img

গরমে ইস্ট লন্ডন মসজিদের দরজা উন্মুক্ত: বিনামূল্যে পানি ও স্লাশ পানীয় বিতরণ

প্রকাশিত :  ১৫:৪৮, ০৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৫৪, ০৪ জুলাই ২০২৬

গরমে ইস্ট লন্ডন মসজিদের দরজা উন্মুক্ত: বিনামূল্যে পানি ও স্লাশ পানীয় বিতরণ

লন্ডন, ৩ জুলাই ২০২৬।। যুক্তরাজ্যে চলমান তাপপ্রবাহে মুসল্লি, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বস্তি দিতে ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে যে কেউ এখানে এসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বিশ্রাম নিতে, ঠান্ডা পানি পান করতে এবং বিনামূল্যে স্লাশ পানীয় গ্রহণ করতে পারছেন।

জুনের শেষ সপ্তাহে লন্ডনে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ২৫ জুন থেকে এ সেবা চালু করে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, জুমার নামাজ শেষে লন্ডন মুসলিম সেন্টারের মূল প্রবেশ এলাকায় মুসল্লিদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শরবত বিতরণ করা হচ্ছে । টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সাারিসারি পানীয় ও গ্লাস। নামাজ শেষে অনেক মুসল্লি হাতে পানীয় নিয়ে বের হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বসে শরবত পান করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছেন।

এর আগে ২৬ জুন মসজিদ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মারিয়াম সেন্টারের সামনে ফিল্ডগেইট স্ট্রিটে বিশেষ মেশিনে স্লাশ তৈরি করে পথচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া লন্ডন মুসলিম সেন্টারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রিসেপশন এলাকায় বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে । সেখানে স্থাপিত পানির ফিল্টার থেকে অনেকে ঠান্ডা পানি পান করছেন, আবার কেউ গরম থেকে স্বস্তি পেতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছেন।

একজন পথচারী এই প্রতিবেদককে বলেন, “দুপুরে মসজিদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেয়েছিলো। মসজিদের দেয়ালে বিনামূল্যে পানীয় সরবরাহের পোস্টার দেখে ভেতরে ঢুকি। ঠান্ডা পানি পান করার পাশাপাশি কিছুক্ষণ বিশ্রামও নিই। দেখলাম, আমার মতো আরও অনেকেই সেখানে বসে আছেন। বিষয়টি আমার খুবই ভালো লেগেছে। এই মসজিদের সেবা শুধু নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তীব্র গরমে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও অনুকরণীয়।”

ইস্ট লন্ডন মসজিদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জুনায়েদ আহমদ বলেন, “প্রচণ্ড গরমে মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতেই আমরা ঠান্ডা পানীয় সরবরাহের পাশাপাশি বিশ্রামের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থান উন্মুক্ত রেখেছি । এটি শুধু মুসল্লিদের জন্য নয়; মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে পুরো কমিউনিটির জন্যই এই সুবিধা উন্মুক্ত। সবাইকে এ সেবা গ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাই।”

ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিনিয়র ফান্ডরেইজিং ম্যানেজার তজম্মুল আলী বলেন, “প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সেবা গ্রহণ করছেন । ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এখানে এসে ঠান্ডা পরিবেশে বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং পানীয় গ্রহণ করছেন । বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজের দিন মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি থাকে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই সেবা চালু রয়েছে। গ্রীষ্মে যতদিন তাপপ্রবাহ থাকবে, ততদিন এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টার ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ইসলামিক কমপ্লেক্স। এখানে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার নারী-পুরুষ পৃথক ব্যবস্থায় নামাজ আদায় করতে পারেন। সারা বছরে প্রায় ২০ লাখ মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে এই প্রতিষ্ঠান। নামাজের পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক কল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা, যুব উন্নয়নসহ নানা ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে মসজিদটি।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্ট বাতিলকে স্বাগত জানিয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

প্রকাশিত :  ১৩:৫৩, ০৩ জুলাই ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্ট (Vagrancy Act) বাতিল হওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। কাউন্সিল বলেছে, এই সিদ্ধান্ত গৃহহীনতা মোকাবিলায় আরও মানবিক, ন্যায্য এবং কার্যকর পদ্ধতির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্টের আওতায় রাস্তায় বসবাসকারী বা নিরাপদ আশ্রয়বিহীন মানুষদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আইনটি বাতিলের মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নিরাপদে বসবাসের কোনো স্থান না থাকার কারণে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়।

কাউন্সিলের মতে, এই আইন বাতিল হওয়া এমন একটি ব্যবস্থা থেকে সরে আসার প্রতীক, যা রাস্তায় বসবাসের (rough sleeping) মূল কারণগুলো সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গৃহহীনতা প্রতিরোধ, সময়মতো সহায়তা প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করার ওপর।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হাউজিং অ্যান্ড রিজেনারেশন বিভাগের কর্পোরেট ডিরেক্টর ডেভিড জয়েস (David Joyce) বলেন, “গৃহহীনতার ক্ষেত্রে আরও ন্যায্য ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। টাওয়ার হ্যামলেটসে আমাদের ‘হোমলেসনেস অ্যান্ড রাফ স্লিপিং স্ট্র্যাটেজি ২০২৪–২০২৯’-এর মূল লক্ষ্য হলো মানুষের সঙ্গে আগেভাগে কাজ করে গৃহহীনতা প্রতিরোধ করা, উন্নতমানের আবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং যখন প্রয়োজন তখন সঠিক সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা করা।”

তিনি বলেন, “রাস্তায় রাত কাটানোর ঘটনা যেন বিরল হয়, স্বল্পস্থায়ী হয় এবং পুনরায় না ঘটে – সেব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে আমরা প্রত্যেক ব্যক্তিকে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে বিবেচনা করেই সেবা প্রদান করতে চাই। ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্ট বাতিল হওয়া আমাদের সেই দৃষ্টিভঙ্গিকেই আরও শক্তিশালী করেছে, যেখানে প্রতিরোধ ও সহায়তাকে আমাদের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।”

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হোমলেসনেস অ্যান্ড রাফ স্লিপিং স্ট্র্যাটেজি ২০২৪–২০২৯ গৃহহীনতা প্রতিরোধে প্রাথমিক হস্তক্ষেপ, নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সহজলভ্য করার ওপর জোর দেয়। কাউন্সিল বিভিন্ন অংশীদার সংস্থা, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কমিউনিটিগুলির সঙ্গে কাজ করে গৃহহীনতার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ভ্যাগরেন্সি অ্যাক্ট বাতিলের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল বিশ্বাস করে তা গৃহহীন ব্যক্তি ও ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য আরও সহায়ক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

কাউন্সিলের লক্ষ্য হলো এমন একটি কমিউনিটি গড়ে তোলা, যেখানে কেউ গৃহহীনতার কারণে পিছিয়ে পড়বে না এবং প্রত্যেক মানুষ নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।


 

কমিউনিটি এর আরও খবর