img

দ্রুত বর্ধনশীল টাওয়ার হ্যামলেটসের নতুন লোকাল প্ল্যান স্বাধীন পরীক্ষার জন্য দাখিল

প্রকাশিত :  ০৮:৫২, ০৭ মার্চ ২০২৬

দ্রুত বর্ধনশীল টাওয়ার হ্যামলেটসের নতুন লোকাল প্ল্যান স্বাধীন পরীক্ষার জন্য দাখিল

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নতুন লোকাল প্ল্যান স্বাধীন পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।  গত মাসের মাঝামাঝি সেক্রেটারি অফ স্টেট‑এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে খসড়া প্ল্যানটি জমা দেওয়া হয়। 

লন্ডনের দ্রুত-বর্ধনশীল বারা হিসেবে টাওয়ার হ্যামলেটসের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কাঠামো নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

২০২৩ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে প্রস্তুত করা এই লোকাল প্ল্যান বারার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পরিকল্পনা নথি, যা টাওয়ার হ্যামলেটসের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি কীভাবে পরিচালিত হবে তার দীর্ঘমেয়াদি রুপ নির্ধারণ করে। পরিকল্পনাটি গ্রহন করা হলে, বারার অবকাঠামো, বাসস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিবহনব্যবস্থার অগ্রাধিকারসমূহ নিশ্চিত করবে। যার মধ্যে অতিরিক্ত ভিড় কমানো, বৈষম্য মোকাবিলা করা, এবং টেকসই ও সম্প্রতির নেইবারহুড গড়ে উঠবে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “স্বাধীন পরীক্ষার জন্য এই লোকাল প্ল্যান জমা দেওয়া আমাদের বারার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রবৃদ্ধি হবে, সবার জন্য সুফল বয়ে আনবে।

“ আমাদের লক্ষ্য টেকসই ও সম্পৃতির নেইবারহুড প্রতিষ্ঠা। পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষন করে সবার জন্য বসবাস ও কাজের অসাধারণ স্থান হিসেবে টাওয়ার হ্যামলেটসকে গড়ে তোলা।”

নতুন লোকাল প্ল্যানে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিতি নীতিমালা নির্ধারন করা হয়েছে:

· প্রকৃত অর্থে সাশ্রয়ী ঘরবাড়ি নির্মান- সাশ্রয়ী ঘরবাড়ি ৪০ শতাংশে উন্নিত করা।

· চাকরি, দক্ষতা এবং সমৃদ্ধ টাউন সেন্টার

· পরিবেশ, জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষন

· ডিজাইনের মান, ঐতিহ্য এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা

· কমিউনিটি সুবিধা, খোলামেলা জায়গা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা

বারার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন সুবিধা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করতে  কৌশলগত উন্নয়ন সাইটগুলোর গুরুত্বপূর্ন উন্নয়ন সাধন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসকে ইউকের দ্রুত-বর্ধনশীল জনসংখ্যার একটি হিসেবে গণ্য করা হয়। যেখানে আগামী ২০৩২ সালের মধ্যে জনসংখ্যা প্রায় ২০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।

এই লোকাল প্ল্যান তৈরির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে। এর পরবর্তী তিন বছরে চার দফায় পাবলিক কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হয়।  এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক আলোচনা এবং ২০২৩ সালের শেষ দিকে সম্পূর্ণ রেগুলেশন ১৮ পরামর্শ গ্রহণ। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে রেগুলেশন ১৯ পরামর্শ অনুষ্ঠিত হয়, এ জন্য বারার বিভিন্ন আইডিয়া স্টোরে পাবলিক ইভেন্টস আয়োজন করা হয়। ২০২৫ সালে নীতিগুলো চূড়ান্ত করার আগে আরও লক্ষ্যভিত্তিক কনসালটেশন বা পরামর্শ অনুষ্ঠিত হয়।

কর্পোরেট ডিরেক্টর অফ হাউজিং অ্যান্ড রিজেনারেশন, ডেভিড জয়েস বলেন,  “এটি বহু বছরের বিশদ কাজ এবং বারার বাসিন্দা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠনের সাথে ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রতিফলন। প্ল্যানটি প্রকৃত অর্থে সাশ্রয়ী আবাসন, উচ্চমানের চাকরি, সমৃদ্ধ হাই স্ট্রিট এবং আমাদের কমিউনিটির বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সরবরাহের একটি স্পষ্ট এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী কাঠামো নির্ধারণ করে “।

খসড়া প্ল্যান জমা দেওয়ার মাধ্যমে টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি প্ল্যানিং (লোকাল প্ল্যানিং) (ইংল্যান্ড) রেগুলেশনস ২০১২‑এর রেগুলেশন ২২ অনুসারে আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্ল্যানটি ন্যাশনাল প্ল্যানিং পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী আইনগতভাবে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা তা যাচাই করতে একজন স্বাধীন পরিকল্পনা পরিদর্শক নিয়োগ করা হবে এবং প্ল্যানটি গ্রহণের আগে তিনি প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করতে পারেন।

আগামী সামারে (গ্রীষ্মকালে) পাবলিক কনসালটশেন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তীতে সুপারিশ করা সংশোধনগুলোর ওপর পরামর্শ গ্রহণ হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে, প্ল্যানটি ২০২৬ সালের শেষ বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করা হবে কি-না।

 প্ল্যানটি গ্রহণ করা হলে, টাওয়ার হ্যামলেটস নিউ লোকাল প্ল্যান ২০২৩–২০৩৮ বারার বর্তমান লোকাল প্ল্যান (২০২০ সালে গৃহীত) প্ল্যানটিকে প্রতিস্থাপন করবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি হত্যা: হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার

প্রকাশিত :  ১০:১৮, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ২৭ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল টাম্পা এলাকায় দেখা গিয়েছিল।

ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহের পরিবারের পক্ষ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। হিশামের ভাই সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, হিশামের অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে তারা আগেই পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন।

হিশামের ২২ বছর বয়সী ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ সিবিএস নিউজকে বলেন, তার বড় ভাই খুব দ্রুত রেগে যেতেন। রুমমেটদের সঙ্গে শেয়ার করা কোনো বাসায় তার থাকা উচিত ছিল না।

আহমদ আরও বলেন, ও (হিশাম) যে রুমমেটদের সঙ্গে থাকত, তা আমি জানতাম না। ওর হয় একা থাকা উচিত ছিল, না হয় গৃহহীন হয়ে পথে থাকা উচিত ছিল।

২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহ তার রুমমেট জামিল লিমন (২৭) এবং নাহিদা বৃষ্টি (২৭) হত্যার ঘটনায় দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি খুনের মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। গত শুক্রবার লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি চালানোর সময় গত রোববার মানবদেহের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়, যদিও সেগুলো এখনো বৃষ্টির কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, টাম্পা বে-র ওপর অবস্থিত হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর বা তার কাছাকাছি এলাকায় উভয়ের মরদেহের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে।

হিশামের ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ জানান, গত শুক্রবার সকালে হিশাম হঠাৎ তাদের বাড়িতে হাজির হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে ফোন করেছিলেন। তিনিও ফোনদাতাদের একজন ছিলেন।

আহমদ বলেন, সে খুবই অদ্ভুত আচরণ করছিল, তাই তাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমি পুলিশ ডাকি। 

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকেই পরিবারের সঙ্গে হিশাম আবুঘারবিয়েহের কোনো যোগাযোগ ছিল না।

হিশাম আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলেও একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। ঘটনার দিন লিভিং রুমে হিশামকে কেবল তোয়ালে পরা অবস্থায় ভিডিও গেম খেলতে দেখেন তার ছোট বোন। ওই সময় ছোট বোন এর প্রতিবাদ জানালে হিশাম তার দিকে এগিয়ে যান এবং চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।  

