img

ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ধনকুবের

প্রকাশিত :  ০৫:৪৭, ০৭ জুন ২০২৬

ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ধনকুবের

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় ধনকুবের রবিন খুদার প্রতিষ্ঠিত তথ্যভান্ডার কেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাংক ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেঘভিত্তিক গণনাসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখেই এই বৃহৎ বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর এ পরিকল্পনার কথা জানায় এয়ারট্রাংক। কোম্পানিটি দেশজুড়ে প্রায় ৫ গিগাওয়াট সক্ষমতার ডেটা সেন্টার গড়ে তুলতে চায়।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, এই বিনিয়োগ ভারতের এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে বৈশ্বিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হবে মহারাষ্ট্রে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস জানিয়েছেন, এয়ারট্রাঙ্ক সেখানে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন রুপি বিনিয়োগে ৩ গিগাওয়াট ক্ষমতার একটি ডেটা সেন্টার হাব নির্মাণ করবে। এ জন্য মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে রায়গড়ে জমি কেনার প্রাথমিক চুক্তিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফোর্বস এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রবিন খুদা বলেন, ভারত এমন একটি বাজার, যেখানে ভবিষ্যতের চাহিদার পরিসর আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জনসংখ্যা, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এআই খাতে ভারতের অগ্রযাত্রা একে অনন্য করে তুলেছে।

এয়ারট্রাংক বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, হংকং, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলতি বছরের এপ্রিলে কোম্পানিটি ভারতের মুম্বাইভিত্তিক ডেটা সেন্টার ডেভেলপার লুমিনা ক্লাউডইনফ্রাও অধিগ্রহণ করে।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, রবিন খুদার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। তিনি ২০১৫ সালে এয়ারট্রাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৪ সালে ব্ল্যাকস্টোন ও কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ডের নেতৃত্বাধীন একটি জোট ১৬ বিলিয়ন ডলারে কোম্পানিটি অধিগ্রহণ করলেও রবিন খুদা এখনও এতে মূল্যবান অংশীদারিত্ব ধরে রেখেছেন।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

৭০টির বেশি নতুন সুযোগের মাধ্যমে ভলান্টিয়ার্স উইক উদযাপন

প্রকাশিত :  ১৬:০৬, ০৫ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:০৯, ০৫ জুন ২০২৬

যারা তাদের সময় ও শ্রম দিয়ে স্থানীয় কমিউনিটিকে সহায়তা করছেন, সেসব হাজারো বাসিন্দার অবদানকে সম্মান জানাতে এবং আরও বেশি মানুষকে ভলান্টিয়ার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ১ জুন থেকে ৭ জুন উদযাপিত হচ্ছে টাওয়ার হ্যামলেটস ভলান্টিয়ার্স উইক।

ভলান্টিয়ার সেন্টার টাওয়ার হ্যামলেটস (ভিটিসিএইচ) বর্তমানে ৭০টির বেশি স্বেচ্ছাসেবী সুযোগ প্রচার করছে, যেখানে বিভিন্ন আগ্রহ, বয়স এবং অভিজ্ঞতার মানুষের জন্য ভূমিকা রয়েছে।

অনেক পদে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই এবং এগুলো কাজ, পড়াশোনা বা পরিচর্যার দায়িত্বের সাথে সহজেই মিলিয়ে নেওয়া যায়।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুতফুর রহমান বলেন: “স্বেচ্ছাসেবার প্রতিটি কাজ, যত ছোটই হোক - একটি আরও শক্তিশালী ও মানবিক টাওয়ার হ্যামলেটস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা দেখিয়ে দেন, একসাথে একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলে কী অর্জন সম্ভব। আমি তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”

ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার আইডিয়া স্টোর হোয়াইটচ্যাপেল পরিদর্শন করেন এবং বাসিন্দাদের স্বেচ্ছাসেবায় অংশ নিতে উৎসাহিত করেন।

আইডিয়া স্টোর প্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণদের জন্য (ডিউক অব এডিনবার্গ অ্যাওয়ার্ডসহ) বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সুযোগ প্রদান করে।

এখানে দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক “গেট অনলাইন” ডিজিটাল ড্রপ-ইন সেশন পরিচালনা, শিশুদের কার্যক্রমে সহায়তা, শীতকালীন ওয়ার্ম হাব সমর্থন করা এবং আর্কাইভিং।

আইডিয়া স্টোরে স্বেচ্ছাসেবক হতে হলে আপনাকে টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাস বা কাজ করতে হবে, স্থানীয় কোনো স্কুলে পড়তে হবে অথবা আইডিয়া স্টোর লার্নিংয়ে নিবন্ধিত থাকতে হবে।

বৈষম্য হ্রাস, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলা, গ্রাহক সেবা উন্নয়ন এবং স্বেচ্ছাসেবী খাতের সম্পৃক্ততার দায়িত্বে থাকা কেবিনেট মেম্বার, ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার বলেন, “স্বেচ্ছাসেবা দক্ষতা গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং কমিউনিটির সাথে সংযুক্ত হওয়ার একটি শক্তিশালী উপায়, একই সাথে প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করে। তাদের এই অঙ্গীকার টাওয়ার হ্যামলেটস জুড়ে মানুষের জীবনে বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনে।”

ভলান্টিয়ার সেন্টার টাওয়ার হ্যামলেটস (VCTH) বারার স্বেচ্ছাসেবী ব্যবস্থার কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও সহায়তা প্রদান করে।

স্থানীয় অধিকাংশ স্বেচ্ছাসেবক ভিসিটিএইচ-এর মাধ্যমে নিয়োগ পান, এরপর তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা চাওয়া কমিউনিটি সংস্থাগুলোর সাথে যুক্ত করা হয়।

ভলান্টিয়ার সেন্টার টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রধান নির্বাহী ক্যাথরিন বাভেজ বলেন, “প্রতি বছর হাজারো টাওয়ার হ্যামলেটস বাসিন্দা আমাদের কমিউনিটিতে স্বেচ্ছাসেবা করেন। তারা স্থানীয় চ্যারিটি ও কমিউনিটি গ্রুপগুলোকে সহায়তা করেন, যাতে এখানে বসবাসকারী সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করা যায়।

“ভলান্টিয়ার্স উইক হলো স্বেচ্ছাসেবীদের অসাধারণ অবদানকে ধন্যবাদ ও স্বীকৃতি জানানোর সময়। আপনাদের সময়, দক্ষতা ও সহমর্মিতা ছাড়া অনেক সেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যেত। আপনি একবার স্বেচ্ছাসেবা করুন বা নিয়মিত করুন - আপনাদের সাহায্যের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

আপনি যদি এখনও ভলান্টিয়ারিং কাজে যুক্ত না হয়ে থাকেন, তাহলে এখনই প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার সঠিক সময়।

আগ্রহী বাসিন্দারা বর্তমান সুযোগগুলো দেখতে পারেনঃ

www.vcth.org.uk/volunteering-in-tower-hamlets/

www.ideastore.co.uk/our-services/volunteering


কমিউনিটি এর আরও খবর