img

দিল্লিতে নিজ ফ্ল্যাটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি অধ্যাপিকা খুন

প্রকাশিত :  ০৭:২৬, ০৫ জুন ২০২৬

দিল্লিতে নিজ ফ্ল্যাটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি অধ্যাপিকা খুন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নিজ বাসা থেকে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত দেবস্মিতা পাল ছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিবাজি কলেজের সহকারী অধ্যাপক।

আজ শুক্রবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারণা করা হচ্ছে বৃহস্পতিবার তাকে হত্যা করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকার একটি আবাসিক ভবনে একাই বসবাস করতেন দেবস্মিতা পাল। তার স্বামী কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দেবারতি পাল নামে এক নারী পুলিশকে ফোন করে জানান, তার বোনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল এবং দেবস্মিতা কোনো ফোনকলেরও জবাব দিচ্ছিলেন না।

উদ্বিগ্ন হয়ে দেবারতি পাল ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি তার বোনের মরদেহ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, ভারী কোনো বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহে মাথায় গভীর ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া তার হাতের কব্জির শিরা কাটা অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ডাকাতি বা চুরির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ফ্ল্যাটে থাকা গয়না ও নগদ অর্থ অক্ষত অবস্থায় ছিল। ফলে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ঘটনার পর পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্তের জন্য একাধিক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড এবং নিহতের ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


img

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নাদিয়া হত্যার বিচার শেষ হয়নি ১৫ বছরেও

প্রকাশিত :  ০৭:১৪, ২৫ মে ২০২৬

দীর্ঘ ১৫ বছরেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কামরুন নাহার নাদিয়া হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়নি । সেই সময়ের চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি এখনও সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। অনেক দিন ধরে বিচার চলায় বারবার ডেকেও সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীর স্বজনের অভিযোগ, নানা কারসাজি ও টালবাহানায় সময়ক্ষেপণ করছে আসামিপক্ষ। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত আদালতের মালখানা থেকে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।  

মামলাটি পরিচালনায় যুক্ত আইনজীবী ফখরুল ইসলাম বলেন, আসামিপক্ষ আবারও সাক্ষীদের জেরা করতে চাওয়ায় নতুন করে তাদের হাজির করতে হচ্ছে। ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচ-ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকিদের হাজির করা যাচ্ছে না। এ জন্য গত বছর আবারও তাদের নামে সমন জারি করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ রয়েছে ১১ জুন।

তিনি বলেন, দুবার আদালত বদল, বিচারিক প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত গতি না আসার বড় কারণ বিচারক পরিবর্তন। কারণ, নতুন বিচারকের আবার পুরো ঘটনা জানতে হয়। তাছাড়া মামলার তারিখ হয় দেরি করে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এ মামলার গতি আরও কমে যায়। 

২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল। নাদিয়ার লাশ গুম করার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছিলেন তাঁর স্বামী সিকদার শফিকুর রহমান রেজা। কৌশলে স্ত্রীর মৃতদেহ গাড়ির পেছনের আসনে বসে থাকার ভঙ্গিতে রেখে বিভিন্ন সড়কে ঘুরছিলেন তিনি। যাতে কেউ দেখলে নাদিয়াকে মৃত বলে বুঝতে না পারেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তার গাড়িচালক রবিউল ইসলাম হঠাৎ ঢুকে পড়েন শাহবাগ থানা চত্বরে। ধরা পড়েন রেজা। পরে জানা যায়, এর আগের দিন হাজারীবাগের বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করেন তিনি। 

এ ঘটনায় তখন ‘লাশ বসে আছে গাড়িতে!’ শিরোনামে ছবিসহ খবর প্রকাশ হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাজারীবাগ থানায় করা মামলাটির তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রেজা, তার ভাই সাইফুল ইসলাম সোহেল ও তাদের মা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তিনজনই এখন জামিনে রয়েছেন।

মামলার বাদী ও নিহতের ভাই শরীফ আহমেদ শাহরিয়ার সিরাজী সুজন বলেন, বোনের হত্যাকারীদের সাজার অপেক্ষায় দেড় দশক কেটে গেল। আমরা হতাশ, কতদিন ধরে একটা মামলা এভাবে চলতে পারে। আসামিপক্ষ নানা কৌশলে আদালতের সময় নষ্ট করে চলেছে। তারা টাকা দিয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। 

সুজনের অভিযোগ, রেজা মামলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আলামত আদালতের মালখানা থেকে নিয়ে আর ফেরত দেননি। হত্যাকাণ্ডের পর তার প্রাইভেটকার, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, হত্যায় ব্যবহৃত কাঠের বাতি, কাঠের টুকরো ও নাদিয়ার সালোয়ার-কামিজ জব্দ করে পুলিশ। মামলা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় রেজা এসব আলামত পাওয়ার জন্য আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ২০১২ সালের ২৫ জুন সেগুলো মালখানা থেকে বুঝে নেন রেজা। সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে আদালত কাঠের বাতি ও টুকরো উপস্থাপনের নির্দেশ দিলেও তা দেয়নি আসামিপক্ষ। ফলে আলামত গায়েবের অভিযোগে ওই সময় রেজার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান আদালত।

অবশ্য আসামিপক্ষের দাবি, বাদীপক্ষ সাক্ষীদের ঠিকমতো হাজির করতে না পারায় আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে। আর মামলার আলামত কাঠের বাতি ও টুকরো তারা আদালতের কাছে চাননি এবং মালখানা থেকেও নেননি।  

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, ২০১৭ সালে আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেন হত্যায় অভিযুক্ত রেজা। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি স্থানান্তর করা হয় চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। এর আগেই ১৪-১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে কয়েকজনের সাক্ষ্য আবারও নেওয়ার আবেদন করে আসামিপক্ষ। এর আগে মামলাটি প্রথমে ছিল প্রথম মহানগর দায়রা জজ আদালতে। পরে সেটি স্থানান্তর করা হয় তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালতে। 

শিক্ষা এর আরও খবর