img

মোহাম্মদপুরে ৩ দিনের ব‍্যবধানে ফের খুন

প্রকাশিত :  ১০:৫৬, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মোহাম্মদপুরে ৩ দিনের ব‍্যবধানে ফের খুন

পূর্ব শত্রুতার জেরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় আসাদুল হক উরফে লম্বু আসাদুল (২৮) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে সাদেক খান ইটখোলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা।

জানা গেছে, নিহত যুবকের নাম আসাদুল হক। এলাকায় তিনি ‘লম্বু আসাদুল’ নামে পরিচিত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার কালনায়। বাবার নাম জলিল সর্দার। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ের বি-ব্লকের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

এডিসি জুয়েল রানা জানান, রাতে বেড়িবাঁধের তিনরাস্তা মোড় থেকে হাজারীবাগ যাওয়ার পথে সাদেক খানের ইটখোলা এলাকায় আসাদুলের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেন। নিহত যুবকের বুক ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে কারা বা কেন এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের একটি সূত্রে জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডে মুন্না, নয়ন ও মিরাজসহ আরো অনেকে জড়িত। মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আসাদুলের সঙ্গে পূর্ব শত্রুর জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

এর আগে গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বটতলা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। তার রেশ কাটতে না কাটতেই লম্ব আসাদুলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটলো।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

‘বাচ্চা কান্দে ক্যান’ বলে মুখ চেপে ধরে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১২:২৯, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

\'এতো ভোরে তোর বাচ্চা কাঁন্দে ক্যান। কান্না থামা, নাইলে মাইরা ফালামু\'- এমন কথা বলে তিন মাসের শিশুর মুখ চেপে ধরে মায়ের সামনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সৎবাবার বিরুদ্ধে।

আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকার দারুস সালাম থানার বর্ধনবাড়ী এলাকায় একটি বাসায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

শিশুটির মা রাজিয়া খাতুন দারুস সালাম থানায় স্বামী অপূর্বর (২২) বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবারই তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন তাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজিয়া খাতুনের প্রথম স্বামীর ঘরে দুই সন্তান। বড় মেয়ে তার সাভারে নানীর কাছে থেকে। সপ্তাহখানেক আগে তিন মাসের ছেলেকে কোলে নিয়ে অপূর্বের সঙ্গে রাজিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। অবশ্য অপূর্বর এটি প্রথম বিয়ে। তারা বর্ধনবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। অপূর্ব মাদকাসক্ত এবং এলাকায় খুচরা মাদক বিক্রি করেন।

দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাকারিয়া সমকালকে বলেন, শুক্রবার ভোরে শিশুটি বিছানায় মায়ের পাশে কান্নাকাটি করছিল। এ সময় ঘুম থেকে জেগে উঠে অপূর্ব স্ত্রীকে শিশুর কান্না থামাতে বলে। কান্না না থামালে শিশুকে মেরে ফেলার বলে হুমকি দেন। শিশুটির কান্না থামছিল না। এ সময় অপূর্ব হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে। একপর্যায়ে দম বন্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।

ওসি জাকারিয়া আরও বলেন, শিশুটির মা রাজিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অপূর্বকে আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।