দ্বিতীয় দফা সংলাপ: হুমকিও দিচ্ছেন, পাকিস্তানে প্রতিনিধিও পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা সংলাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষের ঠিক দুই দিন আগে। গতকাল রোববার রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি প্রতিনিধি দল সোমবার পাকিস্তান পৌঁছাবে। তবে ইরান দ্বিতীয় দফা সংলাপে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে ‘মিডিয়া গেম’ বলে তেহরান জানিয়েছে, ইসলামাবাদে আলোচনার খবর সঠিক নয়। ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবি, অবস্থান পরিবর্তন ও নৌ অবরোধ’কে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেছে তারা। এর আগে আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছিল, যতক্ষণ ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ থাকবে, ততক্ষণ তেহরান প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একদিকে যেমন প্রতিনিধি পাঠানোর কথা জানিয়েছেন, তেমনি ইরানকে উদ্দেশ করে নতুন হুমকিও দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আর কোনো ভদ্রতা নয়। চুক্তি না করলে প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেব।’ একই দিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই এখনও শেষ হয়নি এবং যে কোনো সময় নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এর আগে চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রায় ২১ ঘণ্টার সংলাপ কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। এরপর থেকেই দ্বিতীয় দফা সংলাপের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনও সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে স্পিকার ও সর্বশেষ সংলাপের অন্যতম আলোচক বাঘের গালিবাফ গত শনিবার রাতে বলেন, ‘চূড়ান্ত আলোচনার জন্য উভয় পক্ষের দূরত্ব এখনও কাটেনি।’ রোববার ট্রাম্প বলেন, তাদের পক্ষ থেকে ন্যায্য ও যুক্তিসংগত চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হবে।
ইসলামাবাদ সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে রাজি হয়নি। সর্বশেষ গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার কে?’ ফলে সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে এখনও পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অন্যতম প্রতিবন্ধক হিসেবে টিকে আছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার বলেছিলেন, ইরান তাদের প্রায় ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এগুলো কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিও কখনও আলোচনায় ওঠেনি।
তবে দ্বিতীয় দফা সংলাপে ইরানকে রাজি করাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান। গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিটের ফোনালাপে অংশ নেন। এ সময় আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে ইসলামাবাদের যোগাযোগের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।
তেহরানের মিশ্র বার্তা
আলজাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি গতকাল লেখেন, আলোচনার আগে ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের বার্তাই পাওয়া যাচ্ছে। ইরানি প্রেসিডেন্ট একদিকে যেমন ট্রাম্পের কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, একইভাবে তেহরান যুদ্ধ চায় না বলেও বার্তা দিয়েছেন। তৌহিদ আসাদি লেখেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, এই অনিশ্চয়তাকে তেহরান দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
প্রতিনিধি দলে ফের ভ্যান্স?
যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক বা প্রতিনিধি দলে এবার কারা থাকবেন, তা গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত পুরোপুরি জানানো হয়নি। আগেরবার নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স থাকবেন কিনা, তা নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ভ্যান্স পাকিস্তানে যাচ্ছেন না।
কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, ভ্যান্সই মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। তাঁর সঙ্গে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও অংশ নেবেন। প্রথম দফার সংলাপে এ তিনজনই ছিলেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ এবং জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
প্রত্যাশিত আলোচনার আগে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গতকাল পুরো শহর এবং পাশের রাওয়ালপিন্ডিতে রাস্তা বন্ধ ও যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এএফপির সাংবাদিকরা ইসলামাবাদের সবচেয়ে সুরক্ষিত হোটেল ম্যারিয়ট ও সেরেনার কাছে সশস্ত্র রক্ষী ও চেকপোস্ট দেখেছেন।



















