যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা

img

সমঝোতা না হওয়ায় চুক্তি ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন ভ্যান্স

প্রকাশিত :  ০৫:০৬, ১২ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:১২, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সমঝোতা না হওয়ায় চুক্তি ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন ভ্যান্স

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। দীর্ঘ বৈঠক ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হলেও দুই পক্ষের অবস্থানগত পার্থক্য কাটেনি। ফলে কোনো সমঝোতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল দেশে ফিরছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই তারা দেশে ফিরছেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি প্রথমেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান এবং তাদের ‘অসাধারণ আতিথেয়তার’ প্রশংসা করেন।

জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আলোচনায় যে ঘাটতিগুলো রয়েগেছে, সেগুলোর জন্য পাকিস্তানিদের দায়ী করা যাবে না। তারা অসাধারণ কাজ করেছে এবং আমাদের ও ইরানের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সত্যিই চেষ্টা করেছে। আমরা প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেছি এবং ইরানিদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এটা ভালো দিক।’

তিনি আরো বলেন, “খারাপ খবর হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি এবং আমি মনে করি এটা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের জন্য বেশি খারাপ খবর। তাই আমরা কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছি। আমরা আমাদের ‘রেড লাইন’ কী, কোন বিষয়ে ছাড় দিতে পারি আর কোন বিষয়ে পারি না—সবই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি।

কিন্তু তারা আমাদের শর্ত মেনে নেয়নি।”

ভ্যান্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে না। সহজভাবে বলতে গেলে, আমরা একটি সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টাও করবে না, যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সহায়তা করবে। এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এবং আমরা এই আলোচনার মাধ্যমে সেটাই অর্জন করার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি যেমনই থাকুক, আগে যে সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ছিল, সেগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।

কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো— ইরান কি দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়ে মৌলিক অঙ্গীকার করবে? শুধু এখন নয়, দুই বছর পরও নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে? আমরা এখনো সেই প্রতিশ্রুতি দেখিনি। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে তা দেখা যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আলোচনায় বিভিন্ন ইস্যুতে কথা হয়েছে, কিন্তু কোনো অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়নি। আমরা এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরান আমাদের শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়েছে। আমি মনে করি আমরা যথেষ্ট নমনীয়, অনেক ছাড় দেওয়ার মনোভাব দেখিয়েছি। প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) আমাদের বলেছেন—সৎ উদ্দেশে এখানে আসো এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করো। আমরা সেটাই করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা কোনো অগ্রগতি করতে পারিনি।’

সূত্র: আল-জাজিরা

img

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তিক্ত পরাজয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন মোজতবা আলী খামেনি

প্রকাশিত :  ০৯:৪৩, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘নতুন ও তিক্ত পরাজয়’ উপহার দিতে তাঁর দেশের নৌবাহিনী প্রস্তুত। আজ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর এ বার্তা প্রচার করা হয়

ইরানের আর্মি ডে উপলক্ষে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ‘কুফর ও ঔদ্ধত্যের অগ্রভাগে থাকা দুই সেনাবাহিনী’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন-তাদের বিরুদ্ধে ইরানের লড়াই থামবে না।

টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানি সেনাবাহিনী শত্রুদের দুর্বলতা ও অপমান বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করে দিয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের ড্রোন ‘মার্কিন ও জায়নিস্ট অপরাধীদের ওপর বজ্রপাতের মতো আঘাত হানে’। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সাহসী নৌবাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে শত্রুদের ‘নতুন পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ’ দেওয়ার জন্য।

বার্তায় মোজতবা খামেনি চলমান যুদ্ধকে ইরানের বিপ্লবের ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দুটি ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ পেরিয়ে আজকের সংঘাত-সবই একই সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। বিপ্লবের পর থেকে ইরানি সেনাবাহিনী সবসময় তার ‘ন্যায্য অবস্থানে’ দাঁড়িয়ে দেশ রক্ষা করেছে।

সেনাবাহিনীকে তিনি ‘প্রকৃত অর্থে ইরানের সন্তান’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এই বাহিনী জনগণের হৃদয় থেকেই উঠে এসেছে। তার মতে, সেনাবাহিনী ও জনগণের এই অটুট সম্পর্কই ইরানের শক্তির মূল ভিত্তি।

মোজতবা খামেনি তার পূর্বসূরি ও নিহত পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের প্রথম দশক থেকেই সেনাবাহিনীকে টিকিয়ে রাখা ও এর সক্ষমতা বাড়াতে তার পিতা সবচেয়ে বেশি প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তিনি মূলত লিখিত বার্তার মাধ্যমেই বক্তব্য দিয়ে আসছেন।