img

জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৪:৩৬, ১২ জুলাই ২০২৬

জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা : অর্থমন্ত্রী

রবিবার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। এছাড়া জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধাও গ্রহণ করতে পারবেন।

সদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এদিন বিকেল ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীরবিক্রম) সভাপতিত্বে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তরুণদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে নতুন উদ্যোক্তা পুনরর্থায়ন স্কিমের তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

এ তহবিল হতে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি সহজীকরণের লক্ষ্যে স্টার্টআপ ফান্ড নামে ৫০০ কোটি টাকার একটি পুনরর্থায়ন তহবিল প্রবর্তন করা হয়েছে। এ তহবিল হতে উদ্যোক্তাগণ মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া স্টার্টআপ খাতের অনুকূলে ঋণ সুবিধার পাশাপাশি ইক্যুইটি সহায়তার সুযোগ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকেরর উদ্যোগে ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিতে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কম্পানি, পিএলসি’ নামক ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্ট কম্পানি গঠন করা হয়েছে।

স্টার্টআপ উদ্যোগসমূহ উক্ত কম্পানি হতে ইক্যুইটি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবে।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে ডলারের দাম

প্রকাশিত :  ১৯:৫০, ১২ জুলাই ২০২৬

বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত জোগান থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে ডলারের দাম বাড়ানো এবং টাকার মান সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় রোববার আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের গড় বিনিময় হার ১৩ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তঃব্যাংকে দাম বাড়ার কারণে গ্রাহকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলো এর দাম বাড়িয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা দরে আমদানি খাতে ডলার বিক্রি হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা। 

কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আন্তঃব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। 

রোববার সর্বোচ্চ দাম ১৫ পয়সা বেড়ে ১২৩ টাকায় উঠেছে। তবে সর্বনিম্ন দাম ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সায় অপরিবর্তিত রয়েছে। সর্বোচ্চ দামে বেশির ভাগ ডলার লেনদেন হওয়ায় গড় দামও বেড়ে ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সায় উঠেছে। আগে গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সা। ফলে গড় হিসাবে দাম বেড়েছে ১৩ পয়সা। 

আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম বাড়ার কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও এর দাম কিছুটা বাড়িয়েছে। আগে বেশির ভাগ ব্যাংক ১২৩ টাকা ৬০ থেকে ৬৫ পয়সা দরে আমদানি খাতে ডলার বিক্রি করত। এখন তা বেড়ে ১২৩ টাকা ৭৫ থেকে ৮০ পয়সায় উঠেছে। কয়েকটি ব্যাংক সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা দরেও আমদানি খাতে ডলার বিক্রি করেছে। 

এর আগে গত মাসের শেষদিকে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সায় উঠেছিল। 

এদিকে ডলারের দাম বাড়ার কারণে দেশের আমদানি ব্যয়, আমদানি পণ্যের দাম ও বৈদেশিক দায়-দেনার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে এসব খাতে আরও বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। 

ডলারের দাম এমন সময় বাড়ানো হচ্ছে যখন নতুন ঋণ চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশে সফল করছে আইএমএফ মিশন। তারা বরাবরই বলে আসছে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা অনুযায়ী ডলারের দাম কম। এটি আরও বাড়ানো উচিত। এজন্য তারা ডলারের দাম পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাদের মৌলিক শর্তগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। 

এদিকে ঢাকা সফররত আইএমএফ মিশন রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে কয়েকদফা বৈঠক করেছে। এসব বৈঠক পরিচিতিমূলক ছিল বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। 

তবে বৈঠকে সংস্থাটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বেশকিছু তথ্য চেয়েছে। এসব তথ্য নিয়ে পরবর্তীতে আরও বৈঠক করবে।

অর্থনীতি এর আরও খবর