img

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল বাড়ালেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৫:১৮, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:২৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল বাড়ালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হাজারো মানুষের প্রাণহানি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে টালমাটাল করে দেওয়া যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এ ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের অনুরোধে তিনি সম্মতি দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান সরকার মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে- যা অপ্রত্যাশিত ছিল না।

তিনি বলেন, ইরানের নেতা ও প্রতিনিধিরা ‘একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে আসার আগ পর্যন্ত’ দেশটিতে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধে তিনি রাজি হয়েছেন।
দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা কোনো একটি চূড়ান্ত পরিণতিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত’ এটা কার্যকর থাকবে।

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোয় বোমা হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার দেওয়া হুমকি থেকে পিছু হটার এটিই সর্বশেষ উদাহরণ।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ অনেকেই বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে এ ধরনের হামলা নিষিদ্ধ।

রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইরান, ইসরায়েল বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরান বা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দুই মাসের যুদ্ধের মিত্র ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকাল বাড়ানোর ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে কি না, তাও পরিষ্কার হয়নি।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ছবি তুলছিল পাইলট, মাঝ আকাশে ২ যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ

প্রকাশিত :  ১৫:৪৩, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৪৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান ২০২১ সালে মাঝ আকাশে সংঘর্ষে জড়ায়। পরে জানা যায়, কোনো কারিগরি ত্রুটি নয়; পাইলটরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটান। এ তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বোর্ড বোর্ড অব অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন

আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) বিবিসির খবরে বলা হয়, দায়েগু শহরের ওপর দিয়ে উড্ডয়ন মিশন চালানোর সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুই পাইলটই অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেলেও দুটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেরামত বাবদ সামরিক বাহিনীর খরচ হয়েছে ৮৮ কোটি ওয়ান (প্রায় ৫৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার)।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক পাইলট পরে সামরিক বাহিনী ছেড়ে দেন। তাকে ৮৮ মিলিয়ন ওয়ান জরিমানা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পাইলট তার ইউনিটের সঙ্গে শেষ ফ্লাইট স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন বলেই এই ঘটনা ঘটে। অডিট বোর্ড আরও জানায়, গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইটে ছবি তোলা তখন পাইলটদের মধ্যে ‘ব্যাপকভাবে প্রচলিত একটি অভ্যাস’ ছিল। ফ্লাইটের আগে ব্রিফিংয়েই ওই পাইলট তার ছবি তোলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তিনি উইংম্যান বিমান চালাচ্ছিলেন। ফেরার সময় নিজের মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তোলা শুরু করেন। লিড পাইলট এটি দেখে তার বিমানে থাকা অন্য পাইলটকে উইংম্যান বিমানের ভিডিও ধারণ করতে বলেন।

এরপর উইংম্যান পাইলট হঠাৎ বিমানটি ওপরে তুলে উল্টে দেন, যাতে ভালোভাবে ছবি ও ভিডিও তোলা যায়। এই ম্যানুভারের ফলে দুটি বিমান খুব কাছাকাছি চলে আসে।

সংঘর্ষ এড়াতে লিড বিমান দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুটি এফ-১৫কে বিমানের সংঘর্ষ হয়। লিড বিমানের বাম ডানা এবং উইংম্যান বিমানের লেজের স্টেবিলাইজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান বাহিনীতে পেশাদারত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর