img

শিশুর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার, জড়িত সন্দেহে দুইজনকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশিত :  ০৬:৫৭, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

শিশুর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার, জড়িত সন্দেহে দুইজনকে পিটিয়ে হত্যা

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপারা ইউনিয়ন এলাকার বনপারিল কান্দুরপার ব্রিজ গ্রামে ৮ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল (কান্দুরপার ব্রিজ) এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

হতাহতরা হলেন—বনপারিল গ্রামের ইজিবাইকচালক পান্নু মিয়া (৪৫) ও তার ভাই ফজলু মিয়া (২৮)। এ ঘটনায় পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুল (২০) গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৫টার দিকে বনপারিল গ্রামের দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এলাকায় মাইকিং করে খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির কানে থাকা স্বর্ণের দুল ও গলার চেইন লুটের উদ্দেশে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

এ ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই এলাকার বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে আটক করে মারধর করা হয়। এতে অটোচালক পান্নু মিয়া (৩৮) ও তার ভাই ফজলু (২৮) নিহত হন। গুরুতর অবস্থায় পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুলকে (২০) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে গণপিটুনির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

‘বাচ্চা কান্দে ক্যান’ বলে মুখ চেপে ধরে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১২:২৯, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

\'এতো ভোরে তোর বাচ্চা কাঁন্দে ক্যান। কান্না থামা, নাইলে মাইরা ফালামু\'- এমন কথা বলে তিন মাসের শিশুর মুখ চেপে ধরে মায়ের সামনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সৎবাবার বিরুদ্ধে।

আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকার দারুস সালাম থানার বর্ধনবাড়ী এলাকায় একটি বাসায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

শিশুটির মা রাজিয়া খাতুন দারুস সালাম থানায় স্বামী অপূর্বর (২২) বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবারই তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন তাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজিয়া খাতুনের প্রথম স্বামীর ঘরে দুই সন্তান। বড় মেয়ে তার সাভারে নানীর কাছে থেকে। সপ্তাহখানেক আগে তিন মাসের ছেলেকে কোলে নিয়ে অপূর্বের সঙ্গে রাজিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। অবশ্য অপূর্বর এটি প্রথম বিয়ে। তারা বর্ধনবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। অপূর্ব মাদকাসক্ত এবং এলাকায় খুচরা মাদক বিক্রি করেন।

দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাকারিয়া সমকালকে বলেন, শুক্রবার ভোরে শিশুটি বিছানায় মায়ের পাশে কান্নাকাটি করছিল। এ সময় ঘুম থেকে জেগে উঠে অপূর্ব স্ত্রীকে শিশুর কান্না থামাতে বলে। কান্না না থামালে শিশুকে মেরে ফেলার বলে হুমকি দেন। শিশুটির কান্না থামছিল না। এ সময় অপূর্ব হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে। একপর্যায়ে দম বন্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।

ওসি জাকারিয়া আরও বলেন, শিশুটির মা রাজিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অপূর্বকে আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।