img

হুমকি দিয়ে লাভ নেই, হকারদের আমরা ফুটপাতে এলাউ করব না: সিসিক প্রশাসক

প্রকাশিত :  ০৬:৪৫, ১৮ মে ২০২৬

 হুমকি দিয়ে লাভ নেই, হকারদের আমরা ফুটপাতে এলাউ করব না: সিসিক প্রশাসক

ফুটপাতের হকারদের উদ্দেশে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, হুমকী-ধামকি দিয়ে লাভ হবে না। হকারদের আমরা আর ফুটপাত বা রাস্তায় এলাউ করব না।

ঈদের আগে বিকেল ৫ টার পর নগরের ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ চেয়ে রোববার সিটি করপোরেশনের সামনে বিক্ষোভ করেন হকাররা। তাদের এই আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় এমনটি বলেন সিসিক প্রশাসক।

সিসিক প্রশাসক বলেন, যত্রতত্র যেকোন জায়গায় বসে বা ফুটপাত দখল করা, এইগুলা আমরা আমলে নেবো না। আমরা চাই আইনের শাসন।

তিনি বলেন, আমরা তাদের ব্যবসার জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছি। সেখানেই বসতে হবে।

শনিবেরের হকারদের আন্দোলনের সময় কয়েকজনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যতই হুমকি-ধামকি দেন। সিটি করপপোরেশনকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন, এসব ভালো করছেন না, এতে কাজ হবে না। রাস্তায় আমরা মোটেই এলাউ করব না।

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, প্রত্যেকবারই ঈদ আসার আগে যারা ফুটপাতে ব্যবসা করেন, তাদের পক্ষ থেকে এই দাবি আসে। গতবারও তারা এই দাবি নিয়ে এসেছিলেন। আমরা মানবিক বিবেচনায় তাদের তিনদিন সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রত্যেকবার এ সুযোগ দেওয়া সম্ভব না। কারণ সুন্দর নগর গড়তে হলে ফুটপাত পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুটপাতে পণ্যের পসরা নিয়ে বসলে মানুষ কীভাবে চলাচল করবে? তাছাড়া হকারদের কারণে মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হন। তারাও অভিযোগ করেন।

এরআগে রোববার বিকেল ৫টার পর নগরের ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন সিলেটের হকাররা।

রোববার দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটকের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে নগরের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক হকার অংশ নেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে ছিলো ভাতের থালা। বিভিন্ন দাবব্সিম্বলিত প্ল্যাকার্ডও ছিলো কয়েকজনের হাতে।

এসময় হকাররা বলেন, সারাদিন ব্যবসা করতে না পারলেও অন্তত বিকেল ৫টার পর ফুটপাতে বসে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দিতে হবে। তারা দাবি করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ফুটপাতের ব্যবসাই অনেক পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযানের নামে ‘পুলিশি নির্যাতন’ ও মালামাল জব্দের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযানে প্রায়ই হকারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, যা মানবিক নয়।

হকাররা আরও বলেন, কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়বেন। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফুটপাতে ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

গোয়াইনঘাটে নাতনিকে অপহরণে বাধা দেওয়া দাদিকে হত্যা: মূল আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৬:৫৫, ১৮ মে ২০২৬

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে বসতঘরে ঢুকে এক কিশোরীকে (১৪) অপহরণে বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধা হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  গতকাল রোববার (১৭ মে) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। র‌্যাব-৯ সিলেটের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতার হওয়া হারুন রশিদ (৩৫) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে প্রবল বর্ষণের সুযোগ নিয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত নয়াপাড়া (বীরমঙ্গল হাওর) এলাকার একটি বসতঘরে প্রবেশ করে। এসময় তারা ঘরে থাকা কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। কিশোরীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

একপর্যায়ে কিশোরীর দাদি দিলারা বেগম বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের ডান পাশে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলায় আহত কিশোরী বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়াইনঘাট থানায় (১৭মে) রবিবার একটি হত্যা মামলা নং-১২ দায়ের করা হয়েছে। মামলা দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় এ মামলাটি রুজু করা হয়। মামলার তদন্ত দায়িত্ব পালন করছেন থানার এসআই (নিঃ) কাজী আশরাফুল হক।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত হারুন রশিদের সঙ্গে নিহত পরিবারের ছেলে আম্বিয়া আহমদের পূর্ব থেকে আর্থিক লেনদেন ও বিরোধ ছিল। সেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। পরে র‌্যাব-৯-এর সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল আসামিকে তার ফুফুর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর