭৬ সালেও এই সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখই তেহরানের আকাশে এক আকাশযান সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে। সেটি পরে নথিভুক্তও হয়েছে। তার প্রায় পঞ্চাশ বছর পর সামনে এলো এই নতুন ফুটেজ।

সেই ঘটনার শুরু হয়েছিল শেমিরান এলাকার বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য থেকে। তারা জানিয়েছিলেন আকাশে অদ্ভুত এক উজ্জ্বল বস্তু দেখেছেন তারা।

পরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি গোপনীয়তামুক্ত প্রতিবেদনে ইম্পেরিয়াল ইরানিয়ান বিমানবাহিনী এবং দুটি এফ-৪ ফ্যান্টম যুদ্ধবিমানের প্রতিক্রিয়ার বিবরণ নথিভুক্ত করা হয়।

সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম এফ-৪ বিমানটি বস্তুটির কাছাকাছি পৌঁছালে এর যন্ত্রপাতি এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ে। জানা যায়, পাইলট বিমানটি ঘুরিয়ে নেওয়ার পর এসব সিস্টেম আবার কাজ করা শুরু করে। এরপর তদন্তের জন্য পাঠানো হয় দ্বিতীয় একটি এফ-৪ বিমান। রাডারে বস্তুটি শনাক্তও করে সেই বিমান।

দ্বিতীয় বিমানের ক্রুরা আরেকটি অস্বাভাবিক ঘটনার কথা জানান। তাদের মতে, মূল বস্তুটি থেকে একটি ছোট অংশ আলাদা হয়ে যায়। পাইলট সেটির মোকাবিলা করার চেষ্টা করলে ঠিক সেই মুহূর্তে বিমানের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে বলে জানা যায়।

১৯৭৬ সালের এই ঘটনা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নথিতে লিপিবদ্ধ হয়। সামরিক বিমান জড়িত ইউএফও সংক্রান্ত ইতিহাসের সবচেয়ে পরিচিত ঘটনাগুলোর একটি হিসেবেই এখনো বিবেচিত হয় এটি।

সামাজিক মাধ্যমে নানা মত

সামাজিক মাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারীর দাবি, এই আলো একটি সামরিক ড্রোন অথবা একসঙ্গে ওড়া একাধিক ড্রোনের হতে পারে। আবার অনেকের ধারণা, এটি কোনো বিমান অথবা ইউএফও হতে পারে। তবে এসব দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

এই ফুটেজ ঘিরে নেটদুনিয়ায় দেখা গেছে নানা মজার প্রতিক্রিয়াও। কেউ বলছেন এটি আলাদিনের উড়ন্ত গালিচা, আবার কেউ বলছেন এটি চীনের এলইডি বাতি।

একজন লিখেছেন, ‘এই ইউএফওর রংগুলো দেখে মনে হচ্ছে এটা নিশ্চয়ই কোনো নারী এলিয়েনের উড়ন্ত যান। দেখুন তো, কত সুন্দরভাবে রঙিন আলো দিয়ে নিজের নভোযানটি সাজিয়েছে সে’।

আরেকজন মজা করে লিখেছেন, ‘ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা করাতেই বুঝি এসেছে এলিয়েনরা’।

তৃতীয় একজনের প্রশ্ন ছিল আরও বাস্তবসম্মত, ‘এলিয়েনরা এত সস্তা আরজিবি লাইট কেন ব্যবহার করছে?’


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর