img

যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব: ইরানের কাছ থেকে দ্রুত জবাব চায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ২১:৩৮, ০৮ মে ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব: ইরানের কাছ থেকে দ্রুত জবাব চায় যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনা করছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্র জবাব চায় আজই।

আজ শুক্রবার (৮ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে যেকোনো ধরনের ‘আগ্রাসন ও হঠকারিতার’ জবাব দিতে তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত।

তবে আজই ইরানের জবাব আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে শুক্রবারের মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

শুক্রবার (৮ মে) ইতালির রাজধানী রোমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, আমরা দেখব ইরানের জবাবে কী থাকে। আমাদের প্রত্যাশা হলো, এটি এমন কিছু হবে যা আমাদের একটি কার্যকর ও গুরুতর আলোচনার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে সহায়তা করবে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম-এর বরাতে জানা গেছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাগাই গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সামরিক সংঘাতের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’ জানিয়েছে, গত এক ঘণ্টা ধরে ওই অঞ্চলে ইরানি বাহিনী এবং মার্কিন রণতরীগুলোর মধ্যে ‘বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ’ চলছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের পরমাণু অস্ত্র বানানো নিয়ে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের গোপন তথ্যে চাঞ্চল্য

প্রকাশিত :  ১৪:৪৪, ০৯ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছিল যে দেশটি কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। 

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কেন্ট এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। 

তার মতে, সিআইএ-সহ মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায় যুদ্ধের আগেই সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেছিল যে আক্রান্ত হলে ইরান এশীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।

জো কেন্টের অভিযোগ, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঠিক ও পেশাদার মূল্যায়ন সত্ত্বেও একটি বিদেশি রাষ্ট্র তথা ইসরাইলের তৈরি করা বয়ান এবং এজেন্ডা এই তর্কে জয়ী হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। 

তিনি মনে করেন, ইরানি নেতৃত্বের ওপর হামলা চালালে শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং কট্টরপন্থীরা উৎসাহিত হবে—গোয়েন্দাদের এমন পূর্বাভাস সত্য হওয়া সত্ত্বেও ইসরাইলি প্রভাবে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত মার্চ মাসে নৈতিক কারণে পদত্যাগ করা কেন্ট তার পদত্যাগপত্রেও উল্লেখ করেছিলেন যে ইরান আমেরিকার জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না এবং কেবল ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী লবির চাপেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

তবে জো কেন্টের এসব দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, কেন্টের দাবিগুলো ভিত্তিহীন এবং অবমাননাকর। 

তিনি উল্লেখ করেন, ইরান বিশ্বের বৃহত্তম সন্ত্রাসবাদী পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র এবং তাদের পক্ষ থেকে আমেরিকানদের ওপর হামলার আসন্ন হুমকি ছিল বলেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইঙ্গল আরও জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও গত এপ্রিলে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে ইসরাইল তাকে ইরানের সাথে যুদ্ধে নামতে প্ররোচিত করেনি। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার ভয়াবহতা এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আশঙ্কাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। 

ট্রাম্পের দাবি, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়, তা নিশ্চিত করা তার আজীবনের রাজনৈতিক অবস্থান। বর্তমানে দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ফলে ইরানের যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: ফক্স নিউজ।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর