img

সম্পদ অবমুক্ত না হলে অচলাবস্থা কাটবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল ইরান

প্রকাশিত :  ০৭:৪২, ০৬ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৪৬, ০৬ জুন ২০২৬

সম্পদ অবমুক্ত না হলে অচলাবস্থা কাটবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল ইরান

তেহরানের জব্দ করা ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত না করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটি সতর্ক করে বলেছে, ওয়াশিংটন যদি আবার সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে পরিস্থিতি একটি ‘অন্ধকার করিডোরে’ প্রবেশ করবে এবং এর পরিণতি হতে পারে আরও ভয়াবহ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেন, ‘আলোচনা বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে এবং এই অচলাবস্থা ভাঙার দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। এখন বল ট্রাম্পের কোর্টে।’

খবরে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই মুহূর্তে অর্থ অবমুক্ত করা হলে ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাপ প্রয়োগের উপায় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান, যা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হবে। একই সঙ্গে তিনি এমন কোনো ব্যবস্থার বিরোধিতা করছেন, যা ইরানকে সরাসরি বিপুল অঙ্কের অর্থ হস্তান্তরের মতো মনে হতে পারে।

এদিকে শুক্রবার ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ওমান উপসাগরে অবস্থানরত দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের দিকে ‘সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র’ নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে জাহাজ দুটি এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ’র বরাত দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ‘হয়রানি, বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের’ প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। সেন্টকমের ভাষ্য, ‘ইরানি বাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজে কোনো হামলা চালায়নি বা গুলি ছোড়েনি। এমন ঘটনা ঘটলে তা যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন হতো।’

তারা আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী আঞ্চলিক জলসীমায় স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে আরোপিত অবরোধ কার্যকর রাখছে।

গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এটি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী একটি ঘটনা। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সামরিক অভিযানের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের সংঘর্ষ বন্ধ থাকলেও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ ও মধ্যস্থতাকারী আলোচাগুলো এখনো সফল হয়নি।

বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে এবং ওয়াশিংটন আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবশিষ্ট বিমানবাহিনীর সক্ষমতা ধ্বংস করেছে এবং দেশটির প্রচলিত নৌবাহিনীকেও কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা অবরোধ গড়ে তোলে। স্বাভাবিক অবস্থায় বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে।

এদিকে একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনায় ভূমিকা রাখতে পারেন এমন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান হলো, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৯০০ পাউন্ড উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যার কিছু অংশ অতীতে মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থাপনাগুলোতে সংরক্ষিত ছিল। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তারা বজায় রাখতে চায়।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

প্রকাশিত :  ১৪:৫৬, ০৬ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:২৩, ০৬ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত আকারের সামরিক উত্তেজনা এবং এর রেশ ধরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। 

শনিবার (৬ জুন) সকালে বিশ্ববাজারে তেলের বেঞ্চমার্কগুলোতে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। মূলত শুক্রবারের (৫ জুন) সামরিক সংঘাতটি বড় কোনো রূপ নেয়নি—বিনিয়োগকারীদের এমন মূল্যায়নের পরই বাজারে এই প্রভাব পড়ে।

তেল ও জ্বালানি বিষয়ক ওয়েবসাইট অয়েলপ্রাইজ ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.৯৪ ডলার বা ২.০৪ শতাংশ কমে ৯৩.০৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.৬ শতাংশেরও বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯০.৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

এছাড়া অন্যান্য তেলের মধ্যে মারবান ক্রুডের দাম ৩.০২ শতাংশ কমে ৯০.৬৮ ডলার এবং ওয়েস্টার্ন কানাডিয়ান সিলেক্টের দাম ৩.৫৬ শতাংশ কমে ৮০.৬৯ ডলারে নেমেছে। তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস ও হিটিং অয়েলের দামেও পতন লক্ষ্য করা গেছে, তবে গ্যাসোলিনের দাম সামান্য (০.২৫ শতাংশ) বেড়েছে।

এর আগে শুক্রবার ভারত মহাসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার পাশাপাশি আত্মরক্ষার্থে ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি ছিল। এই হামলার জবাবে ইরানের মূল ভূখণ্ড ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় নজরদারি রাডার সাইটে মার্কিন বাহিনী আঘাত হানে। 

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা এবং ইরানের তথাকথিত ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ বা গুপ্ত নৌবহরের অংশ ‘এমটি ডভিনা’ নামক একটি সুপারট্যাংকার জব্দ করে। মার্কিন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে, ২০২৪ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকা এই ট্যাংকারটি অবৈধভাবে ইরানি তেল চীনে পাচার করে আসছিল। তবে এই পুরো অভিযানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় তেহরান। জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোতে নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে। বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করায় দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বাজারে চরম অস্থিরতা চলছিল, যা বছরের শুরুতে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনার মাঝে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। তবে শনিবারের এই দরপতন প্রমাণ করে যে শুক্রবারের মার্কিন-ইরান সামরিক সংঘাতটি বড় কোনো যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়নি এবং এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ আপাতত ঝুঁকিতে পড়ছে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সূত্র: গালফ নিউজ।