img

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলি, তাৎক্ষণিক বিজিবির পাল্টা ফায়ার

প্রকাশিত :  ০৭:৫২, ১৯ মে ২০২৬

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলি, তাৎক্ষণিক বিজিবির পাল্টা ফায়ার

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলাস্থ সোনারহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলি ছোড়ার ঘটনার জবাবে পাল্টা গুলি চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (১৮ মে) বিকেলে এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কড়া প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা ফায়ার করায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) আওতাধীন গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) হঠাৎ গুলিবর্ষণ করে। কোনো পূর্ব উসকানি ছাড়াই এই ঘটনার পরপরই বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফায়ার করে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিজিবি জানায়, সীমান্তে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিলেন এবং পরিস্থিতি বুঝে দ্রুতই যথাযথ জবাব দেওয়া হয়। এতে ভারতীয় বাহিনী পিছু হটে বলে দাবি করা হয়েছে। 

ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদেরও সীমান্ত এলাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অননুমোদিত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে সিএনজি ও লাইটেস চালকদের সংঘর্ষ

প্রকাশিত :  ১৩:২৩, ১৯ মে ২০২৬

চৌমুহনায় সড়ক অবরোধে প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ মহাসড়কে যান চলাচল, আহত কয়েকজন সাংবাদিকসহ অনেকে

সংগ্রাম দত্ত: পর্যটন নগরী  শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরে সিএনজি অটোরিকশা চালক ও লাইটেস (মাইক্রোবাস) চালকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের জেরে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোড এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি প্রাইভেটকারের মধ্যে ওভারটেক করাকে কেন্দ্র করে দুই চালকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে উভয় পক্ষের সমর্থক চালকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলের পরিবহন খাতের দুই শ্রমিক গ্রুপ—‘২৩৫৯’ সিএনজি চালক গ্রুপ ও ‘১২২৩’ লাইটেস চালক গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। মূলত সেই পূর্ববিরোধের জের ধরেই সংঘর্ষ আরও বড় আকার ধারণ করে।

সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ২৩৫৯ গ্রুপের সিএনজি চালকেরা শ্রীমঙ্গল শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনা এলাকায় অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এসময় সড়কের ওপর যানবাহন দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

অবরোধের কারণে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও স্থানীয় যানবাহন দীর্ঘসময় আটকা পড়ে। এতে নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সংঘর্ষ ও অবরোধের কারণে পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। আহত সাংবাদিকরা হলেন—ইসমাইল মাহমুদ, আমজাদ হোসেন বাচ্চু, মোঃ এহসানুল হক মুজাহিদ, এস কে দাস সুমন, নুর মোহাম্মদ সাগর ও আল আমিন। দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দিলে প্রায় তিন ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। যারা সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”

পর্যটন নগরী ও চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে ঈদকে সামনে রেখে যখন পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিল, ঠিক সেই সময় এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ঈদ মৌসুমে পর্যটন খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমানে শ্রীমঙ্গলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ।


সিলেটের খবর এর আরও খবর