img

ট্রাম্পের যে ২ শর্তে আটকে আছে শান্তিচুক্তি

প্রকাশিত :  ০৫:৪৩, ৩০ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৩০, ৩০ মে ২০২৬

ট্রাম্পের যে ২ শর্তে আটকে আছে শান্তিচুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও। আলোচনা এখনও চলমান। গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে প্রায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানো যায় কিনা, তা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের দেওয়া দুটি মূল শর্তে এখনও একমত হতে পারেনি ইরান। ফলে শান্তিচুক্তি আটকে আছে। শিগগিরই হোয়াইট হাউসে বসে ইরানের প্রস্তাবগুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপদ কক্ষে বৈঠক করে তিনি ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ইরান তার প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর কথা বলেছে, যাতে স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য কূটনীতিকরা আরও সময় পান।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ট্রাম্প ‘সিচুয়েশন রুমে’ প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন, তবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা হবে এমন চুক্তিই করবেন ট্রাম্প। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।’ ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চুক্তির অনেকটা কাছাকাছি পৌঁছানো গেছে, তবে এখনও চূড়ান্ত সম্মতি মেলেনি।

ট্রাম্প ইরানকে দুটি শর্ত দিয়েছেন। প্রথমত, হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে এবং সেখানে যুদ্ধের আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো সুযোগ রাখা যাবে না। তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো শর্তেই রাজি হয়নি। ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা বানাতে পারবে না—এ বিষয়ে তাদের সম্মত হতেই হবে। হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে এবং সেখান দিয়ে চলাচলের জন্য কোনো শুল্ক আদায় করা যাবে না।’ এছাড়া ইরান থেকে মাটি খুঁড়ে পারমাণবিক সামগ্রী বের করে আনবে যুক্তরাষ্ট্র বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স দাবি করেছে, ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য মূলত যুদ্ধে ‘জয়’ দেখানোর চেষ্টা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ কেবল ইরান ও ওমানের হাতে থাকা উচিত। তারা আরও জানিয়েছে, হরমুজে ইরানি জাহাজের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ না উঠলে প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরান হরমুজ থেকে নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নিলে যুক্তরাষ্ট্রও ধীরে ধীরে ইরানি জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোন পক্ষ কতটা ছাড় দিতে রাজি, সেই চিত্র স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৬:৩৯, ৩০ মে ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন । শুক্রবার (২৯ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি নিয়ে খুব দ্রুতই আমরা সিচুয়েশন রুমে বৈঠবে বসতে যাচ্ছি। তবে সম্ভাব্য যেকোনও চুক্তির অন্যতম শর্ত হলো, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করতে পারবে না। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে উভয় দিক থেকে জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা এবং সেখানে স্থাপিত সব মাইন অপসারণের বিষয়টিও চুক্তির অংশ হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে সেখানে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো পুনরায় নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবে। তবে নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই চুক্তির আওতায় কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন হবে না বলেও জানান তিনি।

এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া কাঠামো নিয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে এটি এখনও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ রয়েছে। ইরানি সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তির কিছু বিষয়কে নিজের মতো করে উপস্থাপন করেছেন।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনও পরিকল্পনা করছে না।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, চুক্তির ভাষা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তার ভাষায়, উভয় পক্ষ সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে, তবে চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

সূত্র : আল জাজিরা