গত শুক্রবার বেশ নাটকীয়ভাবে হিশাম আবুঘারবিয়েহকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ডেপুটিরা যখন তাকে ঘিরে ধরেন, তখন তিনি কেবল একটি তোয়ালে পরা অবস্থায় হাত তুলে বেরিয়ে আসেন। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের ঠিক আগমুহূর্তে হিশাম আবুঘারবিয়েহ দুই হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন।

নিহতদের পরিবারের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়েছেন হিশামের ভাই আহমদ। এতে তিনি বলেছেন, ‘আমি তাদের কথা ভাবা বন্ধ করতে পারছি না। আমার খুবই খারাপ লাগছে। যা ঘটেছে তার জন্য আমি সত্যিই ক্ষমাপ্রার্থী। আমি এবং আমার পুরো পরিবার প্রচন্ড লজ্জা ও অপরাধবোধে ভুগছি। 

আহমদ আবুঘারবিয়েহ আরও বলেন, আমরা অতীতেও পুলিশকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম।

আদালতের নথি অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে হিশাম আবুঘারবিয়েহের বিরুদ্ধে দুইবার সুরক্ষামূলক আদেশের (প্রোটেক্টিভ অর্ডার) আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৩ সালের আবেদনটি মঞ্জুর হলেও ২০২৫ সালের আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়। 

২০২৫ সালের আবেদনটি খারিজ করার সময় বিচারক উল্লেখ করেন যে, শারীরিক লাঞ্ছনার (ব্যাটারি) ফৌজদারি অভিযোগগুলো যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হয়নি, তাই এই অনুরোধ রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

আহমদ জানান, আর্থিক সংকটের কারণে ২০২৩ সালে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ নিয়ে তিনি আর সামনে এগোননি।

তিনি বলেন, আমি অভিযোগ তুলে নিয়েছিলাম কারণ আমার মনে হয়েছিল এতে অনেক টাকা খরচ হবে। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের পরপরই আমি অনুতপ্ত হয়েছিলাম।

২০২৩ সালের সেই সুরক্ষামূলক আদেশের আবেদনের একটি কপি সিবিএস নিউজের হাতে এসেছে। সেখানে আহমদ লিখেছিলেন, তার ভাই তাকে কয়েকবার ঘুষি মেরেছিলেন ও শার্ট ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তিনি লেখেন, এতে আমার রক্তপাত হয় এবং মুখে কালশিটে পড়ে যায়। আমি পুলিশকে ফোন করতে বাইরে গেলে সে পরিবারের মিনিভ্যানটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কাজ হবে না বুঝতে পেরে সে আবার ফিরে আসে।

অন্য এক ঘটনার কথা উল্লেখ করে ছোট ভাই অভিযোগ করেন, হিশাম তার মায়ের সঙ্গে সামান্য তর্কের পর পুরো বসার ঘর (লিভিং রুম) তছনছ করে ফেলেছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ভাই ‘মাঝরাতে চিৎকার করে নিজেকে ঈশ্বর দাবি করতেন এবং বলতেন যে আমাদের সবার উচিত তার সামনে মাথা নত করা। 

হিশাম আবুঘারবিয়েহ পক্ষে লড়ছে হিলসবরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডারের অফিস। সংস্থাটির এক মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে বলেন, আমরা বুঝতে পারছি এই মামলাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। তবে পেশাগত নৈতিকতা এবং আমাদের মক্কেলের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে আমরা জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের মক্কেলের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়েই আমরা বর্তমানে মনোনিবেশ করছি।  

আহমদ আবুঘারবিয়েহের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি হিলসবরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তারা জানিয়েছে, হিশাম আবুঘারবিয়েহ সমাজের জন্য এখনো এক বড় হুমকি এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিনহীনভাবে কারাগারে রাখা উচিত। 

স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বলেন, এই অত্যন্ত কঠিন সময়ে দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল। তারা সত্য জানার জন্য যে অপেক্ষা করছেন, আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি। 

এদিকে সিবিএস নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।  

কমিউনিটি এর আরও খবর