img

শাবিপ্রবিতে ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে অভিযোগ করায় শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতাদের ‘মারধর’

প্রকাশিত :  ০৮:৩৫, ১৯ জুলাই ২০২৬

 শাবিপ্রবিতে ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে অভিযোগ করায় শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতাদের ‘মারধর’
অভিযুক্ত দুই ছাত্রদল নেতা
অভিযুক্ত দুই ছাত্রদল নেতা

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরান আবাসিক হলের ক্যান্টিনের নিম্নমানের খাবার নিয়ে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে।

গতকাল শনিবার (১৯ জুলাই) রাত প্রায় পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তিনি সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।

অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তারেক রহমান।

ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকারের অভিযোগ, শুক্রবার হলের ক্যান্টিনে পচা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে তিনি হল প্রভোস্টকে মেনশন করে হলের ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট দেন। পরে ছাত্রদল নেতা তারেক রহমান তাকে ডেকে জানান, ওই পোস্টে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং প্রভোস্টের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন।

খাইরুল আরও জানান, ওই দিন রাতেই আবারও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হলে তিনি নতুন করে অভিযোগ করেন। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গেলে হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমান এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে কিছু বলার থাকলে হল প্রভোস্টই বলবেন। এর পরপরই হাসিবুর রহমান তার বুকে লাথি মারেন এবং তারেক রহমান মাথার পেছন ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। পরে আশপাশের শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তারেক রহমান। তার দাবি, হলের খাবার নিয়ে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় প্রভোস্ট কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে গেলে খাইরুল তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে হাসিবুর রহমানের চশমা ভেঙে যায়, হাতে আঘাত লাগে এবং তার মোবাইল ফোনও নষ্ট হয়।

এ বিষয়ে শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কাউকে মারধরের নির্দেশ বা এ ধরনের ঘটনায় কোনো ধরনের মদদ তিনি দেননি। হলের যেকোনো সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করলে তিনি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করেন এবং তার কাছে সব শিক্ষার্থী সমান।

এদিকে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে শনিবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

ভারী বৃষ্টিতে সিলেট-নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

প্রকাশিত :  ১১:১৪, ২০ জুলাই ২০২৬

অভিযুক্ত দুই ছাত্রদল নেতা

দেশের তিনটি নদীর চারটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

আজ সোমবার (২০ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ), সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী দুই দিন আরও বাড়তে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে, যদিও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিন উভয় নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যদিও পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই ও ঘাঘট নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু এলাকায় আত্রাই ও ছোট যমুনা নদী সতর্কসীমায় পৌঁছে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সিলেটের খবর এর আরও খবর