জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে এফ-৩৫ হ্যাঙ্গার ধ্বংসের দাবি আইআরজিসির
প্রকাশিত :
০৬:৩৬, ১০ জুন ২০২৬
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তারা জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে দূরপাল্লার কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যরা অবস্থান করছিলেন।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের এয়ারোস্পেস ফোর্স চালানো হামলায় ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যার মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল একটি বৃহত্তর পালটা অভিযানের অংশ, যার মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, তাদের বাহিনী যে কোনো নতুন মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ‘চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী’ প্রতিক্রিয়া দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং পরবর্তী উত্তেজনার পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৩
প্রকাশিত :
০৮:০৫, ১০ জুন ২০২৬
আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের নতুন বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) আফগান সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে চলমান সংঘর্ষে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানান যে পাকিস্তানের এই সাম্প্রতিক বিমান হামলাগুলো মূলত আফগানিস্তানের খোস্ত, কুনার এবং পাক্তিকা প্রদেশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। তবে এই বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা শিকারোক্তি পাওয়া যায়নি।
আফগানিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হাসান খেল এলাকায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে সন্দেহভাজন পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের হামলার ঠিক এক দিন পর এই বিমান হামলা চালানো হলো। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ওই তীব্র বন্দুকযুদ্ধে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির ৬ জন সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে ৮ জন হামলাকারীকে হত্যা করে এবং চেকপোস্ট দখলের চেষ্টা নসাৎ করে দেয়। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহসিন নাকভি পেশোয়ারে নিহতদের জানাজায় অংশ নিয়ে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে আফগানিস্তান কর্তৃক পাকিস্তানের অভ্যন্তরে পাল্টা সীমান্ত হামলার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পাকিস্তানে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয় বলে আফগানিস্তান দাবি করে। তবে পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করে জানায় যে তারা কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নয়, বরং একটি গোলাবারুদের ডিপোতে আঘাত হেনেছিল।
এই নতুন সামরিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে তৈরি হলো যার মাত্র কয়েক মাস আগে চীন উত্তর অঞ্চলের উরুমকিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি বিশেষ শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছিল। ওই বৈঠকের পর বেইজিং জানিয়েছিল যে দুই দেশই সংঘাত আর না বাড়াতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে সম্মত হয়েছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তান তাদের মাটিতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা ‘টিটিপি’র মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে ক্রমাগত আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে। তবে ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকা আফগান তালেবান প্রশাসন ইসলামাবাদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে।