img

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বিজিবির অভিযান: জাল কাস্টমস কাগজসহ ১ কোটির অধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরাসহ ০২ জন আটক

প্রকাশিত :  ১৮:২৮, ১৮ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বিজিবির অভিযান: জাল কাস্টমস কাগজসহ ১ কোটির অধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরাসহ ০২ জন আটক

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) মাধবপুর উপজেলাধীন মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তামাবিল ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন, সিলেট কর্তৃক প্রদানকৃত কাগজ (Bill of Entry/Export) জালিয়াতি করে অবৈধভাবে পরিবহনকৃত ১ কোটি অধিক টাকা মূল্যের ৬,০০০ কেজি (২০০ বস্তা) ভারতীয় জিরা ও ট্রাকসহ ০২ জনকে আটক করেছে।

গতকাল (১৭ মে) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর একটি চৌকস আভিযানিকদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাধবপুর উপজেলাধীন মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। এসময় একটি ট্রাক আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা সন্দেহজনকভাবে সংকেত দিয়ে ট্রাকটি থামায়। পরবর্তীতে ট্রাকটি তল্লাশি করে গাড়িতে বহনকৃত মালামালের সঙ্গে থাকা কাগজপত্র (Bill of Entry/Export) কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় যাচাই-বাছাই করা হলে তা জাল/নকল বলে প্রমাণিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাকে বহনকৃত ৬,০০০ কেজি ভারতীয় জিরা, ট্রাক (চট্ট-মেট্রো-ট ১১-৬৯৯১) এবং সংশ্লিষ্ট ০২ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলো- মোঃ সেলিম মিয়া (৩১), গ্রাম- খারোবিল, ডাকঘর- জৈন্তাপুর, থানা- জৈন্তাপুর, জেলা- সিলেট এবং মোঃ আজমল হোসেন (২০), গ্রাম- ২নং লক্ষীপুর, ডাকঘর- জৈন্তাপুর, থানা- জৈন্তাপুর, জেলা- সিলেট।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, কতিপয় অসাধু চোরাকারবারি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদানকৃত বৈধ কাগজপত্র (Bill of Entry/Export) পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি/নকল করে একই কাগজ প্রদর্শনের মাধ্যমে অবৈধ মালামাল পরিবহন করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর বিজিবি সীমান্ত এলাকায় নিবিড় নজরদারি ও যাচাই কার্যক্রম আরও জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ অবৈধভাবে পরিবহনকৃত এসব মালামাল জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত ভারতীয় জিরা, যানবাহন এবং আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে মাধবপুর থানায় মামলা দায়েরসহ হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান জানান, দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত রাখা এবং চোরাচালান সম্পূর্ণরূপে দমনে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।  ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

গোয়াইনঘাটে নাতনিকে অপহরণে বাধা দেওয়া দাদিকে হত্যা: মূল আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৬:৫৫, ১৮ মে ২০২৬

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে বসতঘরে ঢুকে এক কিশোরীকে (১৪) অপহরণে বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধা হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  গতকাল রোববার (১৭ মে) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। র‌্যাব-৯ সিলেটের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতার হওয়া হারুন রশিদ (৩৫) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে প্রবল বর্ষণের সুযোগ নিয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত নয়াপাড়া (বীরমঙ্গল হাওর) এলাকার একটি বসতঘরে প্রবেশ করে। এসময় তারা ঘরে থাকা কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। কিশোরীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

একপর্যায়ে কিশোরীর দাদি দিলারা বেগম বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের ডান পাশে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলায় আহত কিশোরী বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়াইনঘাট থানায় (১৭মে) রবিবার একটি হত্যা মামলা নং-১২ দায়ের করা হয়েছে। মামলা দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় এ মামলাটি রুজু করা হয়। মামলার তদন্ত দায়িত্ব পালন করছেন থানার এসআই (নিঃ) কাজী আশরাফুল হক।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত হারুন রশিদের সঙ্গে নিহত পরিবারের ছেলে আম্বিয়া আহমদের পূর্ব থেকে আর্থিক লেনদেন ও বিরোধ ছিল। সেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। পরে র‌্যাব-৯-এর সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল আসামিকে তার ফুফুর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর